রবিবার, ২১ জুন ২০২৬, ০৩:৪২ অপরাহ্ন
ইসলামে বিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত এবং পারিবারিক জীবনের ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত। তবে সমাজে প্রায়ই একটি প্রশ্ন উঠে আসে—বিয়ে না করলে কি জান্নাত লাভ সম্ভব নয়, অথবা আজীবন অবিবাহিত থাকলে জান্নাত কি হারাম হয়ে যাবে? কোরআন, সুন্নাহ এবং ইসলামী ইতিহাসের আলোকে এ বিষয়ে সঠিক ধারণা থাকা জরুরি।
ইসলামি শিক্ষায় জান্নাতে প্রবেশের প্রধান শর্ত হলো ঈমান, তাকওয়া এবং সৎকর্ম। বিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত হলেও এটি জান্নাতে যাওয়ার একমাত্র শর্ত নয়। আল্লাহ তাআলা কোরআনে বলেন, ‘আর যে ব্যক্তি মুমিন অবস্থায় সৎকর্ম করবে, সে পুরুষ হোক বা নারী, তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে এবং তাদের প্রতি বিন্দুমাত্র জুলুম করা হবে না।’ (সুরা নিসা: ১২৪)
এই আয়াত থেকে স্পষ্ট হয় যে জান্নাত প্রাপ্তির ভিত্তি হলো ঈমান ও নেক আমল, এখানে বৈবাহিক অবস্থাকে শর্ত করা হয়নি।
বিয়ে ইসলামে একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত হিসেবে স্বীকৃত। রাসুলুল্লাহ (স.) বিয়ের প্রতি উৎসাহ দিয়েছেন এবং এটিকে চরিত্র রক্ষার মাধ্যম হিসেবে উল্লেখ করেছেন। একটি হাদিসে এসেছে, ‘বান্দা যখন বিয়ে করে, তখন সে তার দ্বীনের অর্ধেক পূর্ণ করে…’ (সহিহ ইবনে হিব্বান: ৪০৩৫; বায়হাকি)
এই বক্তব্যের অর্থ হলো, বিয়ে মানুষের নৈতিক সুরক্ষা বাড়ায় এবং অনেক গুনাহ থেকে দূরে রাখে। তবে এর মানে এই নয় যে অবিবাহিত ব্যক্তি দ্বীনের পূর্ণতা অর্জন করতে পারে না।
ইসলামি ফিকহ অনুযায়ী বিয়ের হুকুম সবার জন্য এক নয়, বরং পরিস্থিতিভেদে পরিবর্তিত হয়—
একটি হাদিসে বলা হয়েছে, যে ব্যক্তি নবীজির সুন্নত থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়, সে উম্মতের অন্তর্ভুক্ত নয় (বুখারি)। মুহাদ্দিসদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, এখানে সুন্নতের প্রতি অবজ্ঞা বা অস্বীকার বোঝানো হয়েছে। কোনো বৈধ কারণে বিয়ে না করলে এই সতর্কবাণীর অন্তর্ভুক্ত হওয়া প্রযোজ্য নয়।
ইসলামের ইতিহাসে অনেক বড় আলেম ও নেককার ব্যক্তি ছিলেন যারা আজীবন অবিবাহিত থেকেছেন, যেমন ইমাম নববি (রহ.), ইমাম তাবারি (রহ.) এবং ইবনে তাইমিয়া (রহ.)। তাঁরা দ্বীনি খেদমতে নিজেকে নিয়োজিত রাখায় বিয়ে করেননি। এ বিষয়ে শায়খ আব্দুল ফাত্তাহ আবু গুদ্দাহ (রহ.) ‘আল-উলামাউল উজ্জাব’ গ্রন্থ রচনা করেছেন।
বিয়ে ইসলামে গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত হলেও জান্নাতের একমাত্র শর্ত নয়। মূল ভিত্তি হলো ঈমান, আমল এবং তাকওয়া। সামর্থ্য থাকলে বিয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত, তবে বৈধ কারণে অবিবাহিত থাকলেও জান্নাতের আশা করা যায় আল্লাহর রহমতে।