সোমবার, ০৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৮:৫২ অপরাহ্ন
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের সময়সীমা পেরোনোর পর গতকাল বুধবার চূড়ান্ত প্রার্থীদের হাতে প্রতীক তুলে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এর মধ্য দিয়েই আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে নির্বাচনের শেষ ধাপের উত্তাপ।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) থেকে প্রার্থীরা মাঠে নেমে সরাসরি ভোটারদের কাছে প্রচারে অংশ নিচ্ছেন। জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটের রাজনৈতিক বল এখন আনুষ্ঠানিকভাবে মাঠে গড়াতে শুরু করেছে, যা ভোটের ৪৮ ঘণ্টা আগে পর্যন্ত চলমান থাকবে।
নির্বাচনী আইন অনুযায়ী, আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে সাতটা পর্যন্ত প্রচার চালানো যাবে। ১২ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে সাতটা থেকে বিকেল সাড়ে চারটা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
আজ থেকেই রাজনৈতিক দলগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে সংসদ নির্বাচনের প্রচারণা শুরু করছে। দিনের শুরুতে সিলেট আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে সমাবেশ আয়োজনের মাধ্যমে বিএনপি তাদের প্রচার কার্যক্রমের সূচনা করবে। প্রথম দিনের কর্মসূচিতে দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান সিলেটসহ মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কিশোরগঞ্জ, নরসিংদী ও নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার—এই সাত জেলার সমাবেশে যুক্ত থাকবেন।
অন্যদিকে দুপুরে রাজধানীর মিরপুরের আদর্শ স্কুল মাঠে নির্বাচনী জনসভা আয়োজন করেছে জামায়াতে ইসলামী। জনসভায় দলের আমির শফিকুর রহমানের পাশাপাশি ১০–দলীয় জোটের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। মাঠটি শফিকুর রহমানের নির্বাচনী এলাকা ঢাকা–১৫ আসনের অন্তর্ভুক্ত।
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসপি) আজ সকাল সাড়ে ১০টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় তিন নেতার সমাধি ও শহীদ ওসমান হাদির কবর জিয়ারতের মাধ্যমে প্রচার শুরু করবে। পরে তিন নেতার সমাধি থেকে জাতীয় প্রেসক্লাব পর্যন্ত প্রচার কর্মসূচি পালন করা হবে। এতে দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামসহ কেন্দ্রীয় নেতারা অংশ নেবেন।
এ ছাড়া সকাল ১১টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পমাল্য অর্পণের মাধ্যমে প্রচারণা শুরু করবে সিপিবি। একই সময়ে গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি সকাল ৯টায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার চরলহনিয়ায় বাবার কবর জিয়ারত ও পুষ্পস্তবক অর্পণ করে মাথাল প্রতীকের প্রচার কার্যক্রম শুরু করবেন।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ সময় ছিল ২৯ ডিসেম্বর। নির্ধারিত সময়ে ৩০০ সংসদীয় আসনে ৩ হাজার ৪২২ জন মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন। এর মধ্যে ২ হাজার ৮৫ জন মনোনয়নপত্র জমা দেন। যাচাই-বাছাই শেষে রিটার্নিং কর্মকর্তারা ৭২৬ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল করেন। এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ৬৩৯ জন আপিল করলে শুনানি শেষে ৪৩১ জনের প্রার্থিতা পুনর্বহাল করে কমিশন। গতকাল মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিনে ৩০৫ জন প্রার্থী নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান। ফলে সারা দেশে ২৯৮টি আসনে মোট ১ হাজার ৯৬৭ জন প্রার্থী চূড়ান্তভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকলেন। রিটার্নিং কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ৫ জানুয়ারি থেকে ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত আপিল আবেদন গ্রহণ করা হয়। ১০ জানুয়ারি থেকে আপিল শুনানি শুরু হয়ে একটানা রোববার পর্যন্ত চলে। তবে পাবনা-১ ও পাবনা-২ আসনে আগে বৈধ হওয়া ১১ জন প্রার্থী (আগের তপশিল অনুযায়ী ১৩ জন মনোনয়ন জমা দিয়েছিলেন) এই তালিকা থেকে বাদ পড়বেন। ভোটের তারিখ অপরিবর্তিত রেখে এ দুই আসনে নতুন তপশিল ঘোষণা করা হয়েছে।