বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ১১:০৬ অপরাহ্ন
তানজিলুল ইসলাম লাইক, রাজশাহী জেলা
রাজশাহীতে দীর্ঘ তিন বছর ধরে অন্ধকারে ঢাকা একটি ক্লুলেস হত্যা মামলার অবশেষে চাঞ্চল্যকর মোড় এনে দিল পিবিআই। এক বিধবার রহস্যময় হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত ব্যক্তি যখন আইনের জালে ধরা পড়ে, তখন উন্মোচিত হয় এক নারকীয় প্রতিশোধের রক্তাক্ত কাহিনি। ঘটনাটি ঘটে ২০২১ সালের ১৪ জুলাই, যখন রাজশাহীর পুঠিয়া থানায় এক অজ্ঞাত আসামির বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।
মামলার জট খুলতে না পারায় আদালতের নির্দেশে তদন্তভার দেওয়া হয় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ পিবিআইকে। এরপর পিবিআই প্রধান অ্যাডিশনাল আইজিপি (চলতি দায়িত্বে) মোস্তফা কামালের নির্দেশনায়, পিবিআই রাজশাহীর পুলিশ সুপার (বর্তমানে অতিরিক্ত ডিআইজি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত) মনিরুল ইসলামের সার্বিক তত্ত্বাবধানে এবং উপ-পুলিশ পরিদর্শক (নি:) মতিউর রহমানের নেতৃত্বে গঠিত একটি চৌকস দল আধুনিক প্রযুক্তি ও গোপন তথ্যের ভিত্তিতে এক গোপন অভিযানে নামে।
চলতি বছরের ১৩ মে, রাজশাহীর পুঠিয়া থানাধীন মোল্লাপাড়া গ্রামে বেলালের মদিনা ইটভাটা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় পূর্ব ধোপাপাড়া গ্রামের মৃত সন্তোষ কুমার সরকারের ছেলে শ্রী উত্তম কুমার সরকার (৩৭)-কে। পরদিন আদালতে হাজির করে রিমান্ডের আবেদন করলে ২ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর হয়। এরপর রিমান্ডে নিয়ে তাকে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে বেরিয়ে আসে হত্যার রোমহর্ষক বর্ণনা।
আসামির স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, দুই মাস আগে নিহত আতেকা নামে এক বিধবা নারী উত্তমকে তার জমির ওপর ট্রলি গাড়ি চালানো নিয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং হাঁসুয়া দিয়ে তেড়ে আসে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে উত্তম প্রতিশোধ নেওয়ার পরিকল্পনা করতে থাকে। দুই মাস পর আতেকা ছাগল চরাতে গেলে উত্তম সুযোগ বুঝে তাকে আক্রমণ করে। প্রথমে বাঁশের মুগর দিয়ে মাথায় আঘাত করে, পরে আতেকার হাত থেকে হাঁসুয়া কেড়ে নিয়ে তার গলায় উপর্যুপরি কোপ মেরে নির্মমভাবে হত্যা করে। এরপর রক্তাক্ত গেঞ্জি ধুয়ে প্রমাণ নষ্ট করে দেয়।
হত্যার পর আতেকার ছেলে আতিকুর রহমান বাদী হয়ে অজ্ঞাত আসামির বিরুদ্ধে মামলা করেন। তদন্ত শেষে পিবিআই নিশ্চিত হয়, এই হত্যাকাণ্ড ছিল ঠাণ্ডা মাথায় নেওয়া পরিকল্পিত প্রতিশোধ। রাজশাহীর পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার মনিরুল ইসলাম জানান, আসামিকে আদালতে হাজির করলে সে ১৬৪ ধারায় স্বেচ্ছায় জবানবন্দি দিয়ে নিজের অপরাধ স্বীকার করে। পরে আদালত তাকে জেল হাজতে পাঠান।
এই হত্যাকাণ্ডের জট খুলে দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্ত দক্ষতা আবারও প্রমাণ করল যে, অপরাধ যত দিনই গোপন থাকুক, শেষ পর্যন্ত সত্যই বিজয়ী হয়।