শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬, ১০:১৩ পূর্বাহ্ন
সারা দিনের ব্যস্ততার শেষে ক্লান্তি নিয়ে আমরা বিছানায় শরীর এলিয়ে দিই। গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতি রাতে সাত থেকে নয় ঘণ্টা ঘুম আপনার শরীরের জন্য ইতিবাচক। ঘুমানোর সময় এবং ঘুম থেকে ওঠার সময়ের রুটিন আপনার স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। ঘুমের গুণমান আপনার ওজনের ওপরও প্রভাব ফেলে।
জার্নাল অব অ্যাকটিভিটি, সেডেন্টারি অ্যান্ড স্লিপ বিহেভিয়ারস-এ প্রকাশিত একটি সমীক্ষা থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানা গেছে। ঘুমানোর সময় ও উঠার রুটিন, মোট ঘুমানোর সময় একজনের স্বাস্থ্য ও শারীরিক ওজনের ওপর প্রভাব ফেলে। যারা নিয়মিত ব্যায়াম করেন এবং ইতিবাচক জীবনযাপন করেন, তাদের ঘুম সাধারণত ভালো হয়, ফলে স্বাস্থ্যগত সমস্যা কম হয় এবং ওজন কমাতে সুবিধা হয়।
৪৬ বছর বা তার বেশি বয়সী প্রায় ৪ হাজার ব্যক্তির ওপর এই গবেষণাটি পরিচালিত হয়। দুই সপ্তাহ ধরে তাদের ঘুমের অভ্যাস পর্যবেক্ষণ করা হয় বিশেষ ধরনের মনিটরের মাধ্যমে। সেখানে নানা ধরনের তথ্য সংগ্রহ করা হয়, যেমন গড় রক্তচাপ, বডি মাস ইনডেক্স (বিএমআই), পেটে চর্বির স্তর, গ্লুকোজ, ইনসুলিনের মাত্রা এবং কোলেস্টেরলের সম্পর্কিত বিভিন্ন তথ্য।
গবেষকেরা দেখতে পেয়েছেন, অনিয়মিত ঘুমের অভ্যাসের কারণে স্বাস্থ্যজনিত বিভিন্ন সমস্যা তৈরি হয়। বিশেষ করে যারা দিনের বেলায় খুব বেশি চলাফেরা বা ব্যায়াম করেন না, তাদের অবস্থার অবনতি ঘটে।
যাদের ঘুমের সমস্যা রয়েছে, তাদের জন্য গবেষকেরা একটি ভালো সংবাদ দিয়েছেন। নিয়মিত ঘুম না হলে, যদি কিছুটা সময় ব্যায়ামের জন্য বের করা যায়, তবে তা উপকারে আসতে পারে। নিয়মিত ব্যায়ামের মাধ্যমে শরীরের মেটাবলিজম বৃদ্ধি পায়, যা ঘুমের গুণমান উন্নত করে।
তাহলে যদি আপনার লক্ষ্য ওজন কমানো হয়, তবে খারাপ ঘুমের অভ্যাস পরিবর্তন করা প্রয়োজন। যারা ঘুমের রুটিনে অনিয়ম করেন, তাদের কোমরের পরিধি বৃদ্ধি পায় এবং বিএমআই বেশি থাকে। আপনার বয়স অনুযায়ী স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখতে হলে ঘুমকে অগ্রাধিকার দিতে ভুলবেন না।
সূত্র: রিডার্স ডাইজেস্ট (এশিয়া প্যাসিফিক)