সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:৫৪ অপরাহ্ন
পবিত্র ‘লাইলাতুল কদর’ বা ‘শবেকদর’র রাতে মহান আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন ইসলামিক আলোচক মাওলানা মিজানুর রহমান আজহারি।
সোমবার (১৬ মার্চ) রাত ১০টা ৫৫ মিনিটে নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ দোয়া করেন।
পোস্টে মিজানুর রহমান আজহারি লিখেছেন, ‘প্রভু হে! তুমি ক্ষমাশীল, ক্ষমা করতে ভালোবাসো, আমাদের ক্ষমা করো।’
এদিকে পবিত্র রমজান মাসের ২৭তম রজনি আজ, যা ইসলামী পরিভাষায় ‘লাইলাতুল কদর’ বা ‘শবেকদর’ নামে পরিচিত। ইসলামের বিশ্বাস অনুযায়ী হাজার মাসের চেয়েও শ্রেষ্ঠ এই মহিমান্বিত রাত। যথাযোগ্য ধর্মীয় মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে সন্ধ্যা থেকে সারা দেশে রাতটি পালন করা হচ্ছে।
প্রতি বছর রমজান মাসের ২৬ তারিখ রাতেই সাধারণত শবেকদর পালিত হয়ে থাকে। এ রাতে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা ইবাদত-বন্দেগি, দোয়া এবং বিভিন্ন নফল আমলের মাধ্যমে সময় অতিবাহিত করেন। এই রাতে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর উম্মতের মর্যাদা বৃদ্ধি করা হয় এবং মানুষের ভাগ্য নির্ধারণের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তও গ্রহণ করা হয় বলে ইসলামী বিশ্বাস রয়েছে। তাই মুসলমানদের কাছে রাতটি অত্যন্ত পবিত্র ও তাৎপর্যপূর্ণ।
২০ রমজানের পর যে কোনো বিজোড় রাত লাইলাতুল কদর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে অনেক আলেমের মতে ২৬ রমজানের রাতেই কদরের রাত হয়ে থাকে। ইসলামী ইতিহাস অনুযায়ী এই মহিমান্বিত রাতেই পবিত্র কোরআন অবতীর্ণ হয়। এ কারণে কোরআনে ‘আল-কদর’ নামে একটি পূর্ণাঙ্গ সুরা রয়েছে।
শবেকদরের রাতেই পবিত্র কোরআন নাজিল হয়েছিল। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘নিশ্চয় আমি কোরআনকে নাজিল করেছি লাইলাতুল কদরে। লাইলাতুল কদর সম্বন্ধে তুমি কি জান? লাইলাতুল কদর এক হাজার মাস অপেক্ষা উত্তম।’ (সুরা কদর : ১-৩)।
‘শবেকদর’ শব্দটি মূলত ফারসি ভাষা থেকে এসেছে। এখানে ‘শব’ অর্থ রাত বা রজনি এবং ‘কদর’ অর্থ সম্মান, মর্যাদা, গুণ বা ভাগ্য। অর্থাৎ শবেকদর মানে মর্যাদার রাত। আরবিতে একে বলা হয় ‘লাইলাতুল কদর’, যার অর্থ সম্মানিত বা মহিমান্বিত রাত।
পবিত্র কোরআনের বর্ণনা অনুযায়ী, অন্য সময়ে এক হাজার মাস ইবাদত করলে যে সওয়াব পাওয়া যায়, কদরের রাতের ইবাদতে তার চেয়েও বেশি সওয়াব লাভ করা সম্ভব। তাই বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশের মুসলমানরাও গুনাহ মাফ এবং অধিক সওয়াবের আশায় নফল ইবাদত, কোরআন তিলাওয়াত ও জিকির-আজকারের মাধ্যমে রাতটি কাটান।
হাদিসের বর্ণনায় জানা যায়, লাইলাতুল কদর রমজানের শেষ দশকের মধ্যেই নিহিত। রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা শবেকদর তালাশ করবে রমজানের শেষ দশকের বিজোড় রাতে।’ (বুখারি : ২০৫৬)। অর্থাৎ ২১, ২৩, ২৫, ২৭ ও ২৯ রমজানের যে কোনো বিজোড় রাত লাইলাতুল কদর হতে পারে।