মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:০৯ অপরাহ্ন
মোহাম্মদ কেফায়েত উল্লাহ, খাগড়াছড়ি জেলা প্রতিনিধি
দীর্ঘ ৩ মাস ২ দিন পর রাঙামাটির কাপ্তাই লেকে মাছ ধরা নিষেধাজ্ঞা শেষে আবারও প্রাণ ফিরেছে মহালছড়ি উপজেলার মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে। রবিবার (৩ আগস্ট) সকাল হতে কাপ্তাই মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে কাপ্তাই লেকে ধরে নানিয়ারচরসহ মহালছড়ি উপজেলার বিভিন্ন স্থান হতে ইঞ্জিন চালিত বোটে করে জেলেরা সারি সারি চাপিলা, কাচকি, আইড়, বাইম মাছ, ফলাই, শিং মাছ সহ নানা জাতের মাছের ড্রাম নিয়ে ভীড় করছে জেলের বোট। আর ব্যবসায়ীরা শুল্ক পরিশোধ করে সেসব মাছ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পৌঁছাতে বরফ দিয়ে সংরক্ষণের ব্যবস্থা করে তুলছে ট্রাকে। ব্যবসায়ী এবং জেলেদের মাঝে দীর্ঘদিন পর কর্মচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে। এসময় সবাই ব্যস্ত।
মহালছড়ি মৎস্য উন্নয়ন উপকেন্দ্রের প্রধান মোঃ নসরুল আহমেদ জানান, রবিবার (২ আগস্ট) সকাল ৬ টা হতে সন্ধ্যা ৬ টা পর্যন্ত এই অবতরণ কেন্দ্রে ৭ লাখ টাকা রাজস্ব আয় হয়েছে। এসময় ৩০ হাজার কেজি বিভিন্ন জাতের মাছ ব্যবসায়ীরা এই অবতরণ কেন্দ্রে শুল্ক দিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে নিয়ে গেছেন। প্রতি বছরের ১ মে থেকে ৩১ জুলাই পর্যন্ত তিন মাসের নির্ধারিত নিষেধাজ্ঞা শেষে লেকে মাছ ধরা শুরু হলেও এই বছর বিএফডিসির প্রস্তুতির জন্য আরও ২ দিন বাড়িয়ে ২ আগস্ট পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞার ৯৪ দিন মেয়াদ বর্ধিত করা হয়।
অবতরণ কেন্দ্রে কথা হয় মৎস্য ব্যবসায়ী মো: সাইদুল ইসলাম এর সাথে তাঁরা বলেন, আজকে এখানে চাপিলা, কাচকি, আইড়, ছোট চিংড়ি মাছ এসেছে। পানি বেশি থাকায় বড় মাছ ধরা পড়ে নাই, পানি কমলে বড় মাছ ধরা পড়বে। এই মাছ গুলো ব্যবসায়িরা বরফ দিয়ে ঢাকা সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে নিয়ে যাচ্ছে।
মহালছড়ি মৎস্য ব্যবসায়ী সমিতির দপ্তরে কথা হয় সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ আবদুল মালেক বলেন,এখন লেকে পানি বেশি থাকার কারণে প্রথম দিনে মাছ আহরণ তুলনামূলক কম হলেও আমরা আশাবাদী ভবিষ্যতে পানি কমে গেলে আরো বেশি মাছ পাওয়া যাবে। দীর্ঘ তিন মাস দুইদিন পরে মাছ ধরা শুরু হওয়াতে আমাদের ব্যবসায়ীদের মধ্যে কর্মচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে। বর্তমানে এখন ছোচিংড়ি, কাচকি, চাপিলা, আইড়, বাইমসহ অন্যান্য মাছ ধরা পড়ছে। তবে লেকের পানি কমে গেলে বড় জাতের মাছ পাওয়া যাবে। এইসব মাছ স্থানীয় বাজার, খাগড়াছড়ি , ফেনী,চট্টগ্রাম সহ ঢাকার বিভিন্ন স্থানে ব্যবসায়ীরা নিয়ে যান।