বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:০১ পূর্বাহ্ন
“কাশ্মীরের রক্ত ঝরা ইতিহাসেই লুকিয়ে আছে উপমহাদেশের শান্তির চাবিকাঠি!”
পাকিস্তানের সাবেক পররাষ্ট্র সচিব আয়াজ আহমদ চৌধুরীর বিস্ফোরক মন্তব্যে উঠে এল ভারত-পাকিস্তান দ্বন্দ্বের গভীরতর বাস্তবতা।
জিও পাকিস্তানকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, জম্মু ও কাশ্মীরের ৯৩ শতাংশ মানুষ মুসলিম, তবুও ১৯৪৭ সালে গভীর ষড়যন্ত্রে অঞ্চলটি পাকিস্তানের হাতছাড়া হয়। চৌধুরীর দাবি, “কাশ্মীর সংকটই হচ্ছে দক্ষিণ এশিয়ার বারুদের স্তূপ, যার আগুন নিভবে না কাশ্মীরিদের মতামত ছাড়া।”
তার ভাষায়, সাম্প্রতিক ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনা আবারও প্রমাণ করে দিয়েছে—কাশ্মীর সমস্যা না মিটলে স্থায়ী শান্তি অসম্ভব। তিনি আরও বলেন, “ভারতের উচিত বুঝে নেওয়া যে কাশ্মীরিরা তাদের সঙ্গে থাকতে চায় না। দমননীতি দিয়েই সংঘাতকে আরও জিইয়ে রাখা হচ্ছে।”
আয়াজ চৌধুরীর মতে, পাকিস্তানের ‘পরিমিত প্রতিক্রিয়াতেই’ ভারতের ভীত সাড়া পাওয়া প্রমাণ করে—ন্যায়ের শক্তি এখনো হারায়নি। তিনি মনে করেন, ভারত যত দ্রুত বাস্তবতা মেনে সংলাপে বসবে, ততই দুদেশের জন্য মঙ্গল।
মানবাধিকার সংস্থাগুলো জানাচ্ছে, ২০১৯ সালে ভারত সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিল করার পর কাশ্মীরে স্বায়ত্তশাসন ও রাজনৈতিক অধিকার রুদ্ধ হয়ে যায়। রাজনীতিকদের আটক, মাসের পর মাস ইন্টারনেট বন্ধ এবং কঠোর সামরিক উপস্থিতি যেন ‘গণতন্ত্রের নামে কারাগার’।
কর্মীরা বলছেন, কাশ্মীরে আজ বাকস্বাধীনতা, মতপ্রকাশের অধিকার, এমনকি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডেও অংশ নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
একের পর এক রক্তাক্ত ঘটনার সর্বশেষ উদাহরণ—২২ এপ্রিল পেহেলগামে ভয়াবহ হামলায় ২৬ জন নিহত, যাদের বেশিরভাগই ছিলেন নিরীহ পর্যটক। ভারত দোষ দেয় পাকিস্তানভিত্তিক লস্কর-ই-তইয়্যেবাকে।
এর পাল্টা হিসেবে ৭ মে ভারত চালায় ‘অপারেশন সিন্ধুর’, হামলা হয় পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীর ও পাঞ্জাবের ১৪টি স্থানে। জবাবে পাকিস্তানও আঘাত হানে ভারতের সামরিক ঘাঁটিতে—চরম উত্তেজনায় পৌঁছায় পারমাণবিক শক্তিধর দুই প্রতিবেশীর যুদ্ধ পরিস্থিতি।
চীন, যুক্তরাষ্ট্র, সৌদি আরব ও কাতারের মধ্যস্থতায় ১০ মে যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয় দুই দেশ। কিন্তু বিশ্লেষকদের সতর্ক বার্তা, “কাশ্মীর সমস্যা উপেক্ষা করা মানেই পরবর্তী বিস্ফোরণের ঘন্টা এগিয়ে আনা।”