রবিবার, ৩১ মে ২০২৬, ০৮:০৫ পূর্বাহ্ন
প্রতিবছর অক্টোবরের আগমনে মনে এক অদ্ভুত উচ্ছ্বাস জাগে, যেন উত্তরের দিকে এক নতুন অভিযানের ডাক শোনাই। দেশের সর্ব উত্তরের উপজেলা তেঁতুলিয়া, যেখানে স্বপ্নের পর্বত কাঞ্চনজঙ্ঘা উঁকি দেয়। দার্জিলিংয়ের কার্শিয়াং পাহাড়ের ওপরে দাঁড়িয়ে থাকা পৃথিবীর তৃতীয় উচ্চতম পর্বতটিকে সারা বছর এক ধরনের উন্মাদনা নিয়ে অপেক্ষা করি—আসলে এই সৌন্দর্যকে দেখার জন্য বারবার ছুটে যাই তেঁতুলিয়া।
পঞ্চগড়ের বাসিন্দা হিসেবে ছোটবেলা থেকেই কাঞ্চনজঙ্ঘা, পান্ডিম, কুম্ভকর্ণ, সিনিওলচুর মতো পর্বতশৃঙ্গের রূপ আমি দেখেছি। প্রতিবছর নতুন করে দেখতে যাওয়ার আনন্দ কখনো পুরোনো হয় না; বরং, সমতল থেকে পর্বতের প্রতি আগ্রহ আরও বাড়ে।
এক অক্টোবরের সকালে বন্ধু লেমন ফোন করে বলল, “পর্বত দেখা যাচ্ছে!” শুনে মনে হলো যেন হৃদয়ের গতি বেড়ে গেল। শরীফ ও তুষারকে নিয়ে রওনা দিলাম। তেঁতুলিয়া পৌঁছাতে রাত হয়ে গেল। জেলা পরিষদের ডাকবাংলোতে রাত কাটানোর ব্যবস্থা করে শীতের কাপড় নিয়ে আসা ভুলিনি, কারণ অক্টোবরেই এখানে শীত নেমে আসে।
মহানন্দার পাড়ে ঠান্ডা হাওয়া গায়ে লাগিয়ে আড্ডা দিতে দিতে রাত কাটালাম। ভোরে ওঠার কথা মনে করে ঘুমিয়ে পড়লাম। ভোর চারটায় শরীফের মোবাইলের অ্যালার্মে ঘুম ভাঙল। অবশেষে বের হলাম। ছয়টা বাজতেই কাঞ্চনজঙ্ঘা পুরো রূপালী রঙে ধরা দিল। এ যেন এক অপার্থিব দৃশ্য! সোনালি আলোয় পর্বতগুলো রুপার মতো ঝলমল করছে।
কৃষকরা মাঠে কাজ শুরু করেছে, বকের মতো অলস পাখিরাও জেগে উঠছে। আমরা আনন্দে ছবি তুলতে লাগলাম, কারণ সোনালি আভা মাত্র ১৫-২০ মিনিট স্থায়ী হয়। এই মুহূর্তগুলো, এই স্বর্গীয় সৌন্দর্য, প্রকৃতির সঙ্গে একাত্ম হয়ে যাওয়া—এটাই আমাদের জীবনের আসল আনন্দ!