সোমবার, ০৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৯:১৯ অপরাহ্ন
সব ঋতুতেই হলুদ দুধ শরীরের জন্য উপকারী হলেও শীতকালে এর গুরুত্ব আরও বেশি। ঋতু পরিবর্তনের ঠান্ডা আবহাওয়ায় সর্দি-কাশি থেকে শুরু করে নানা শারীরিক সমস্যার ঝুঁকি বাড়ে। এ সময় নিয়মিত হলুদ দুধ পান করলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে বলে মনে করছেন পুষ্টিবিদ ও বিশেষজ্ঞরা।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আজ তাক বাংলার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শীতের জন্য অন্যতম সেরা পানীয় হিসেবে হলুদ দুধের পরিচিতি রয়েছে। আয়ুর্বেদ শাস্ত্রেও হলুদ দুধের বহু গুণের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। চলুন জেনে নেওয়া যাক হলুদ দুধের ১৪টি গুরুত্বপূর্ণ উপকারিতা—
১। প্রদাহ কমাতে চিকিৎসকেরা কাঁচা হলুদ ব্যবহারের পরামর্শ দিয়ে থাকেন।
২। দুধের সঙ্গে কাঁচা হলুদ হৃদ্যন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সহায়ক।
৩। কাঁচা হলুদে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরে ক্যানসার কোষের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে।
৪। স্মৃতিশক্তি দুর্বল বা ভুলে যাওয়ার প্রবণতা থাকলে নিয়মিত হলুদ দুধ উপকারে আসতে পারে।
৫। হলুদ দুধ মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা ও মানসিক স্বাস্থ্য উন্নত করতে সাহায্য করে।
৬। মেটাবলিজম বাড়িয়ে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করে এই পানীয়।
৭। ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ায় এবং বয়সের ছাপ ও বলিরেখা কমাতে সাহায্য করে।
৮। লিভারের সুস্থতা বজায় রাখে, আলসার ও ঘা প্রতিরোধে কাজ করে এবং অ্যাসিডিটির সমস্যা কমায়।
৯। সর্দি-কাশি উপশমে হলুদ দুধ কার্যকর; এতে থাকা ভিটামিন সি রোগ প্রতিরোধে ভূমিকা রাখে।
১০। হলুদ দুধে দুটি কালো গোলমরিচ দিলে গলা ব্যথা ও সংক্রমণ কমাতে সহায়তা করে।
১১। থাইরয়েডের সমস্যা কমাতে হলুদ দুধে দুটি কাজু বাদাম যোগ করা যেতে পারে।
১২। হলুদের কারকিউমিন উপাদান শরীরের ফোলাভাব, ব্যথা ও প্রদাহ কমিয়ে হাড় মজবুত করে।
১৩। হলুদ দুধে মধু মেশালে এর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট কোষের ক্ষয় রোধ করে পুনরুজ্জীবিত করে।
১৪। রক্ত সঞ্চালন বাড়াতে হলুদ দুধ অত্যন্ত কার্যকর; এটি লিম্ফ্যাটিক সিস্টেম ও রক্তনালী পরিষ্কার রাখে।
যেভাবে তৈরি করবেন:
একটি সসপ্যানে দুটি ছোট এলাচ, সামান্য দারুচিনি ও একটি তেজপাতা ছিঁড়ে দিন। এতে দুধ ঢেলে মাঝারি আঁচে গরম করুন। দুইবার ফুটে উঠলে চুলা থেকে নামান।
এক গ্লাস গরম দুধে মিশিয়ে নিন ½ চামচ কাঁচা হলুদ পেস্ট, ১ চামচ মধু, ২টি কাজু বাদামের পেস্ট ও স্বাদমতো লবণ।
সকালের নাশতা কিংবা বিকেলের হালকা খাবারের সঙ্গে হলুদ দুধ পান করতে পারেন। শীতকালই এর জন্য সবচেয়ে উপযোগী সময়। টানা চার সপ্তাহ খেলে উপকার স্পষ্টভাবে বোঝা যাবে। তবে কোনো শারীরিক জটিলতা দেখা দিলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।