1. akhi@janatarjagoron.com : আখি আক্তার : আখি আক্তার
  2. foreign@janatarjagoron.com : আন্তর্জাতিক ডেস্ক : আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  3. atau@janatarjagoron.com : Mohammed Ataullah : Mohammed Ataullah
  4. mosharaf.bbadcc@gmail.com : বিনোদন ডেস্ক : বিনোদন ডেস্ক
  5. jonotarjagoron@gmail.com : Editor :
  6. labony@janatarjagoron.com : ক্যাম্পাস প্রতিনিধি : ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
  7. life@janatarjagorn.com : লাইফস্টাইল ডেস্ক : লাইফস্টাইল ডেস্ক
  8. onlinedesk2@janatarjagoron.com : অনলাইন ডেস্ক : অনলাইন ডেস্ক
  9. sohag@janatarjagoron.com : Khan Saiful Sohag : Khan Saiful Sohag
  10. info2@janatarjagoron.com : উপজেলা প্রতিনিধি : উপজেলা প্রতিনিধি
  11. mosharafrobindev@gmail.com : জেলা প্রতিনিধি : জেলা প্রতিনিধি
মালয়েশিয়া সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান - Janatar Jagoron

মালয়েশিয়া সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

  • সর্বশেষ আপডেট: রবিবার, ২১ জুন, ২০২৬
  • ২৯ বার পঠিত
তারেক রহমান মালয়েশিয়া সফর

মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের আমন্ত্রণে সরকারি সফরে আজ রোববার কুয়ালালামপুরের উদ্দেশে রওনা হচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সফর শেষে তিনি চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের আমন্ত্রণে সরাসরি বেইজিং সফর করবেন। এই দুই দেশের সফরে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার, বাণিজ্য সম্প্রসারণ, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, শ্রমবাজার, প্রযুক্তি, শিক্ষা এবং আঞ্চলিক বিভিন্ন বিষয় গুরুত্ব পাবে বলে আশা করছে ঢাকা।

দুই দেশের সফর শুরুর আগে শনিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম সফরের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তিনি জানান, বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণে এ সফর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী, আজ দুপুর ২টা ৪৫ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি নিয়মিত ফ্লাইটে কুয়ালালামপুরের উদ্দেশে যাত্রা করবেন প্রধানমন্ত্রী। স্থানীয় সময় রাত ৮টা ৪৫ মিনিটে কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বুংগা রায়া ভিভিআইপি কমপ্লেক্সে পৌঁছালে তাকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হবে। মালয়েশিয়ার ধর্মবিষয়কমন্ত্রী ড. জুলকিফলি হাসান তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানাবেন। সফরকালে তিনি রাজধানীর শাংগ্রি-লা হোটেলে অবস্থান করবেন।

২২ জুন পুত্রজায়ার পারদানা পুত্রা কমপ্লেক্সে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানাবেন। লাল গালিচা সংবর্ধনা, জাতীয় সংগীত পরিবেশন এবং গার্ড অব অনার পরিদর্শনের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। পরে দুই নেতা প্রতিনিধি দলের সদস্যদের সঙ্গে পরিচিত হবেন এবং যৌথ ফটোসেশনে অংশ নেবেন। এরপর তাদের মধ্যে একান্ত বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।

দুই প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকে বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া সম্পর্কের সার্বিক অগ্রগতি, শ্রমবাজার সম্প্রসারণ, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি, প্রযুক্তি ও শিক্ষা সহযোগিতা, হালাল শিল্প এবং আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। পরে প্রতিনিধি পর্যায়ের বৈঠকে উভয় দেশের মন্ত্রী ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেবেন।

সফরের অংশ হিসেবে দুই দেশের মধ্যে কয়েকটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) এবং একটি নোট বিনিময়ের পরিকল্পনা রয়েছে। সরকারি সূত্র জানিয়েছে, অন্তত তিনটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের প্রস্তুতি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। এর মধ্যে সাংস্কৃতিক সহযোগিতা এবং সন্ত্রাস দমনবিষয়ক সহযোগিতার নথিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। চুক্তি স্বাক্ষরের পর দুই প্রধানমন্ত্রী যৌথ সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেবেন।

এরপর মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর আয়োজনে সেরি পারদানা কমপ্লেক্সে রাষ্ট্রীয় মধ্যাহ্নভোজ অনুষ্ঠিত হবে। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার সংস্কৃতির সমন্বয়ে বিশেষ পরিবেশনার আয়োজন রাখা হয়েছে। প্রায় ৬০ জন শিশু দুই দেশের জাতীয় পতাকা হাতে অতিথিদের স্বাগত জানাবে এবং বাংলা, মালয় ও ইংরেজি ভাষায় শুভেচ্ছা জানানো হবে। এছাড়া দুই দেশের জনপ্রিয় গান পরিবেশনেরও পরিকল্পনা রয়েছে।

মধ্যাহ্নভোজ শেষে মালয়েশিয়ার রাজা সুলতান ইব্রাহিম ইবনি আলমারহুম সুলতান ইস্কান্দারের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন প্রধানমন্ত্রী। কূটনৈতিক মহলের মতে, এ বৈঠক দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও জোরদার করতে সহায়ক হবে।

সফরের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে মালয়েশিয়ার শীর্ষ ব্যবসায়ী ও করপোরেট নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী। এমএমসি পোর্টস, এয়ারএশিয়া এবং পেট্রোনাস গ্রুপের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বন্দর উন্নয়ন, জ্বালানি, বিমান যোগাযোগ, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং বিনিয়োগ বৃদ্ধির সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হবে।

পররাষ্ট্রসচিব জানান, সফরের অন্যতম অগ্রাধিকার হচ্ছে শ্রমবাজার সম্প্রসারণ, বাংলাদেশি কর্মীদের কল্যাণ, বৈধ অভিবাসন প্রক্রিয়া সহজ করা, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং বাণিজ্য সম্প্রসারণ। পাশাপাশি বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণের পরিপ্রেক্ষিতে মালয়েশিয়ার বাজারে অগ্রাধিকারমূলক প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে মুক্ত-বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়েও আলোচনা হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মালয়েশিয়ায় কর্মরত বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশির স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোও আলোচনায় গুরুত্ব পাবে। নতুন কর্মী নিয়োগ, নিয়োগ ব্যয় হ্রাস, সিন্ডিকেটমুক্ত অভিবাসন ব্যবস্থা এবং অনিয়মিত কর্মীদের বৈধতা দেওয়ার বিষয়েও আলোচনা হতে পারে।

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রথম বিদেশ সফরের জন্য মালয়েশিয়াকে বেছে নেওয়া দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ক আরও গভীর করার ইঙ্গিত বহন করে। মালয়েশিয়া সফর শেষে সোমবার প্রধানমন্ত্রী চীনের দালিয়ানের উদ্দেশে রওনা হবেন।

এদিকে সফর উপলক্ষে পুত্রজায়া ও কুয়ালালামপুরে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার জাতীয় পতাকা, আলোকসজ্জা এবং স্বাগত ব্যানারে সাজানো হয়েছে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকা। স্থানীয় বাংলাদেশি কমিউনিটির পাশাপাশি মালয়েশিয়া বিএনপি, যুবদল, জাসাসসহ বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের মধ্যেও সফরকে ঘিরে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

পোস্টটি শেয়ার করুন

এই বিভাগে আরও খবর..