শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ০২:৪৮ পূর্বাহ্ন
নতুন বছরের প্রথম দিনে শিক্ষার্থীদের হাতে সব বই পৌঁছানোর বিষয়টি এখন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। শিক্ষার্থীদের নতুন পাঠ্যবই দেওয়া শুরু হতে আগামী মার্চ পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। মার্চের প্রথম সপ্তাহ থেকেই রোজা ও ঈদের ছুটি শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বই হাতে পাওয়ার পর যদি ছুটি চলে আসে, তবে এপ্রিলের দ্বিতীয় সপ্তাহের আগে পুরোপুরিভাবে ক্লাস শুরু করা সম্ভব হবে না।
এতে এক বছরের সিলেবাস আট মাসের মধ্যে শেষ করতে হবে। এতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বড় ধরনের শিখন ঘাটতি দেখা দিতে পারে। জানা গেছে, প্রথম থেকে তৃতীয় শ্রেণির বইয়ের ছাপার কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। এই বইয়ের সংখ্যা প্রায় পাঁচ কোটি।
এরপর ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণির ১২ কোটি বইয়ের কার্যাদেশ এবং চুক্তিপত্র চূড়ান্ত হয়ে এই সপ্তাহেই ছাপার কাজ শুরু হয়েছে। তবে ১০ ও ১১ ডিসেম্বর চতুর্থ, পঞ্চম এবং অষ্টম শ্রেণির বইয়ের কার্যাদেশ দেওয়া হলেও প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষ না হওয়ায় প্রেস মালিকদের সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন হয়নি। ফলে এই তিন শ্রেণির বইয়ের কাজ শুরু হয়নি। নবম ও দশম শ্রেণির বইয়ের দরপত্র প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে, কিন্তু মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পরবর্তী কার্যাদেশ এখনো দেওয়া হয়নি।
স্কুল ও কলেজে সাধারণত এক শিক্ষাবর্ষে ৭৬ দিনের ছুটি থাকে। এর সঙ্গে সাপ্তাহিক ছুটি হিসেবে আরো ১০৪ দিন বন্ধ থাকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। সে হিসেবে এক বছরে ক্লাস-পরীক্ষা চলে ১৮৫ দিন, আর এই হিসাবেই শিক্ষাক্রম প্রণয়ন করা হয়।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, আগামী মার্চের প্রথম থেকে রোজা এবং ঈদের ছুটি শুরু হবে। বই হাতে পাওয়ার পর যদি ছুটি চলে আসে, তাহলে এপ্রিলের দ্বিতীয় সপ্তাহ ছাড়া পুরোপুরিভাবে ক্লাস শুরু করা সম্ভব নয়। এতে এক বছরের সিলেবাস আট মাসে শেষ করতে হবে। শিক্ষকরা যতই পড়া চাপিয়ে দিতে চেষ্টা করুন, শিক্ষার্থীরা তা সঠিকভাবে আয়ত্ত করতে পারবে না। এর ফলে আগামী বছরে বড় ধরনের শিখন ঘাটতি হতে পারে।
শিক্ষকরা বলছেন, গত দুই বছর নতুন শিক্ষাক্রমে পড়াশোনা করেছে শিক্ষার্থীরা, যেখানে ভিন্নধর্মী পড়াশোনার কারণে শিক্ষার্থীদের তেমন চাপ নিতে হয়নি। কিন্তু এখন হঠাৎ আগের শিক্ষাক্রমে ফিরে যেতে হয়েছে। এতে শিক্ষার্থীরা মানিয়ে নিতে খুব একটা সফল হতে পারেনি। অনেক শিক্ষার্থীই এই বছর বার্ষিক পরীক্ষায় খুব খারাপ করেছে। যদি আবার বই পেতে পেতে তিন মাস চলে যায়, তাহলে শিক্ষার্থীদের জন্য বড় ধরনের সমস্যা হতে পারে।
রাজধানীর মোহাম্মদপুরের কিশলয় বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ মো. রহমত উল্লাহ গণমাধ্যমকে জানান, ‘শিক্ষার্থীরা যেভাবে পড়াশোনায় আগ্রহ হারিয়েছে, যদি বই দেরিতে আসে, তাহলে এক বছরের শিক্ষাক্রম কম সময়ে শেষ করতে হবে। এতে শিক্ষকদের ওপর যেমন চাপ পড়বে, তেমনি শিক্ষার্থীদের ওপর আরো বেশি চাপ আসবে। যেসব শিক্ষার্থী চাপ নিতে পারবে না, তারা শিখন ঘাটতিতে পড়বে। তবে আমরা সাধারণত লক্ষ্য করি, ক্লাস না হলে শিক্ষার্থীরা স্কুলে আসে না। তাই যত দিন পুরোপুরিভাবে ক্লাস শুরু না হয়, তত দিন সহশিক্ষা কার্যক্রম জোরদার করার পরামর্শ দেওয়া হবে।’