বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:২২ পূর্বাহ্ন
ট্রফিতে মোড়া পথ, অশ্রুতে শেষ—দি মারিয়ার শেষ চুম্বন!
অনলাইন ডেস্ক
সব ভালো কিছুই নাকি একদিন শেষ হতেই হয়। কথাটা বাস্তব হলেও কিছু বিদায় হৃদয়ে রক্তক্ষরণ ঘটায়। সেই রকমই এক শেষ অধ্যায় লিখলেন আনহেল দি মারিয়া—যার ইউরোপীয় ফুটবলযাত্রা থেমে গেল কিংবদন্তির মতোই।
এই বিদায়ের ফ্ল্যাশব্যাকে ভেসে উঠছে আনন্দ-বেদনার অগণন মুহূর্ত—যা এক সাধারণ রোজারিও বালককে গড়ে তোলে ‘অ্যাঞ্জেল’ নামক এক ক্রীড়াপূজিতায়। ইউরোপে নিজের শেষ ম্যাচে মাথা উঁচু করে, ক্লাব বিশ্বকাপে বেনফিকার হয়ে শেষ গোল করে জানান দিলেন, এখানেও তিনি অমর। ক্লাব বিশ্বকাপে বিদায় নেওয়ার কথা আগেই জানিয়ে দিয়েছিলেন, শৈশবের ক্লাব রোসারিও সেন্ট্রালে ফেরার প্রস্তুতিও সেরে ফেলেছিলেন।
তাই বেনফিকার ম্যাচগুলোর দিকে ছিল ভক্তদের বাড়তি দৃষ্টি। গ্রুপ পর্বে তিন গোল করে শীর্ষ গোলদাতা তালিকায় উঠে এসেছিলেন এই বিশ্বজয়ী। বায়ার্নকে হারিয়ে শীর্ষস্থান নিশ্চিত করেছিল বেনফিকা, যার নায়ক ছিলেন দি মারিয়াই। আশা করা হচ্ছিল, শেষটা একটু দীর্ঘ হবে—কিন্তু হয়নি। চেলসির কাছে ৪-১ গোলে হেরে শেষ ষোলোতেই থেমে যায় বেনফিকার যাত্রা।
তবে হারের আগেও বাজিমাত! ৬৪ মিনিটে পিছিয়ে থাকা বেনফিকাকে যোগ করা সময়ের শেষ মুহূর্তে পেনাল্টি থেকে সমতায় ফেরান দি মারিয়া। অতিরিক্ত সময়েও চেষ্টা করলেও পারেননি রক্ষা করতে বিদায়। ক্লাব বিশ্বকাপ থেকে বেনফিকার বিদায় মানে ইউরোপীয় ফুটবলেও দি মারিয়ার শেষ বাঁশি।
২০০৭ সালে রোজারিও সেন্ট্রাল থেকে ইউরোপের যাত্রা শুরু। বেনফিকায় তিন বছরে ৫টি ট্রফি এনে দিয়ে নজর কাড়েন রিয়াল মাদ্রিদের। সেখানে গিয়ে ২০১০ থেকে ২০১৪ পর্যন্ত ৬টি শিরোপা, একটি চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনালে ম্যাচসেরা খেতাব—সবই নিজের করে নেন।
এরপর পিএসজিতে ৭ বছরে ১৯টি ট্রফির মালিক, যদিও একটিমাত্র চ্যাম্পিয়নস লিগ শিরোপা অধরাই রয়ে যায়। এরপর এক বছর জুভেন্টাসে, পরে ফেরেন নিজের শুরুর ক্লাব বেনফিকায়। সেখানে গিয়েই নিজের বৃত্তপূরণ করলেন।
গতকালের ম্যাচে মাঠের ভেতর আর বাইরে ঝড়—দুইই চলেছে। একদিকে প্রাকৃতিক দুর্যোগ, অন্যদিকে হৃদয়ের ঝড়—যার বহিঃপ্রকাশ হলো ম্যাচশেষে দি মারিয়ার চোখের অশ্রু। কান্না ছিল বিদায়ের, ছিল গর্বের।
৩৭ বছর বয়সেও ক্লাব বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়ে প্রমাণ করলেন, তার শরীর হয়তো ক্লান্ত, কিন্তু ফুটবল হৃদয় আজও নবীন।
৪টি পেনাল্টি, ৪টি গোল—প্রত্যেকটিতেই নিখুঁত শট। দি মারিয়া বরাবরই ছিলেন সেই ‘আনসাং হিরো’, যার কাজটাই ছিল নীরব সাফল্য গাথা। তাই এবারও চোখের জলে বললেন বিদায়।
এই সেই দি মারিয়া, যিনি কোপা আমেরিকা, ফিনালিসিমা এবং বিশ্বকাপ—সব ফাইনালেই গোল করেছেন। রিয়ালের চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনালের ম্যাচসেরা, আর্জেন্টিনার বর্ষসেরা ফুটবলার, কিন্তু কখনোই নিজেকে তুলে ধরেননি প্রচারের আলোয়।
আজ সব হিসাবের খাতা বন্ধ করে ইউরোপীয় অধ্যায়টিও রেখে গেলেন অতীতে। জাতীয় দলকে বিদায় দিয়েছিলেন কোপার সোনা ছুঁয়ে, এবার রোজারিওতেই বাজবে তাঁর ফুটবল জীবনের শেষ সুর। আর সেটা হবে হয়তো তার চিরচেনা নীরবতায়।