মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬, ০৪:২৫ পূর্বাহ্ন
গোপন চ্যাট কি আর গোপন থাকছে? মেটা এআই নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ
অনলাইন ডেস্ক
মেটা যখন তাদের অত্যাধুনিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক অ্যাপ ‘মেটা এআই’ বাজারে আনে, তখন প্রযুক্তি জগতে এক নতুন যুগের সূচনা বলে বিবেচনা করা হয়েছিল। হোয়াটসঅ্যাপ, ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও মেসেঞ্জারের বাইরে এবার মেটার নিজস্ব অ্যাপে চালু হয়েছে এই ভার্চ্যুয়াল সহকারী সেবা। তবে যতটা না স্বস্তির, তার চেয়ে বেশি অস্বস্তির কারণ হয়ে উঠছে এই অ্যাপ—বিশেষ করে প্রাইভেসি সচেতন ব্যবহারকারীদের জন্য।
ব্যবহারকারীরা এখানে এআই-কে নানা প্রশ্ন করছেন, ছবি আপলোড করে দিচ্ছেন, কেউ কার্টুন বানাচ্ছেন, কেউ আবার রূপচর্চা বা সম্পর্ক নিয়ে পরামর্শ নিচ্ছেন। সমস্যা হলো—এদের অনেকেই বুঝতেই পারছেন না, কোন চ্যাট বা ছবি সবার জন্য দৃশ্যমান হয়ে যাচ্ছে।
মূল অভিযোগ: ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত বার্তা, প্রশ্ন বা ছবি ডিসকভার ফিডে চলে যাচ্ছে জনসমক্ষে। মেটার পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, “শুধু ব্যবহারকারী নিজে ‘শেয়ার’ বা ‘পাবলিশ’ বোতামে চাপ দিলে তবেই তা দৃশ্যমান হয়।”
তবে বাস্তব চিত্র একটু ভিন্ন।
মেটা এআই অ্যাপের চ্যাট ইন্টারফেসে থাকা একটি ছোট ‘শেয়ার’ বোতাম প্রেস করলে প্রিভিউ স্ক্রিন আসে। সেখানে ক্ষুদ্র এক লাইনে লেখা থাকে, “আপনার প্রম্পট প্রকাশ্যে দৃশ্যমান হবে।” কোথায় প্রকাশ হবে, কে দেখবে, সেই তথ্য নেই। ফলে অনেকেই না বুঝেই চ্যাট বা ছবি প্রকাশ করে ফেলছেন।
ইন্ডিয়া টুডের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, এই ডিসকভার ফিড ঘেঁটে দেখা গেছে—ব্যক্তিগত আলাপচারিতা, হাস্যকর কথোপকথন, সম্পর্ক বিষয়ক প্রশ্ন, এমনকি গোপনীয় ছবি পর্যন্ত প্রকাশ হয়ে গেছে। এতে যেমন বিব্রতকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে, তেমনি প্রশ্ন উঠছে ব্যবহারকারীর তথ্য নিরাপত্তা নিয়ে।
প্রযুক্তি বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ধরনের প্ল্যাটফর্মে শেয়ারিং অপশন এবং সতর্কতা স্বচ্ছ ও জোরালো হওয়া উচিত। একটি ভার্চ্যুয়াল সহকারী অ্যাপে ভুল বোঝাবুঝির কারণে প্রাইভেট ডেটা যদি পাবলিক হয়ে যায়, তাহলে সেটি নিছক অস্বস্তি নয়—বরং সরাসরি নিরাপত্তা হুমকি।
মেটার একজন মুখপাত্র বলেন, “শেয়ার বা পাবলিশ বাটন ছাড়া কিছুই ফিডে যায় না।” কিন্তু ব্যবহারকারীরা বলছেন, বাটনের ডিজাইন এবং সতর্কবার্তা এতটাই অস্পষ্ট যে অনেকেই বিষয়টি বুঝতেই পারছেন না।
তথ্য প্রযুক্তির এই সময়ে যেখানে প্রাইভেসি দিন দিন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে, সেখানে এমন অ্যাপ ব্যবহার করার আগে সাবধান হওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। শেয়ার বোতামে ক্লিক করার আগে অন্তত তিনবার ভাবুন—আপনার প্রশ্নটা কি সত্যিই সবার জানার দরকার?