সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১২:২৯ অপরাহ্ন
ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনা: জ্বালানি তেলের দামে লুকোচুরি খেলা
অনলাইন ডেস্ক
ইসরায়েল গত সপ্তাহে ইরানের ওপর সামরিক হামলা চালানো মাত্রই বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম চড়তে শুরু করে। যুদ্ধ যতই ঘনীভূত হয়েছে, ততই যেন লাফিয়ে উঠেছে ব্যারেলপ্রতি তেলের দর। তবে সেই উত্তাপের মধ্যেই বাজারে এখন দেখা যাচ্ছে খানিকটা শীতল হাওয়া—প্রাথমিক উত্তেজনার ঝাঁজ পেরিয়ে তেলের দামে এসেছে সাময়িক স্বস্তি।
গতকাল শুক্রবার, বিশ্ববাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম হঠাৎ কমে যায় ২ শতাংশেরও বেশি। প্রতি ব্যারেল এখন বিক্রি হচ্ছে ৭৭ দশমিক ২০ মার্কিন ডলারে। যদিও এক সপ্তাহ আগেও এই দাম ছিল আরও নিচে, তবু সামগ্রিকভাবে এখন পর্যন্ত গত সাত দিনে তা ৪ শতাংশ বেড়েছে। শনিবার সকালেই আবার ব্যারেলপ্রতি দাম নেমে আসে ৭৭ দশমিক শূন্য ১ ডলারে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই দাম কমার প্রবণতা কিন্তু মোটেও স্থায়ী নয়। ইরান ও ইসরায়েলের সংঘাত এখনও পুরোমাত্রায় চলছে এবং এর প্রতিফলন স্পষ্ট তেলের বাজারে। গত বৃহস্পতিবার যখন যুদ্ধের উত্তেজনা চূড়ায়, তখন দামও একধাক্কায় উপরের দিকে। কিন্তু শুক্রবার সকাল থেকেই দেখা গেল উল্টো চিত্র—দাম কমতে শুরু করেছে। শনিবারেও সেই ধারায় চলছে পতন।
এদিকে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে জানা গেছে, ইরান যুদ্ধকালীন অবস্থায় থেকেও বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল রপ্তানির জোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরান দ্রুত যতটা সম্ভব তেল বাজারে ছেড়ে দিতে চায় যাতে বৈশ্বিক চাহিদা পূরণ করে বাজারে দখল নিতে পারে। ডিএনবি মার্কেটসের বিশ্লেষক হেল্গে আন্দ্রে মার্টিনসেন জানান, ইরান তাদের রপ্তানি কেন্দ্রগুলোতে তেল পাঠাচ্ছে অত্যন্ত দ্রুত গতিতে, যেন কোনোভাবেই বাজার হাতছাড়া না হয়।
এদিকে বিশ্বের আর্থিক বাজারে অনিশ্চয়তা পিছু ছাড়ছে না। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে অশুল্ক পণ্যের বাণিজ্য আলোচনায় অগ্রগতি হলেও, ঠিক কবে কোন শুল্ক আরোপ হবে তা এখনো অস্পষ্ট। এই প্রেক্ষাপটে মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভ গভর্নর ক্রিস্টোফার ওয়ালার বলেছেন, শুল্কজনিত মূল্যবৃদ্ধি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিতে বাধা হওয়া উচিত নয়। বরং জুলাই মাসেই সুদের হার কমানো হতে পারে বলে জানান তিনি।
এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের আরেক শীর্ষ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, চীনে মার্কিন প্রযুক্তি ব্যবহারকারী সেমিকন্ডাক্টর কোম্পানিগুলোর ছাড়পত্র বাতিলের পরিকল্পনা করছে ওয়াশিংটন। বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, এই ভূরাজনৈতিক এবং প্রযুক্তি কেন্দ্রিক উত্তেজনা বিশ্ব অর্থনীতিকে নতুন করে চাপের মুখে ফেলতে পারে।
সবশেষে, তেলের দামের এই টালমাটাল অবস্থার পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানও বড় ভূমিকা রাখছে। দিনকয়েক ধরেই বিশ্বজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে—যুক্তরাষ্ট্র কি সরাসরি ইরান-ইসরায়েল সংঘাতে জড়াবে? প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এরই মধ্যে ‘সময়ের দরকার’ বলে জানিয়ে দিয়েছেন, আরও দুই সপ্তাহ সিদ্ধান্ত নিতে চাইছেন।
বিশ্লেষকরা বলছেন, মার্কিন এই কৌশলগত সময় নেওয়ার কারণেই হয়তো বিশ্ববাজারে আপাতত কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। তবে এই স্বস্তি কতটা স্থায়ী হবে, সেটি নির্ভর করছে পরবর্তী ভূরাজনৈতিক নাটকের মোড় কোনদিকে ঘোরে তার ওপরই।