বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৩৯ পূর্বাহ্ন
ইংল্যান্ডের জয়, নারী ফুটবলের রোমাঞ্চকর ইতিহাস গড়ল ইউরো ফাইনাল!
অনলাইন ডেস্ক
নারী ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে ফুটবল ভক্তরা উপভোগ করল এক দুর্দান্ত নাটকীয় ক্লাইম্যাক্স। রোমাঞ্চকর এই মহারণে নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময়ে ১-১ গোলের সমতা থাকায় ম্যাচ গড়ায় পেনাল্টি শুটআউটে। আর সেখানেই স্পেনকে ৩-১ ব্যবধানে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো ইউরোপ সেরা হলো ইংল্যান্ডের সিংহীরা।
জয়সূচক শেষ ছোঁয়াটি দিলেন ইংলিশ স্ট্রাইকার ক্লোই কেলি—২০২২ সালের ফাইনালের নায়িকা এবারও পেনাল্টির জালে শেষ বল জড়িয়ে নিশ্চিত করলেন নিজের বড় মঞ্চের যোগ্যতা।
ম্যাচের ২৫ মিনিটে ওনা বাত্লের ক্রস থেকে মারিওনা কালদেনতের মাথায় ভর করে এগিয়ে যায় স্পেন। ইংলিশ ডিফেন্সের অনিয়মিত অবস্থানের সুযোগ নিয়ে জালে বল জড়িয়ে দেন কালদেনতে। তার ওপর লরেন জেমসের গোড়ালির চোটে চাপ আরও বাড়ে ইংলিশদের। তবে বিরতির আগে ক্লোই কেলির বদলি হিসেবে মাঠে নামা কোচের কৌশলের মোক্ষম চাল হয়ে দাঁড়ায়।
দ্বিতীয়ার্ধে ইংল্যান্ড দুর্দান্তভাবে ফিরে আসে। ৫৭ মিনিটে কেলির ডান দিক থেকে দেওয়া জাদুকরী ক্রসে মাথা ছুঁইয়ে গোল করেন অ্যালেসিয়া রুসো। স্পেন এরপর বল দখল ও আক্রমণে এগিয়ে থাকলেও ইংলিশ রক্ষণ আর গোলরক্ষক হান্নাহ হ্যাম্পটনের দৃঢ়তায় গোলের মুখ দেখেনি। অতিরিক্ত ৩০ মিনিটেও দুই দল সমানে সমান লড়লেও স্কোরলাইন থেকে যায় অপরিবর্তিত।
পেনাল্টি শুটআউটে শুরুতেই ইংল্যান্ড পিছিয়ে পড়ে, বেথ মিডের শট ফিরিয়ে দেন কাতা কোল। এরপর হান্নাহ হ্যাম্পটন ফিরিয়ে দেন কালদেনতে ও বোনমাতির শট। যদিও উইলিয়ামসনের শট ঠেকান কোল, কিন্তু স্পেনের পারালুয়েলোর শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হওয়ায় ইংল্যান্ড ফিরে পায় মোমেন্টাম।
শেষ স্পট কিক নিতে আসেন ক্লোই কেলি—নিজের ক্লাসিক ছন্দে দৌড়ে এসে ছুঁড়ে দেন বল, স্পেনের জালে কাঁপন তুলে দেন। মুহূর্তেই ইংলিশ শিবিরে উল্লাসের জোয়ার, ইউরো ট্রফি আবার উঠল ইংল্যান্ডের মুকুটে।
নারী ইউরোর ইতিহাসে মাত্র দ্বিতীয়বার, আর ১৯৮৪ সালের পর প্রথমবারের মতো ফাইনালের ভাগ্য নির্ধারিত হলো পেনাল্টি শুটআউটে। ফুটবল মান, রোমাঞ্চ আর টানটান উত্তেজনার নিরিখে ২০২৫ সালের এই ফাইনাল স্মরণীয় হয়ে থাকবে ইউরোপীয় ফুটবলের ইতিহাসে।