সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:৪০ পূর্বাহ্ন
বিনোদন অঙ্গনের আলোচিত ও সবচেয়ে জমকালো আয়োজনে কাজী নওশাবা আহমেদের পরিবেশ সচেতন ফ্যাশন নজর কাড়ল সবাইকে!
অনলাইন ডেস্ক
গতকাল রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ চীন-মৈত্রী সম্মেলনকেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হল মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কারের ২৬তম আসর। বিকেল পাঁচটা থেকে শুরু হওয়া এই গ্ল্যামারাস অনুষ্ঠানে লালগালিচা ছিল তারকাদের পদচারণায় মুখর। বিশেষ করে অভিনেত্রী কাজী নওশাবা আহমেদের আলাদা ও নতুনধরনের সাজসজ্জা সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করল।
নওশাবা একটি ঝকঝকে সাদা জামদানি শাড়ির কসমোস্কার্ট পরে উপস্থিত হয়েছিলেন। জামদানির ঐতিহ্য ও ন্যাচারাল বুননের সঙ্গে মিলিয়ে সাজানো ওই স্কার্টটি ছিল ব্যতিক্রমধর্মী ও অত্যন্ত স্টাইলিশ। সঙ্গে সাদা টপ আর ফুলহাতা খোলা ব্লাউজ তাকে দিয়েছিল আধুনিকতা ও ঐতিহ্যের চমৎকার সমন্বয়। তবে সবচেয়ে আলোচিত অংশ ছিল তার মেয়ের হাতে আঁকা এক গাছের ছবি, যা নকশা শিল্পী অমিত সিনহা আবারো নতুন রূপে সাজিয়েছেন।
এই পোশাকের ধারণাটি ছিল ‘বৃক্ষনিধন বন্ধে সচেতনতা’ এবং ‘টেকসই ফ্যাশন’কে উৎসাহিত করা। শিল্পী চয়নকুমার দাশ হাতে তৈরি ধাতব সোনালি রঙের কাগজ দিয়ে গাছের শিকড় এবং শাখাগুলো বাস্তবসম্মতভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। পুরো কনসেপ্ট এবং ডিজাইন মাত্র দুই দিনের মধ্যে স্থানীয় একজন দরজির কাছ থেকে তৈরি করা হয়েছে, যা পরিবেশবান্ধব চিন্তাধারা তুলে ধরে।
তার হাতে ছিল পাটের তৈরি এক ব্যাগ, যার দু’পাশে দুইটি গভীর বার্তা জুড়ে দেওয়া — ‘পরিবেশদূষণ থেকে উত্তরণ’ এবং ‘যুদ্ধ বন্ধ করে বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠা’। হালকা গয়না এবং নজরকাড়া নাকফুল তাকে আরও করেছিল অনবদ্য আভিজাত্যের মালিক।
পুরো সাজপোশাকের মধ্যে এক ধরনের পরিবেশ সচেতন ও সামাজিক বার্তা লুকিয়ে ছিল, যা বিনোদন অঙ্গনের জন্য নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করল। এভাবেই মায়ের জামদানি আর মেয়ের সৃজনশীলতা মিলেমিশে এক অভিনব ফ্যাশন স্টেটমেন্ট তৈরি হলো, যা শুধু দৃষ্টিনন্দনই নয়, বরং অর্থবহও বটে।
নওশাবার এই পরিবেশবান্ধব অভিনব সাজসজ্জা প্রমাণ করল ফ্যাশন ও পরিবেশ সচেতনতার মধ্যে চমৎকার মিল থাকতে পারে, এবং একথা বিনোদন অঙ্গনের সবার কাছে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা পৌঁছে দিল।