শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:৩৭ অপরাহ্ন
সাদিকা জাহান
একটি সাম্প্রতিক গবেষণায় জানা গেছে, মাইগ্রেনের সমস্যায় নারীরা তুলনামূলকভাবে বেশি ভোগেন, যা পুরুষদের মধ্যে কম দেখা যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এর প্রধান কারণ স্ত্রী-হরমোন প্রোজেস্টেরন।
যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ভার্জিনিয়ার স্কুল অব মেডিসিন পরিচালিত গবেষণায় উঠে এসেছে, শরীরের প্রোজেস্টেরন রিসেপ্টরকে ব্লক করলে মাইগ্রেন অ্যাটাক প্রায় সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব। ইঁদুরের ওপর চালানো পরীক্ষায় দেখা গেছে, প্রোজেস্টেরন রিসেপ্টর বন্ধ করলে মাইগ্রেনের মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পায়।
গবেষণা বলছে, প্রতি পাঁচজন নারীর মধ্যে একজন মাইগ্রেন ক্লাস্টার হেডেকের সমস্যায় ভোগেন, যেখানে প্রতি ২০ জন পুরুষের মধ্যে এক বা দুইজন এ সমস্যার শিকার হন। চারজন মাইগ্রেন রোগীর মধ্যে প্রায় তিনজনই নারী, যা এই গবেষণার মাধ্যমে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
ইউভিএ ব্রেন ইনস্টিটিউটের স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞ ও গবেষণার প্রধান, জয়দীপ কাপুর জানিয়েছেন, নারীদের মধ্যে মাইগ্রেনের আধিক্যের পেছনে প্রোজেস্টেরনের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। পরীক্ষার অংশ হিসেবে ইঁদুরের শরীরে এই হরমোনের রিসেপ্টর ব্লক করা হলে মাইগ্রেনের প্রবণতা কমতে দেখা যায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই গবেষণা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি শুধু সমস্যার কারণই চিহ্নিত করেনি, বরং সম্ভাব্য সমাধানের পথও দেখিয়েছে। তবে, আরও গভীর গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে, বিশেষত প্রোজেস্টেরন রিসেপ্টর ব্লকিং থেরাপির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া এবং এর ফলে স্ত্রীরোগ বা ক্যান্সারের ঝুঁকি বৃদ্ধি পেতে পারে কি না, তা খতিয়ে দেখা দরকার।
আরেক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের মতে, গবেষণাটি মূলত রজঃস্বলা নারীদের ওপর ভিত্তি করে করা হয়েছে, যেখানে প্রোজেস্টেরনের প্রভাব লক্ষ করা গেছে। তবে, ইস্ট্রোজেনের ভূমিকা নিয়েও গবেষণা হওয়া জরুরি। বিশেষ করে মেনোপজ-পরবর্তী হরমোন রিপ্লেসমেন্ট থেরাপির কারণে মাইগ্রেন বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট বোঝার জন্য এ নিয়ে আরও গবেষণা দরকার।
চিকিৎসকরা আরও বলছেন, নারীদের মধ্যে মাইগ্রেন শুধু শারীরবৃত্তীয় কারণেই বেশি হয় না, বরং কিছু জীবনধারা ও অভ্যাসের সঙ্গেও এটি যুক্ত। দীর্ঘক্ষণ না খেয়ে থাকা এবং খিদে চেপে রাখার প্রবণতা নারীদের মধ্যে বেশি দেখা যায়, যা রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা কমিয়ে মাইগ্রেনের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।
আরেক বিশেষজ্ঞের মতে, বাসি খাবার খাওয়ার প্রবণতাও নারীদের মধ্যে বেশি। বাসি খাবারে থাকা টাইরামিন নামের অ্যামাইনো এসিড এবং ছানা বা পনিরজাতীয় খাবারের অতিরিক্ত স্টাইরিন উপাদান রক্তবাহিকার ওপর প্রভাব ফেলে, যা মাইগ্রেনকে বাড়িয়ে তোলে।
গবেষণা থেকে স্পষ্ট, নারীদের মাইগ্রেন প্রবণতার পেছনে শুধু হরমোন নয়, বরং খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাত্রাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।