বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১০:১২ পূর্বাহ্ন
লঙ্কা সিরিজ জিতলেই ইতিহাসের পাতায় টাইগারদের নাম!
অনলাইন ডেস্ক
শ্রীলঙ্কার ঘরের মাঠে দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ দল—আর সেই সঙ্গেই মিলেছে আইসিসি র্যাঙ্কিংয়ের বিরাট পুরস্কার। দ্বিতীয় ওয়ানডেতে দারুণ জয় পাওয়ার পর এক ধাপ এগিয়ে নবম স্থানে উঠে এসেছে টাইগাররা। সিরিজে ১-১ সমতা ফেরানোর এই জয়ে এবার ইতিহাস লেখার সুযোগ—শ্রীলঙ্কার মাটিতে প্রথমবারের মতো দ্বিপক্ষীয় ওয়ানডে সিরিজ জয়ের দ্বারপ্রান্তে মেহেদী হাসান মিরাজের দল।
প্রথম ম্যাচে জয় প্রায় নিশ্চিত করেও শেষদিকে ব্যাটিং ধসের কারণে হেরেছিল বাংলাদেশ। তবে দ্বিতীয় ম্যাচে সেই ভুল আর হয়নি। ব্যাট হাতে দায়িত্বশীল ব্যাটিং, আর বল হাতে তানভীর ইসলাম ও শামীম হোসেনদের আগুনঝরানো বোলিংয়ে ২৪৯ রানের লক্ষ্য ছুঁড়ে দিয়ে ১৬ রানের জয়ে সিরিজে সমতা ফেরায় টাইগাররা।
এই এক জয়ের মাধ্যমেই মিলেছে র্যাঙ্কিংয়ের ‘গিফট’। আইসিসির সর্বশেষ হালনাগাদ ওয়ানডে র্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশ উঠে এসেছে নবম স্থানে, রেটিং পয়েন্ট ৭৮। এক পয়েন্ট কম নিয়ে দশম স্থানে নেমে গেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। সিরিজ শুরু হওয়ার আগে বাংলাদেশের রেটিং ছিল ৭৬, আর তখন থেকেই আলোচনায় ছিল—একটি জয়েই সম্ভব নবম স্থানে পৌঁছানো।
অন্যদিকে, এই হারের জেরে শ্রীলঙ্কাও পড়েছে ধসের মুখে। এক ধাপ নেমে তারা এখন রয়েছে পঞ্চম স্থানে, রেটিং পয়েন্ট ১০২। এই সুযোগে চারে উঠে এসেছে পাকিস্তান (১০৪ পয়েন্ট)। শীর্ষ তিনে যথারীতি ভারত, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড। তবে র্যাঙ্কিংয়ের এই অগ্রগতি শুধু সংখ্যার খেলা নয়—এই সাফল্যের সঙ্গে জড়িয়ে আছে ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপে সরাসরি খেলার বড় স্বপ্ন। ওই বিশ্বকাপে সরাসরি অংশ নিতে র্যাঙ্কিংয়ে থাকতে হবে সেরা আটে—যার চূড়ান্ত হিসাব হবে ২০২৭ সালের ৩১ মার্চে।
তাই প্রতিটি সিরিজ এখন টাইগারদের জন্য মূল্যবান—প্রতিটি জয় ভবিষ্যতের সিঁড়ি। এখন চোখ শেষ ম্যাচে, যা সিরিজ নির্ধারণ করবে। সেই ম্যাচে জয় মানেই ইতিহাস, কারণ শ্রীলঙ্কার মাঠে এখনো বাংলাদেশ কোনো ওয়ানডে সিরিজ জিততে পারেনি। এর আগে ৬টি দ্বিপক্ষীয় সিরিজে টাইগাররা হেরেছে ৪টি এবং দুটি সিরিজ শেষ হয়েছে ড্র-এ।
এবার যদি জয় আসে, তাহলে শুধু ইতিহাসই নয়, র্যাঙ্কিংয়ের ব্যবধানও বাড়বে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গে। যদিও শেষ ম্যাচ জিতলেও বাংলাদেশ আরও উপরে উঠতে পারবে না, তবে রেটিং পয়েন্ট বাড়িয়ে ভবিষ্যতের জন্য শক্ত ভিত গড়া সম্ভব হবে।
এই জয় কেবল মাঠের লড়াই নয়—এটা ভবিষ্যতের স্বপ্ন, র্যাঙ্কিংয়ের লড়াই এবং জাতীয় ক্রিকেট ইতিহাসে নতুন অধ্যায় রচনার চূড়ান্ত সুযোগ। টাইগারদের লক্ষ্য এবার ইতিহাস লেখা, এবং সেই সঙ্গে আগামীর দিগন্ত নির্মাণ—জানাচ্ছে।