বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:০২ পূর্বাহ্ন
চেনাবের ঢেউয়ে ডুবে যেতে পারে পাকিস্তানের আশা!
অনলাইন ডেস্ক
ভারত হঠাৎ করেই চেনাব নদীর উপর নির্মিত বাঁধ খুলে দিয়েছে, আর তাতেই প্রবল স্রোতে পাকিস্তানের দিকে ধেয়ে যাচ্ছে পানির ঢল। শুস্ক মৌসুমে নদীর নাব্য সংকটে থাকা পাকিস্তান অংশ এখন ভয়াবহ প্লাবনের আতঙ্কে।
গণমাধ্যম জানায়, রোববার (১১ মে) জম্মু ও কাশ্মীরের রামবানে অবস্থিত বাগলিহার জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের আরও একটি গেট খুলে দিয়েছে ভারত। আগের দিন শনিবার দুটি গেট খোলা হয়েছিল, যেগুলো সকাল সাড়ে ৮টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত খোলা ছিল।
ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে নদীতে পানির প্রবাহ বেড়ে যাওয়ায় ভারত বাধ্য হয়ে বাঁধের চাপ কমাতে গেট খুলেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যদিও এই সিদ্ধান্তের কোনো সরকারি ব্যাখ্যা ভারতীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে আসেনি।
উল্লেখ্য, ১৯৬০ সালে বিশ্বব্যাংকের মধ্যস্থতায় স্বাক্ষরিত ‘সিন্ধু পানি চুক্তি’ অনুসারে পশ্চিমের তিনটি নদী—ইন্দাস, ঝেলাম ও চেনাব—পাকিস্তানের অধিকারে, আর পূর্বের তিনটি—রবি, বিয়াস ও সুতলেজ—ভারতের। চুক্তি অনুযায়ী, ভারত সীমিত হারে পানি ব্যবহার করতে পারলেও, প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করতে পারে না।
তবে কাশ্মীরে সন্ত্রাসী হামলার পর ভারত একতরফাভাবে এই চুক্তি স্থগিত ঘোষণা করে। এরপর থেকেই চেনাব ও ঝেলামের পানি নিয়ন্ত্রণের নানা কৌশল নিতে শুরু করে তারা। এমনকি ভারতের প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতারা প্রকাশ্যে সিন্ধুর পানি বন্ধ করার হুমকি দিয়ে আসছেন।
এই অবস্থায় পাকিস্তান-ভারত কূটনৈতিক সম্পর্ক চরম উত্তেজনার দিকে গড়ায় এবং সামরিক সংঘাতে রূপ নেয়, যা পরে যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপে একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতিতে রূপ নেয়। কিন্তু ভারত চুক্তি স্থগিতের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেনি।
দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া জানায়, চুক্তি কার্যকর না থাকায় ভারত এখন নিজেদের ইচ্ছেমতো চেনাব নদীর পানি আটকে রাখছে এবং অতিরিক্ত প্রবাহ মোকাবিলায় হঠাৎ গেট খুলে দিচ্ছে। গত সপ্তাহে কয়েকবার গেট বন্ধ ও খোলার নির্দেশ দেয় কেন্দ্রীয় সরকার।
একই অবস্থা ঝেলাম নদীতেও। ভারী বৃষ্টিতে বাধ্য হয়ে ভারত কয়েকবার গেট খুলে দিয়েছে। নিয়মিতভাবে পানি ছাড়ার এই আচরণ পাকিস্তানের জন্য মারাত্মক উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
কারণ, পাকিস্তানের সেচব্যবস্থা মূলত এই নদীগুলোর ওপর নির্ভরশীল। পানিপ্রবাহে সামান্য পরিবর্তনও তাদের কৃষি উৎপাদনে ব্যাপক প্রভাব ফেলতে পারে। পাশাপাশি দেশের এক-তৃতীয়াংশ বিদ্যুৎ আসে জলবিদ্যুৎ থেকে, যা হঠাৎ পানির কমতি বা অতিপ্রবাহ—উভয় কারণেই হুমকির মুখে পড়তে পারে।