শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:০৭ পূর্বাহ্ন
সেতু ধসে নদীতে তলিয়ে গেল গাড়ি, নিহত ৩!
অনলাইন ডেস্ক
ব্যস্ত একটি মহাসড়কে হঠাৎ বিকট শব্দে কেঁপে উঠল চারপাশ। কিছু বোঝার আগেই ধসে পড়ল সেতুর একটি বিশাল অংশ, মুহূর্তেই একের পর এক গাড়ি ছিটকে পড়ে নদীতে। এই মর্মান্তিক ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত তিনজন।
বুধবার (৯ আগস্ট) ভারতের গুজরাট রাজ্যের ভদোদরার পাদ্রা তালুকায় অবস্থিত গম্ভীরা-মুজপুর সেতুর একটি অংশ ধসে পড়ে বলে গণমাধ্যম জানিয়েছে।
খবরে বলা হয়েছে, সকালে ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনায় নদীতে পড়ে যায় একাধিক যানবাহন। মৃতদের পাশাপাশি আহত হয়েছেন আরও অন্তত তিনজন। দুর্ঘটনায় দুটি ট্রাক, একটি পিকআপ ভ্যান ও একটি বোলেরো SUV নদীর গভীরে তলিয়ে গেছে।
সেতুটি ভদোদরা ও আনন্দ জেলার মধ্যে যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল। ভোরে হঠাৎ বিকট শব্দ শুনে স্থানীয়রা ছুটে এসে দেখেন, সেতুর একাংশ ধসে পড়েছে এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই যানগুলো নদীতে হারিয়ে গেছে।
দ্রুত খবর ছড়িয়ে পড়লে ঘটনাস্থলে ছুটে আসে দমকল বাহিনী, পুলিশ এবং ভদোদরা জেলা প্রশাসন। শুরু হয় উদ্ধার অভিযান। তাঁদের সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দারাও যুক্ত হন প্রাণপণ চেষ্টা চালাতে। আশপাশের এলাকা ঘিরে ফেলে নেওয়া হয় কড়া নিরাপত্তা।
দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে এরই মধ্যে তদন্ত শুরু করেছে প্রশাসন। দুর্ঘটনার তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে, এলাকাজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ধসে পড়া সেতুটি স্থানীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ হলেও বহুদিন ধরেই অবহেলার শিকার ছিল বলে অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী।
একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, ‘অনেকবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি, সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ। কিন্তু কেউ কর্ণপাত করেনি। এমনকি এটি আত্মহত্যার স্থান হিসেবেও পরিচিতি পেয়েছিল, কিন্তু তারপরও কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।’
গুজরাট রাজ্যের কংগ্রেস নেতা অমিত চাভদা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, “ভদোদরা ও আনন্দ জেলার সংযোগকারী গম্ভীরা সেতু ধসে পড়েছে। অনেক যানবাহন নদীতে পড়ে গেছে। বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। প্রশাসনকে দ্রুত উদ্ধার অভিযান চালিয়ে বিকল্প রাস্তা খুলতে হবে।”
এদিকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনার পরপরই সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলো সুরক্ষিত রাখা হয়েছে এবং দ্রুত সময়ের মধ্যেই আশেপাশের অন্য সব সেতুর কারিগরি অবস্থা পরিদর্শন ও নিরাপত্তা অডিট চালানো হবে।
এই দুর্ঘটনা স্থানীয়দের মনে ভয় ঢুকিয়ে দিয়েছে। কেউ কেউ বলছেন, সেতুর এই করুণ পরিণতি একেবারে অনিবার্য ছিল, কারণ আগে থেকেই এটির অবস্থা ছিল নড়বড়ে। এখন প্রশাসন নড়েচড়ে বসলেও, যারা প্রাণ হারালেন তাদের আর ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়।