বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:২০ পূর্বাহ্ন
“৯৮ বছর বয়সেও প্রেমে বুঁদ! বৃদ্ধার ‘মেসিকে বিয়ে করো’ প্ল্যাকার্ডে ভাইরাল মজার কাণ্ড…”
অনলাইন ডেস্ক
খেলার মাঠে সাড়া ফেলার জন্য আজকাল আর গোল বা ছক্কাই যথেষ্ট নয়, গ্যালারির প্রতিটি মুহূর্তও যেন একেকটা চমক। সম্প্রতি ইন্টার মায়ামি বনাম পালমেইরাসের ম্যাচে তেমনই এক দৃশ্য দেখে চমকে উঠেছে পুরো ইন্টারনেট। কারণ? গ্যালারিতে বসে থাকা এক বৃদ্ধা—৯৮ বছর বয়সী পলিন কানা—একটি প্ল্যাকার্ড হাতে তুলে ধরেছেন, যাতে লেখা, “Messi, will you marry me?”
হ্যাঁ, ভুল পড়ছেন না। ৯৮ বছর বয়সেও জীবনের মজা নিতে পিছপা নন এই ‘গ্রানি স্মিথ’। লিওনেল মেসিকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে সেই মুহূর্তেই তিনি হয়ে যান সোশ্যাল মিডিয়ার ভাইরাল সেনসেশন।
ঘটনাটি ঘটে মায়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে, ক্লাব বিশ্বকাপের গুরুত্বপূর্ণ এক ম্যাচে। ম্যাচটি শেষ হয় ২-২ গোলে ড্রতে, তবে গ্যালারির এই অদ্ভুত মুহূর্ত মাঠের ফলাফলের চেয়েও বেশি চর্চিত হয়ে ওঠে।
ম্যাচের বিরতিতে মেসি যখন মাঠেই ছিলেন, তখন গ্যালারি থেকে পলিন চিৎকার করে ডাক দেন তাঁকে। সেই সঙ্গে হাতে ধরা ছিল সেই বিখ্যাত প্ল্যাকার্ড। দূর থেকে মেসিও মিষ্টি হাসি দিয়ে বৃদ্ধাঙ্গুলি তুলে ও হাত নেড়ে তাঁকে সাড়া দেন।
পলিন শুধু এক বৃদ্ধা নন—তিনি এক অনুপ্রেরণা। যুক্তরাষ্ট্রের সোশ্যাল মিডিয়া তারকা রস স্মিথের দাদি। রসের মজাদার টিকটক ভিডিওতে প্রায়ই দেখা যায় তাঁকে। দাদির সঙ্গে নানা রকম হাস্যরসের ভিডিওর জন্য টিকটকে রসের অনুসারীর সংখ্যা ২ কোটি ৩০ লাখের বেশি!
পলিন, যাকে সবাই ‘গ্রানি স্মিথ’ বলে চেনেন, তিনি এর আগে NFL এবং WWE ম্যাচেও রসের সঙ্গে অংশ নিয়েছেন। বয়সের চেয়ে তারুণ্যই তাঁর আসল পরিচয়।
মেসিকে পলিনের বিয়ের প্রস্তাবের ছবি ছড়িয়ে পড়ার পর ইনস্টাগ্রামে অনেকেই মজা করে মন্তব্য করেছেন। কেউ লিখেছেন, “এই প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আন্তোনেল্লাও হার মানবে!”
কেউ আবার বলেছেন, “এটাই প্রমাণ করে বয়স শুধু একটা সংখ্যা!”
আরও অনেকে প্রশংসা করেছেন পলিনের জীবনের প্রতি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি ও আনন্দ উপভোগের মনোভাবের।
যদিও লিওনেল মেসি অনেক আগেই নিজের হৃদয় অন্য কারও হাতে তুলে দিয়েছেন। ২০১৭ সালে তিনি বিয়ে করেন তাঁর দীর্ঘদিনের প্রেমিকা আন্তোনেল্লা রোকুজ্জোকে। এই দম্পতির রয়েছে তিনটি সন্তান।
তবে পলিনের এই প্রস্তাবকে কেউই খুব একটা সিরিয়াসলি নেয়নি—বরং এটা ছিল মজার ছলে করা এক ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ, যেটা মেসিও বুঝেছেন। তাই তো তিনিও হাসিমুখে ‘না’ বলেননি, শুধু বুঝিয়ে দিয়েছেন—এই মুহূর্তে তাঁর হৃদয়ে স্থায়ী কেউ আছেন।
এই ঘটনার ভেতরে লুকিয়ে আছে এক গভীর বার্তা—জীবন উপভোগ করতে বয়স কোনো বাধা নয়। ভালোবাসা, রোমাঞ্চ, এবং হাস্যরস সব বয়সেই জীবনের অংশ হতে পারে।
পলিন কানা হয়তো বিয়ের প্রস্তাবের মাধ্যমে মেসিকে নিজের ভালোবাসা জানিয়েছেন, তবে কোটি কোটি মানুষকে যেন তিনি মনে করিয়ে দিয়েছেন—জীবন যতটা সম্ভব হালকা করে উপভোগ করাই শ্রেষ্ঠ।