শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:১১ অপরাহ্ন
বিশেষ প্রতিবেদন | জনতার জাগরণ
বগুড়ায় এক ব্যবসায়ী ভয়ঙ্কর প্রতারণার শিকার হয়েছেন। আবুল হাসান রাকিব, একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, ২০১৭ সালে আলহাজ্ব মোহাম্মদ সাইরুল ইসলামের কাছ থেকে একটি দোকান কেনার জন্য ২০ লাখ টাকা পরিশোধ করেন। চুক্তি অনুযায়ী, তিনি নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে চুক্তি স্বাক্ষরও করেন, কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে দোকানের মালিকানা হস্তান্তর করা হয়নি। সীমানা সংক্রান্ত জটিলতার অজুহাতে প্রতারক সাইরুল ইসলাম তাকে প্রতারণা করেছেন। এর ফলে, বর্তমানে ওই ব্যবসায়ী এখন ৭০ লাখ টাকার ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন, কারণ ব্যাংক সুদসহ পুরো পরিমাণ বেড়ে গেছে।
তবে এতেই শেষ নয়। টাকা ফেরত চাইলে সাইরুল ইসলাম নানা অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করতে থাকে। এমনকি, করোনা মহামারির সুযোগ নিয়ে আরও সময় ক্ষেপণ করে এবং ব্যবসায়ী আবুল হাসান রাকিবকে হুমকি দেওয়া হয়। রাকিবের অভিযোগ, এ ঘটনার পর, স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন ও ডিবি কর্মকর্তাদের কিছু সদস্যও প্রভাবিত হয়ে হুমকি দিতে থাকে, যার ফলে, পরিবারসহ তাকে বগুড়া ছেড়ে ঢাকায় পালাতে বাধ্য হতে হয়।
ভূক্তভোগী আরও অভিযোগ করেন যে, সাইরুল ইসলাম একসময় বিএনপি নেতা পরিচয় দিয়ে ব্যবসায়ীদের ক্ষতি করেছে। পরে, তিনি আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠেন এবং ক্ষমতার অপব্যবহার করতে থাকেন। রাকিবের অভিযোগ, সাইরুল ইসলাম বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে এবং মামলার হুমকি দিলে তাকে হত্যারও চেষ্টা করা হয়। এই পরিস্থিতির ফলে, তিনি ন্যায়বিচারের জন্য আইনি সহায়তা চাচ্ছেন এবং বিএনপি হাইকমান্ডের কাছে দাবি করছেন যে, দলীয় পরিচয়ে এ ধরনের প্রতারণা চালানোদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হোক।
ভুক্তভোগীর দাবি, সাইরুল ইসলাম নিজেকে বগুড়ার সাবেক এমপি হেলালুজ্জামান তালুকদারের আত্মীয় হিসেবে পরিচয় দিয়ে জায়গা দখল ও চাঁদাবাজি করেছে। এর কারণে, তিনি বগুড়া পুলিশের পাশাপাশি আদালতেও ন্যায়বিচার পাচ্ছেন না। তিনি এখন আতঙ্কিত অবস্থায় আছেন এবং তার পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন। তিনি বিএনপির হাইকমান্ডের কাছে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপের দাবি করেছেন, যাতে দলীয় ভাবমূর্তি রক্ষা হয় এবং প্রতারকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হয়।
বিএনপি নেতা পরিচয়ে প্রতারণা চালানো, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং চাঁদাবাজি—এসব থেকে দলটি রক্ষা পাবে কিভাবে? এই প্রশ্নের উত্তর এখন সময়ের উপর নির্ভর করছে।