1. akhi@janatarjagoron.com : আখি আক্তার : আখি আক্তার
  2. foreign@janatarjagoron.com : আন্তর্জাতিক ডেস্ক : আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  3. atau@janatarjagoron.com : Mohammed Ataullah : Mohammed Ataullah
  4. mosharaf.bbadcc@gmail.com : বিনোদন ডেস্ক : বিনোদন ডেস্ক
  5. jonotarjagoron@gmail.com : Editor :
  6. labony@janatarjagoron.com : ক্যাম্পাস প্রতিনিধি : ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
  7. life@janatarjagorn.com : লাইফস্টাইল ডেস্ক : লাইফস্টাইল ডেস্ক
  8. onlinedesk2@janatarjagoron.com : অনলাইন ডেস্ক : অনলাইন ডেস্ক
  9. sohag@janatarjagoron.com : Khan Saiful Sohag : Khan Saiful Sohag
  10. info2@janatarjagoron.com : উপজেলা প্রতিনিধি : উপজেলা প্রতিনিধি
  11. mosharafrobindev@gmail.com : জেলা প্রতিনিধি : জেলা প্রতিনিধি
মা-বাবার বিষণ্নতা: সন্তানের জীবনে নীরব ঝড়ের পূর্বাভাস - Janatar Jagoron
  • E-paper
  • English Version
  • শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬, ১০:৫১ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম
আপিল শুনানির প্রথম ঘণ্টায় পাঁচ প্রার্থীর মনোনয়ন চূড়ান্তভাবে বাতিল স্কাইডাইভিংয়ে একসঙ্গে ৫৪ পতাকা উড়িয়ে গিনেস রেকর্ড গড়ল বাংলাদেশ তেজতুরী বাজারে মোসাব্বির হত্যা: রহস্য উদঘাটন, চারজন গ্রেপ্তার নির্বাচনে কোনো দলের জন্য বাড়তি সুযোগ নেই: প্রেস সচিব ইসিতে আপিল শুনানির প্রথম দিনে ১৬ প্রার্থিতা বাতিল ব্যালট পেপারের নিরাপত্তা ও গোপনীয়তায় ইসির নতুন পরিপত্র জারি আগামী বাজেট থেকেই অনলাইনে ভ্যাট রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা বন্ড তালিকায় যুক্ত বাংলাদেশ, বাড়ল ভ্রমণ জটিলতা সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে সারজিসের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে দুদক রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় শরিফ হাদি হত্যা, চার্জশিট দিল ডিবি

মা-বাবার বিষণ্নতা: সন্তানের জীবনে নীরব ঝড়ের পূর্বাভাস

  • সর্বশেষ আপডেট: বুধবার, ২৭ নভেম্বর, ২০২৪
  • ১৬২ বার পঠিত
মা-বাবার বিষণ্নতা
this is a collected or created picture for Janatar Jagoron news.

সন্তানকে নিয়ে মায়ের আত্মহত্যা কিংবা সন্তানকে হত্যা করে বাবার আত্মহত্যার ঘটনা এখন বাংলাদেশেও বিরল নয়। এ ধরনের সংবাদ আমাদের মর্মাহত করে এবং গভীর দুশ্চিন্তায় ফেলে দেয়। সাধারণ বোধবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষের কাছে এই ধরনের কাজ অযৌক্তিক, হৃদয়বিদারক এবং নিষ্ঠুর মনে হয়। তা সত্ত্বেও, এই ঘটনা ঘটেই চলেছে। এমন পরিস্থিতি অনাকাঙ্ক্ষিত এবং কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। কেন এ রকম হচ্ছে? বিষয়টি নিয়ে ভাবতে গেলে আর্থসামাজিক এবং মানসিক স্বাস্থ্যসংক্রান্ত বিভিন্ন কারণ সামনে আসে। এসব কারণ সঠিকভাবে বিশ্লেষণ করলে এমন ঘটনার প্রতিরোধ কিছুটা হলেও সম্ভব।

সম্ভাব্য কারণসমূহ

১. মানসিক অসুস্থতা: কিছু ব্যক্তির মানসিক রোগ এমন পর্যায়ে চলে যায় যে তারা স্বাভাবিকভাবে চিন্তা করার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। তারা বাস্তবতাকে ভুল এবং নেতিবাচক দৃষ্টিতে দেখে। বিষণ্নতা, বাইপোলার ডিজঅর্ডার, সাইকোসিস, প্রসব-পরবর্তী বিষণ্নতা বা মাদকাসক্তি এ ধরনের মানসিক অসুস্থতার অন্যতম কারণ। এসব অবস্থায় অনেকের মধ্যে আত্মহত্যা বা সন্তানসহ আত্মহত্যার প্রবণতা দেখা দেয়।

২. কষ্ট থেকে মুক্তি খোঁজা: কিছু ব্যক্তি তাদের দুর্দশা থেকে মুক্তির একমাত্র উপায় হিসেবে মৃত্যু বেছে নেয়। উচ্চমাত্রার বিষণ্নতায় ভোগা ব্যক্তি কখনো নিজের সন্তানকেও এমন সিদ্ধান্তে অন্তর্ভুক্ত করতে পারে। শারীরিক ও মানসিক শক্তির অভাব এবং মস্তিষ্কের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ার অসামঞ্জস্য তাদের এই চরম পদক্ষেপের দিকে ঠেলে দেয়।

৩. সামাজিক প্রতিকূলতা: দারিদ্র্য, বেকারত্ব, দাম্পত্য কলহ, বৈষম্য, নির্যাতন বা দুর্ঘটনার মতো বিষয়গুলো মানসিক চাপ বাড়িয়ে তোলে। এসব প্রতিকূলতা বিষণ্নতায় আক্রান্ত ব্যক্তির মনোভাবকে আরও নেতিবাচক করে তোলে, যা তাকে ধ্বংসাত্মক সিদ্ধান্ত নেওয়ার দিকে পরিচালিত করে।

৪. সামাজিক বিচ্ছিন্নতা: সামাজিক সহযোগিতার অভাবে অনেকেই একাকীত্ব ও হতাশায় ডুবে যান। বন্ধু, পরিবার বা পরিচিতজনদের কাছ থেকে মানসিক, আর্থিক, বা ব্যবহারিক সহায়তার অভাব এ ধরনের সংকটকে ত্বরান্বিত করে। সহায়তা বঞ্চিত ব্যক্তি সন্তানসহ আত্মঘাতী হয়ে উঠতে পারে।

৫. মানসিক স্বাস্থ্যসেবা বিষয়ে অজ্ঞতা: মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতনতার অভাবে অনেকে পেশাদার সেবা নিতে ভয় পান। মানসিক রোগের জন্য চিকিৎসা নিতে গেলে ‘পাগল’ বলে আখ্যা পাওয়ার ভয় তাদের সেবা গ্রহণ থেকে বিরত রাখে। ফলে সমস্যা গুরুতর হয়ে ওঠে এবং অনেক ক্ষেত্রে জীবনবিধ্বংসী পরিস্থিতির সৃষ্টি করে।

লক্ষণ ও সতর্ক সংকেত

আত্মহত্যা বা সন্তানের ওপর সহিংসতা করতে পারে এমন ব্যক্তির আচরণ থেকে কিছু বিশেষ লক্ষণ বা সংকেত বোঝা যায়। এসব সংকেত শনাক্ত করে সময়মতো ব্যবস্থা নিলে ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিকে সহযোগিতা করা সম্ভব।

১. নিজেকে বোঝা মনে করা: নিজের বা সন্তানের জীবনের কোনো মূল্য নেই বলে ভাবা এবং নিজেকে অপ্রয়োজনীয় মনে করা।

২. সম্পর্ক ছিন্ন করা: বন্ধু ও পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেওয়া এবং একাকীত্ব বেছে নেওয়া।

৩. নিজের সম্পদ বিলিয়ে দেওয়া: আর্থিক ও ব্যক্তিগত বিষয়গুলো গুছিয়ে ফেলা এবং জিনিসপত্র অন্যদের দিয়ে দেওয়া।

৪. মৃত্যু নিয়ে কথা বলা: মৃত্যুকে একমাত্র সমাধান বা মুক্তি মনে করা এবং এমন ভাব প্রকাশ করা।

৫. আচরণগত পরিবর্তন: আচরণে অস্বাভাবিক শান্তভাব বা বিপরীতমুখী কর্মকাণ্ড দেখা দেওয়া।

প্রতিরোধের উপায়

এ ধরনের ঘটনার প্রতিরোধে প্রয়োজন ব্যাপক সচেতনতা, সময়মতো উদ্যোগ এবং সামাজিক সহযোগিতা। নিচে কিছু পদক্ষেপ উল্লেখ করা হলো:

১. মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি: শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কর্মক্ষেত্র এবং সমাজের প্রতিটি স্তরে মানসিক স্বাস্থ্যকে গুরুত্ব দেওয়া দরকার। গণমাধ্যমের মাধ্যমে মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানো খুবই জরুরি।

২. অভিভাবকদের জন্য সহযোগিতা: সন্তান লালন-পালন করতে গিয়ে অনেকেই আর্থিক ও মানসিক চাপের মুখে পড়েন। নিরাপদ কর্মপরিবেশ ও সামাজিক সহযোগিতা তাদের মানসিক চাপ কমাতে সহায়তা করে।

৩. মানসিক স্বাস্থ্যসেবার সহজলভ্যতা: মানসিক স্বাস্থ্যসেবা সহজলভ্য এবং সাশ্রয়ী করতে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগ প্রয়োজন।

৪. জরুরি মানসিক স্বাস্থ্যসেবা চালু করা: চিকিৎসার মতো মানসিক সমস্যার ক্ষেত্রেও জরুরি সেবা থাকা জরুরি, যেখানে দ্রুত ও প্রয়োজনীয় সেবা পাওয়া যাবে।

সন্তানসহ আত্মহত্যার ঘটনা মানসিক অসুস্থতার চরম পরিণতি। এসব প্রতিরোধে আর্থসামাজিক উন্নয়ন এবং মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতি যত্নশীল হওয়ার পাশাপাশি পারস্পরিক সহমর্মিতা ও সহযোগিতার কোনো বিকল্প নেই।

পোস্টটি শেয়ার করুন

এই বিভাগে আরও খবর..