শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:২৮ পূর্বাহ্ন
🔥 ঈদুল ফিতরের সবচেয়ে বড় জামাত! শোলাকিয়ায় মুসল্লিদের ঢল, প্রস্তুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী! 🔥
বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ঈদুল ফিতরের জামাতের জন্য ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দান প্রস্তুত। এবার ১৯৮তম ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে, যা সকাল ১০টায় শুরু হবে। দীর্ঘ ১৫ বছর পর ইমামতি করতে ফিরছেন আলোচিত ইমাম মুফতি আবুল খায়ের মুহাম্মদ ছাইফুল্লাহ।
মুসল্লিদের জন্য পাঁচ স্তরের কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এবার আরও বেশি মুসল্লির সমাগম হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন। উপমহাদেশের অন্যতম বৃহত্তম ঈদগাহ হিসেবে পরিচিত এ মাঠে প্রায় তিন লক্ষাধিক মুসল্লি একসঙ্গে নামাজ আদায় করেন। ঐতিহ্য অনুযায়ী, জামাত শুরুর আগে শর্টগানের ফাঁকা গুলির শব্দে সংকেত দেওয়া হবে।
ঐতিহাসিকভাবে, ১৮২৮ সালে এখানে প্রথম ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। মোগল আমলে এখানকার পরগনার রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ ছিল ‘শ লাখ টাকা’, যা থেকে ‘শোলাকিয়া’ নামের উৎপত্তি। জমিদার দেওয়ান মান্নান দাদ খান ১৯৫০ সালে সাড়ে তিন একর জমি ওয়াক্ফ করেন, যা পরবর্তীতে আরও সম্প্রসারিত হয়। জমিদারদের ঘোড়ার গাড়িতে আগমন, ঢাক-ঢোল বাজানো এবং পথে পথে মুদ্রা ছিটানোর ঐতিহ্য আজও মানুষের মুখে মুখে।
নিরাপত্তার জন্য এবার নজিরবিহীন ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ঈদগাহ এলাকায় ছয়টি পর্যবেক্ষণ টাওয়ার, চারটি ড্রোন ক্যামেরা এবং তিনটি আর্চওয়ে বসানো হয়েছে। মুসল্লিদের শুধু জায়নামাজ ও মোবাইল ফোন আনতে অনুমতি দেওয়া হয়েছে, তবে ছাতা, ব্যাগ ও অন্যান্য ডিভাইস নিষিদ্ধ। ঈদের দিন মুসল্লিদের সুবিধার্থে ‘শোলাকিয়া এক্সপ্রেস’ নামে দুটি বিশেষ ট্রেন চলাচল করবে।
শোলাকিয়ার ঈদ জামাত শুধু ধর্মীয় নয়, সামাজিক-ঐতিহাসিকভাবেও গুরুত্বপূর্ণ। মুসল্লিদের বিশ্বাস, বড় জামাতে নামাজ আদায় করলে বেশি সওয়াব পাওয়া যায়, তাই প্রতিবছর লক্ষাধিক মানুষ এখানে ছুটে আসেন। এবার এক লাখ নতুন মুসল্লি যোগ দেবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ইমাম মুফতি আবুল খায়ের মুহাম্মদ ছাইফুল্লাহ বলেন, ‘ইমামতি ফিরে পেয়ে আমি আনন্দিত। আশা করি, ভবিষ্যতে ধর্মীয় বিষয়ে আর কোনো হস্তক্ষেপ হবে না।’
ঈদ জামাতকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে। র্যাব, পুলিশ, বিজিবি ও আনসার সদস্যরা নিরাপত্তা নিশ্চিত করবেন। মাঠে সেনাসদস্যদের বিশেষ টহল থাকবে।
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হাছান চৌধুরী বলেন, ‘শোলাকিয়ায় ছয় লাখের বেশি মুসল্লি হতে পারে। সে অনুযায়ী নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’
ঈদের দিন শোলাকিয়া ঈদগাহ পরিণত হবে জনসমুদ্রে, যেখানে ইতিহাস, ঐতিহ্য ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য একসঙ্গে মিশে যাবে।