বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৪২ পূর্বাহ্ন
শক্তিশালী বিদ্যুৎ, স্মার্ট সেন্সর—অটোমোবাইল দুনিয়ায় বড় বিপ্লবের সুর
অনলাইন ডেস্ক
বিশ্বজুড়ে অটোমোবাইল খাত এখন বিশাল এক পরিবর্তনের মুখে দাঁড়িয়ে। ডিজেল-পেট্রোলের দিন কি তবে ফুরিয়ে এলো? বৈদ্যুতিক গাড়ি, হাইব্রিড ইঞ্জিন, অটোনোমাস ড্রাইভিং—সব মিলিয়ে গাড়ির ভবিষ্যৎ যেন আগের চেনা রাস্তায় আর নেই।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আগামী ১০ বছরে যেসব গাড়ি রাস্তায় দাপিয়ে বেড়াবে, তাদের বেশিরভাগই হবে বিদ্যুৎ চালিত, অধিকাংশই চালকহীন এবং প্রায় সবকটাই ইন্টারনেট কানেক্টেড।
ইতিমধ্যেই টেসলা, বিএমডব্লিউ, মার্সিডিজ, ফোর্ড, হোন্ডা সহ বহু প্রতিষ্ঠান তাদের ইভি (ইলেকট্রিক ভেহিকল) লাইনআপ বিস্তৃত করছে। ভারতের মতো উন্নয়নশীল দেশেও টাটা ও মাহিন্দ্রার ইভি গাড়িগুলোর চাহিদা বাড়ছে হু হু করে। বাংলাদেশেও এসেছে ইভি গাড়ির হাওয়া—ঢাকায় দেখা মিলছে টেসলার গাড়ি, চীনা ব্র্যান্ডের বৈদ্যুতিক ট্যাক্সি।
তবে শুধু ইঞ্জিন বা জ্বালানি নয়, গাড়ির কনসেপ্ট বদলে দিচ্ছে ‘স্মার্ট’ প্রযুক্তি। এখনকার মডেলগুলোতে আছে অ্যাডভান্সড ড্রাইভার অ্যাসিস্ট সিস্টেম (ADAS), সেলফ-পার্কিং, ভয়েস কমান্ড, রিয়েল টাইম জিপিএস, এমনকি আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স।
বিশ্বব্যাপী পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির প্রতি ঝোঁক বাড়ায় ইঞ্জিনিয়াররা ইকো-ফ্রেন্ডলি উপকরণ ব্যবহার করছে গাড়ি তৈরিতে। রিসাইক্লেবল প্লাস্টিক, বায়ো ফাইবার, এমনকি ভেজিটেবল-বেইজড পেইন্ট ব্যবহার হচ্ছে গাড়ির বডিতে।
বিশ্বজুড়ে যাত্রীদের ভরসা হয়ে উঠছে সেল্ফ-ড্রাইভিং ট্যাক্সি। গুগলের ওয়েমো, আমাজনের জুক্স ইতিমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের রাস্তায় পরীক্ষামূলক চলাচল করছে।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এখনো বড় পরিসরে ইভি গাড়ির ব্যবহার না হলেও বাজার তৈরি হচ্ছে ধীরে ধীরে। ব্যাটারি চার্জিং স্টেশন, সরকারি কর ছাড় এবং প্রণোদনা দিলে আগামী কয়েক বছরেই দেশে বৈদ্যুতিক গাড়ির সংখ্যা হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আশা করছেন বিশ্লেষকেরা।
তবে চ্যালেঞ্জও কম নয়। বিদ্যুৎ সরবরাহের অপ্রতুলতা, চার্জিং ইনফ্রাস্ট্রাকচারের ঘাটতি এবং যন্ত্রাংশের উচ্চমূল্য এখনো সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে রাখছে আধুনিক গাড়িগুলোকে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো, সরকারি সহায়তা, ট্যাক্স ছাড় এবং জনসচেতনতা বাড়ালে গাড়ির ভবিষ্যৎ হতে পারে আরও ইকো-ফ্রেন্ডলি, টেকনোলজি-সক্ষম ও নিরাপদ।
সব মিলিয়ে বলা যায়, রাস্তায় এখন শুধু গাড়ি নয়, চলছে প্রযুক্তির দৌড়। আর এই দৌড়ে যে টিকবে, তার নামই হতে পারে আগামী দিনের ‘স্মার্ট ড্রাইভিং’।