শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ০১:২১ পূর্বাহ্ন
ভাত না বুঝে খেলেই বিপদ, জানুন কখন খাবেন!
অনলাইন ডেস্ক
বাঙালির খাদ্যাভ্যাস মানেই যেন ভাত, আর তাই তো ‘মাছে-ভাতে বাঙালি’ বলাটাও একেবারে যথার্থ। দিনে যত ধরনের খাবারই মুখে উঠুক না কেন, দিনের শেষে বেশিরভাগ বাঙালিই ভাত না খেলে যেন পরিপূর্ণতা পান না। তবে, স্রেফ ভাত থাকলেই হবে না—সঙ্গে চাই নানান মসলাদার, মুখরোচক তরকারি।
কিন্তু সময়ের সঙ্গে বদলেছে বাঙালির পছন্দ আর চাহিদা। এখন অনেকেই স্বাস্থ্য সচেতন। ফিটনেস ধরে রাখতে অনেকেই ভাত বাদ দিচ্ছেন। কেউ কেউ দুপুরে ভাত খেলেও রাতে আর ছুঁচ্ছেন না। এখানেই আসে বড় প্রশ্ন—ভাত খাওয়ার সবচেয়ে ভালো সময় কখন? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজে সম্প্রতি এক বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম গণমাধ্যম।
সেখানে ডায়েটিশিয়ান দেবজানি ব্যানার্জি জানান, নানা গবেষণায় প্রমাণ মিলেছে—ভাত খাওয়ার সবচেয়ে উপযোগী সময় দুপুর। কারণ, ধূসর চালের ভাতে থাকা ভিটামিন বি স্মৃতিশক্তি ও মনোযোগ বাড়াতে সাহায্য করে। পাশাপাশি এতে ক্যালোরি তুলনামূলক কম, ফলে এটি ওজন নিয়ন্ত্রণেও সহায়ক। এমনকি অন্যান্য ভারী খাবারের বিকল্প হিসেবেও এটি বেশ কার্যকর। দুপুরে ভাত খেলে দীর্ঘ সময় পেট ভর্তি লাগে এবং ক্ষুধা কমে যায়।
তবে প্রশ্ন থেকেই যায়—সাদা চাল কি আদৌ স্বাস্থ্যকর? গবেষণা বলছে, সাদা চাল যতটা খাওয়া হয়, তার তুলনায় পুষ্টি অনেক কম। এতে ফাইবার ও খনিজ উপাদান কম থাকায় রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বাড়িয়ে দিতে পারে। ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য এটি বিশেষ ঝুঁকির কারণ। বিপরীতে, বাদামি ও লাল চালে রয়েছে পর্যাপ্ত ফাইবার, ভিটামিন ও মিনারেল, যা শরীরের জন্য অনেক উপকারী। তাই নিয়মিত ভাত খেতে হলে পুষ্টিকর বিকল্প হিসেবে বাদামি বা লাল চাল বেছে নেওয়াই ভালো।
ভাতে থাকা ক্যালোরি কতটা?
চালের প্রকার ও রান্নার পদ্ধতির ওপর নির্ভর করে ক্যালোরি কম-বেশি হয়। সাধারণত সাদা চালের প্রতি ১০০ গ্রাম রান্না করা ভাতে থাকে প্রায় ১৩০ ক্যালোরি। ফলে ২০০ গ্রাম ভাত মানেই প্রায় ২৬০ ক্যালোরি। তুলনায় বাদামি চালে প্রতি ১০০ গ্রামে থাকে প্রায় ১১০ ক্যালোরি, তবে এতে রয়েছে দীর্ঘস্থায়ী শক্তির জোগানদাতা ফাইবার ও মিনারেল।
ভাত খাওয়ার কিছু নিয়ম ও সতর্কতা
যদিও ভাত সহজপাচ্য, কিন্তু বিশেষ করে রাতে ভাত খাওয়া শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। কারণ, এতে থাকা স্টার্চ ও কার্বোহাইড্রেট খুব দ্রুত ভেঙে গিয়ে রক্তে গ্লুকোজ বাড়িয়ে দেয়। দিনের অন্য সময় এগুলো শক্তি হিসেবে কাজে লাগলেও, রাতে কম শরীরচর্চার কারণে তা জমে গিয়ে চর্বিতে পরিণত হতে পারে।
অতিরিক্ত ভাত খাওয়ার ফলে কার্বোহাইড্রেটের মাধ্যমে শরীরে বেশি ক্যালোরি প্রবেশ করে, যা পরবর্তীতে ফ্যাটে পরিণত হয়। ফলে ওজন বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। তবে যদি ভাত খাওয়ার পর শরীরে অস্বস্তি দেখা দেয়, তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি বলে মনে করে গণমাধ্যম।