রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৫৩ পূর্বাহ্ন
যুদ্ধের আঁচে মোদি-পেজেশকিয়ান সংলাপে শান্তির ইঙ্গিত!
অনলাইন ডেস্ক
মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনার জের চলাকালীন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় ভয়াবহ বিমান হামলা চালানোর ২৪ ঘণ্টার মাথায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে ফোনে কথা বলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান।
রবিবার (২২ জুন) দুই নেতার মধ্যে প্রায় ৪৫ মিনিটব্যাপী এই সংলাপে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক উত্তেজনা, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়।
ভারতের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়ার বরাতে জানা যায়, এই ফোনালাপের উদ্যোগ নেন প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান নিজেই—যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পরপরই।
ফোনে মোদি বলেন, চলমান সংকট নিয়ে তিনি গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। তিনি আঞ্চলিক শান্তি ফেরাতে পারস্পরিক সংলাপ ও কূটনৈতিক সমাধানের ওপর জোর দেন। মোদির মতে, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়লে দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা ও অর্থনীতিও হুমকিতে পড়তে পারে।
পেজেশকিয়ান ভারতকে “ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও কৌশলগত অংশীদার” হিসেবে উল্লেখ করেন এবং বলেন, আঞ্চলিক ভারসাম্য রক্ষায় ভারতের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি মোদির শান্তিপূর্ণ সমাধানের আহ্বানকে স্বাগত জানান।
তিনি আরও বলেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণরূপে বেসামরিক, আর যুক্তরাষ্ট্রের হামলা আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন।
এই ফোনালাপের পরে এক্স (সাবেক টুইটার)-এ মোদি লেখেন, “ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। আমি বর্তমান উত্তেজনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছি এবং শান্তিপূর্ণ কূটনৈতিক পথে সংকট নিরসনের আহ্বান জানিয়েছি।”
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান-ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত দীর্ঘ হলে তা শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, বরং দক্ষিণ ও পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর ওপরও বড় ধরনের কৌশলগত ও বাণিজ্যিক প্রভাব ফেলবে।
২০২৫ অর্থবছরে ইরান থেকে ভারতের আমদানি ছিল ৪৪১.৮ মিলিয়ন ডলার, আর রপ্তানি ১.২৪ বিলিয়ন ডলার—যেখানে প্রধান পণ্য ছিল বাসমতী চাল, কলা, সয়া মিল, চা ও ছোলা। অন্যদিকে, ইসরায়েলের সঙ্গে ভারতের রপ্তানি ছিল ২.১ বিলিয়ন ডলার এবং আমদানি ১.৬ বিলিয়ন ডলার।
এমন জটিল ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় ভারত উভয় দেশের সঙ্গেই ভারসাম্য রক্ষা করে চলতে চায়।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েল-গাজা যুদ্ধ শুরুর পর হুতি বিদ্রোহীরা লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা শুরু করে, যার ফলে বাব-এল-মান্দেব প্রণালি অস্থির হয়ে ওঠে। ভারত এই পথেই ইউরোপ ও আমেরিকার সঙ্গে প্রায় ৮০% বাণিজ্য করে।
গণমাধ্যমের বরাতে জানা যায়, যুদ্ধ ও শুল্কসংকটের কারণে ২০২৫ সালে বৈশ্বিক বাণিজ্য প্রবৃদ্ধি ২.৭% থেকে নেমে ০.২%-এ পৌঁছাতে পারে। ফলে ভারতের মতো দেশের জন্য অর্থনৈতিক ভারসাম্য রক্ষা এবং কৌশলগত অবস্থান বজায় রাখা আরও চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।