বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:৫৬ পূর্বাহ্ন
“কাশ্মীর হামলার বদলা নিতে পাকিস্তানে ইসরায়েলি ড্রোন পাঠিয়ে আগুন খেলছে ভারত!”
অনলাইন ডেস্ক
কাশ্মীরে প্রাণঘাতী সন্ত্রাসী হামলার জেরে ভারত-পাকিস্তানের পুরনো কূটনৈতিক বিবাদ এবার রূপ নিয়েছে ভয়াবহ সামরিক সংঘাতে। গত মঙ্গলবার (৬ মে) গভীর রাতে পাকিস্তানের অভ্যন্তরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে সংঘাতের সূচনা করে ভারত। এর জবাবে পাকিস্তান সেনাবাহিনী প্রতিরোধ গড়ে তোলে এবং ভারতীয় যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করে। দু’দেশের মধ্যে পরস্পর গোলাবর্ষণের পাশাপাশি, বৃহস্পতিবার (৮ মে) সামনে আসে নতুন এক বিতর্ক—ইসরায়েলের তৈরি আত্মঘাতী ড্রোনের ব্যবহার।
পাকিস্তান জানায়, করাচি ও লাহোরসহ অন্তত ছয়টি স্থানে ভারত ড্রোন হামলা চালিয়েছে এবং এখনও পাকিস্তানের আকাশসীমায় ভারতীয় ড্রোনের আনাগোনা চলছে। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর মুখপাত্র আহমেদ শরীফ চৌধুরী জানান, যেসব ড্রোন ভূপাতিত হয়েছে সেগুলো ইসরায়েলি হ্যারোপ মডেলের। ধ্বংসাবশেষ বিশ্লেষণে হেরন এমকে-২ ড্রোনের ইঞ্জিন ও যন্ত্রাংশ পাওয়া গেছে, যা পাকিস্তানের হাতে ভারতীয় হামলার প্রমাণ হিসেবে ধরা হচ্ছে।
হ্যারোপ, যা কার্যত এক উড়ন্ত বোমা, তা নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে নিজেকে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ধ্বংস করে দেয়। ৩৫,০০০ ফুট উচ্চতায় উড়তে সক্ষম এই ড্রোন ৯ ঘণ্টা পর্যন্ত আকাশে থেকে শত্রু অনুসন্ধান করতে পারে। শত্রুর রাডার ও বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ফাঁকি দিতে পারদর্শী হওয়ায় এটিকে বলা হয় যুদ্ধক্ষেত্রের ‘গেম চেঞ্জার’। ইসরায়েলি অ্যারোস্পেস ইন্ডাস্ট্রিজ এই ড্রোন তৈরি করলেও, এর ইঞ্জিন ব্রিটেনের ইউএভি ইঞ্জিনস লিমিটেডের তৈরি।
ভারত এই শক্তিশালী ড্রোন ব্যবহার করে পাকিস্তানের সেনাঘাঁটি, কমান্ড পোস্ট ও অস্ত্রাগারে আঘাত হানার চেষ্টা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ। কিন্তু পাকিস্তান দাবি করেছে, তারা সফট-কিল এবং হার্ড-কিল—উভয় কৌশল প্রয়োগ করে এসব ড্রোন সফলভাবে নিষ্ক্রিয় করেছে। বিভিন্ন অঞ্চলে বিস্ফোরণের তীব্র শব্দ এবং ধ্বংসাবশেষ পাওয়া গেছে, যা থেকে বোঝা যায় হামলাগুলো পরিকল্পিত হলেও সবই ব্যর্থ হয়েছে।
আইএসপিআর একে ভারতীয় বাহিনীর কৌশলগত ভীতি এবং এলওসি-তে তাদের ক্ষতির প্রমাণ বলে আখ্যা দিয়েছে। পাকিস্তান সেনাবাহিনী বলেছে, শত্রুপক্ষের সব কৌশল বানচাল করা হচ্ছে এবং প্রয়োজন হলে আরও শক্তিশালী প্রতিশোধ নেওয়া হবে।
এখন সারা উপমহাদেশজুড়ে টানটান উত্তেজনা। যুদ্ধ কি অবশ্যম্ভাবী হয়ে উঠছে? প্রশ্নটা শুধু ভারত-পাকিস্তানের নয়, গোটা বিশ্ববাসীর সামনে শঙ্কার ছায়া ফেলছে।