শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:১২ পূর্বাহ্ন
মোদির এক সফরেই বদলে গেল রাজ্যের রাজনৈতিক সুর!
অনলাইন ডেস্ক
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আজ (শুক্রবার) নির্বাচনী উত্তাপের মাঝেই পশ্চিমবঙ্গে আসছেন। রাজ্যে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে ঘিরেই তার এই সফর ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা চরমে উঠেছে।
বিকেলে বিহারে একটি প্রচারসভা সেরে তিনি পৌঁছাবেন পশ্চিমবঙ্গের শিল্পনগরী দুর্গাপুরে। সেখানে নেহরু স্টেডিয়ামে বিজেপির বিশাল জনসভায় ভাষণ দেবেন তিনি, যেখানে থাকছে কড়া নিরাপত্তা ও বিশাল জমায়েতের প্রস্তুতি।
গত ২৯ মে মোদি পশ্চিমবঙ্গ সফরে এসে আলিপুরদুয়ারে এক উত্তাল জনসভা করেন, যেখানে তৃণমূল কংগ্রেসকে দুর্নীতির অভিযোগে তুলোধোনা করেছিলেন তিনি। তার কথায়, রাজ্যের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে শাসক দলের অপশাসনে।
বিহার ও পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬ সালের শুরুর দিকেই হওয়ার সম্ভাবনা। ফলে এই সফরকে নির্বাচনী যুদ্ধের শুরু হিসেবেই দেখছে রাজনৈতিক মহল।
পাটনা থেকে বিমানে দুর্গাপুরের অন্ডাল বিমানবন্দরে এসে মোদি সেখান থেকে সড়কপথে স্টেডিয়ামের দিকে রওনা দেবেন। শেষ তিন কিলোমিটারে তিনি গাড়ির জানালা খুলে জনতাকে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানাবেন বলে জানা গেছে।
দুর্গাপুরের নেহরু স্টেডিয়ামে মোদির জন্য সাজানো হয়েছে দুটি পৃথক মঞ্চ। একটিতে তিনি রাজনৈতিক ভাষণ দেবেন, অপরটিতে থাকছে প্রশাসনিক সভা, যেখানে ঘোষণা করা হবে একাধিক উন্নয়ন প্রকল্প।
বৃহস্পতিবার রাতে এক্স অ্যাকাউন্টে দেওয়া বার্তায় মোদি জনসভায় উপস্থিত হতে সবাইকে আমন্ত্রণ জানান। সেখানে তিনি তৃণমূলকে কাঠগড়ায় তুলে বলেন, ‘‘পশ্চিমবঙ্গের অগ্রযাত্রা রুদ্ধ করেছে তৃণমূল, রাজ্যের উন্নয়ন সম্ভব কেবল বিজেপির হাত ধরে।’’
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এবার তৃণমূল তার প্রচারে মূল ইস্যু করতে পারে বাংলাভাষীদের হেনস্তা, বিশেষ করে দেশের বিভিন্ন রাজ্যে ‘বাংলাদেশি’ আখ্যায়িত করে যেভাবে বাঙালিদের নিগ্রহ করা হচ্ছে, সেই প্রসঙ্গটি সামনে আনতে পারে।
অন্যদিকে, বিজেপি এবার তৃণমূলের দুর্নীতিকে কেন্দ্র করে আক্রমণ জোরালো করতে চাইছে। তাদের ঘোষণা—২০২৬ সালের নির্বাচনে তৃণমূলকে বিদায় নিতে হবে দুর্নীতির দায়ে, আর বিজেপিই হবে বাংলার নতুন শাসক।
উল্লেখযোগ্য, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস ২৯৪টি আসনের মধ্যে ২১৩টি দখল করে বিপুল জয় পেয়েছিল। বিজেপি পায় ৭৭টি এবং নবাগত দল আইএসএফ জেতে একটি আসন। কংগ্রেস ও বাম দল তখন আসন শূন্য থেকে যায়।