বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:১৮ পূর্বাহ্ন
২০৩১ নারী বিশ্বকাপে ইতিহাস, মাঠে নামবে ৪৮ দল!
অনলাইন ডেস্ক
নারী ফুটবলের জগতে এক ঐতিহাসিক পরিবর্তনের সূচনা হতে যাচ্ছে, যা বিশ্বব্যাপী এই খেলাটির গ্রহণযোগ্যতা ও জনপ্রিয়তাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে। ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা সম্প্রতি এক যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে—২০৩১ সালের নারী বিশ্বকাপ থেকে অংশগ্রহণকারী দলের সংখ্যা ৩২ থেকে বৃদ্ধি করে ৪৮ করা হবে। এই ঘোষণাটি শুক্রবার (৯ মে) ফিফা কাউন্সিলের এক সর্বসম্মত সভায় গৃহীত হয়, যা ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
বিশ্বখ্যাত ক্রীড়া ও বিনোদনমাধ্যম ইএসপিএন-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই সিদ্ধান্তের ফলে নারী ফুটবলের বিশ্বমঞ্চে প্রতিযোগিতার পরিধি ও বৈচিত্র্য দুই-ই বৃদ্ধি পাবে। প্রথমবারের মতো ২০৩১ সালের বিশ্বকাপে ১২টি গ্রুপে ভাগ হয়ে ৪৮টি দল লড়বে ফুটবলের সেরা হওয়ার লড়াইয়ে। আয়োজক দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র এবার ইতিহাসের সাক্ষী হতে যাচ্ছে, যেখানে নারী ফুটবলের বৃহত্তম এই মহাযজ্ঞ অনুষ্ঠিত হবে।
নতুন ফরম্যাটের প্রভাবে ম্যাচের সংখ্যা পূর্বের ৬৪ থেকে বেড়ে ১০৪-এ পৌঁছাবে, যা টুর্নামেন্টের উত্তেজনা ও আকর্ষণ বহুগুণে বাড়িয়ে তুলবে। ফলে বিশ্বকাপের মেয়াদকালও এক সপ্তাহ বৃদ্ধি পাবে, যা ফুটবলপ্রেমীদের জন্য আরও বেশি রোমাঞ্চের সুযোগ তৈরি করবে। ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনো এই ঘোষণার পর এক আবেগঘন বক্তব্যে বলেন, ‘এটি নারী ফুটবলের ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। নতুন এই কাঠামো আরও অনেক দেশকে নারী ফুটবলে বিনিয়োগ ও কাঠামোগত উন্নয়নের সুযোগ করে দেবে। আমরা নারী ফুটবলের বৈশ্বিক অগ্রগতিকে টেকসই করে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’
নারী বিশ্বকাপের এই রূপান্তরের পেছনে দীর্ঘদিনের এক যাত্রার গল্প রয়েছে। ২০১৯ সাল পর্যন্ত নারী বিশ্বকাপ আয়োজন করা হতো মাত্র ২৪ দলের অংশগ্রহণে। ২০২৩ সালে প্রথমবারের মতো ৩২ দল নিয়ে অনুষ্ঠিত হয় নারী বিশ্বকাপ, যা নারী ফুটবলে এক নতুন যুগের সূচনা করে। তবে আগামি ২০২৭ সালে ব্রাজিলে অনুষ্ঠেয় নারী বিশ্বকাপ এখনও পূর্বের কাঠামো অনুযায়ী ৩২ দল নিয়েই মাঠে গড়াবে।
ফিফার এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নিঃসন্দেহে নারী ফুটবলের প্রসারকে এক নতুন মাত্রা দেবে। ফুটবলের এই বিশ্বমঞ্চে আরও নতুন দেশ ও প্রতিভার সুযোগ সৃষ্টির মাধ্যমে নারী ফুটবলের মান, প্রতিযোগিতা ও বৈচিত্র্যের দিগন্ত উন্মোচিত হবে। সুতরাং, ২০৩১ সালের বিশ্বকাপ শুধু আরেকটি টুর্নামেন্ট নয়—এটি হতে চলেছে নারী ফুটবলের ইতিহাসে এক নতুন সূর্যোদয়।