শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ০৩:১৩ অপরাহ্ন
ডেঙ্গু জ্বরের প্রকোপ কমছে না। সচেতন থাকা ছাড়া ভালো কোনো বিকল্প নেই। আবার সময়টা ঘোরাঘুরির জন্যও দারুণ। পার্বত্য অঞ্চলের মশার কামড়ে রয়েছে ম্যালেরিয়ার ঝুঁকি। শহর, গ্রাম, পাহাড়, সমুদ্র—যেখানে থাকুন না কেন, সুস্থ থাকার জন্য আপনাকে সচেতন থাকতে হবে। তবে মশা কাদের বেশি কামড়ায়, মানবদেহের কোন অংশে কামড়াতে বেশি ‘পছন্দ’ করে, এসব নিয়ে কিছু গবেষণা হয়েছে। বৈজ্ঞানিক এসব গবেষণার বিষয়গুলো সহজভাবে ব্যাখ্যা করেছেন স্কয়ার হাসপাতাল লিমিটেডের মেডিসিন বিভাগের কনসালট্যান্ট ডা. তাসনোভা মাহিন।
মশা কাদের বেশি কামড়ায়? কিছু গবেষণায় বলা হয়েছে, রক্তের গ্রুপ ‘ও’ হলে মশার কামড় খাওয়ার ঝুঁকি বেশি। তা সেটা ‘ও পজিটিভ’ অথবা ‘ও নেগেটিভ’ যেটি হোক। অন্য গবেষণাগুলোর ফলাফল কিন্তু আবার আলাদা। তাহলে প্রশ্ন হলো, বিষয়টা কী? সীমিত পরিসরে হওয়া এসব গবেষণার ফলাফলকে ধ্রুব সত্য হিসেবে গ্রহণ করা উচিত নয়। কারণ, সুযোগ পেলে মশা যে কাউকেই কামড়ে দেবে।
কিছু গবেষণায় এমনও দেখা গেছে, যাঁরা নিয়মিত মোজা পরিবর্তন করেন না, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে সচেতন থাকেন না, মশা তাঁদের বেশি কামড়ায়। আবার যাঁরা নিয়মিত সাবান, ময়েশ্চারাইজার, ডিওডরেন্ট বা অন্য কোনো প্রসাধনী ব্যবহার করেন, তাঁদের ত্বকের কোনো অংশে মশা কম কামড়ায়। তবে এমন বহু উদাহরণ রয়েছে, যেখানে একেবারে পরিষ্কার একটি ঘরেও মশা কামড়েছে ছোট্ট কোনো শিশুকে; যে শিশুকে তার মা নিয়মিত সাবান দিয়ে গোসল করিয়ে ময়েশ্চারাইজার মাখিয়ে রাখেন। কাজেই এসব গবেষণাও প্রমাণ করতে পারে না যে এ ধরনের কিছু আপনাকে মশার কামড় থেকে সুরক্ষিত রাখবে।
শরীরের কোন অংশে মশা বেশি কামড়ায়? গবেষণায় দেখা গেছে, দাঁড়ানো বা বসা অবস্থায় থাকলে ডেঙ্গু জ্বরের বাহক এডিস মশা মাথা ও ঘাড়ের কাছাকাছি অংশে কামড়ানোর চেষ্টা বেশি করে; আর ম্যালেরিয়ার বাহক অ্যানোফিলিস মশা বেশি কামড়ায় পায়ের অংশে। তবে যখন কেউ শুয়ে থাকবেন, তখন যেকোনো মশা তাঁর শরীরের যেকোনো অংশে কামড়ানোর চেষ্টা করতে পারে। আবার এমনও দেখা যায়, বগলের চেয়ে হাত বা পায়ে বেশি কামড়ায় মশা। এসব গবেষণা আবার কিছুসংখ্যক মানুষের ওপর করা হয়েছে। তাই এগুলো এমন কোনো ব্যাপার নয়, যা মশার আচরণগত বৈশিষ্ট্য হিসেবে ধরে নেওয়া যায়।
তাহলে সচেতনতা প্রয়োজন মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে সচেতন থাকা অত্যন্ত জরুরি। দিনে ও রাতে মশারি ব্যবহার করা অবশ্যই জরুরি। পড়াশোনা, কাজ বা অবসর সময়ের জন্য ফুলহাতা জামা ও ফুলপ্যান্ট বা পায়জামা পরুন। পোশাকে মসকিউটো রিপেল্যান্ট ব্যবহার করুন নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে, সতর্কতার সঙ্গে। পরিবেশের পরিচ্ছন্নতাও বজায় রাখুন।