শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ০১:২৫ পূর্বাহ্ন
বনি আমিন, মনপুরা (উপজেলা) প্রতিনিধি
প্রচলিত প্রবাদ, ‘খাজনার চেয়ে বাজনা বেশি’—এখন বাস্তবতা হয়ে দাঁড়িয়েছে ভোলা জেলার মনপুরা উপজেলার ৪ নং দক্ষিণ সাকুচিয়া ইউনিয়নের জনতা ঘাটে। এখানে যাত্রী পারাপারে খাজনা যেন বাজনাকেও ছাড়িয়ে গেছে।
এই ঘাটে লঞ্চে পার হতে প্রতি যাত্রীকে গুণতে হয় ১০০ টাকা ভাড়া এবং ১০ টাকা ঘাট খাজনা—মোট ১১০ টাকা। আর স্পিডবোটে পারাপারে জনপ্রতি আদায় হচ্ছে ২৫০ টাকা ভাড়া ও ১০ টাকা খাজনা, মোট ২৬০ টাকা। অভিযোগ রয়েছে, ইমারজেন্সি হলে স্পিডবোটগুলো দ্বিগুণ-চতুর্গুণ ভাড়া দাবি করে। ঘাটের লোকজন খেয়ালখুশি মতো খাজনা আদায় করছে, ফলে সাধারণ যাত্রীরা পড়েছেন চরম ভোগান্তিতে।
জনতা ঘাট এলাকার অনেক স্থানীয় বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, ঘাটের ইজারাদাররা নির্ধারিত ৫ টাকার বদলে যাত্রীপ্রতি ১০ টাকা নিচ্ছেন। কেউ প্রতিবাদ করলে ঘাটের কর্মীরা মারধর পর্যন্ত করছে। এমনকি নারী যাত্রীদের গায়েও হাত তোলা হয়েছে ২ তারিখ বুধবারে। ঘটনাটির ভিডিও ধারণ করায় যাত্রীদের জিম্মি করে ভিডিও মুছে ফেলতে বাধ্য করেছে ঘাটের টিকিট দায়িত্বে থাকা জাকির, হোসেন, ও শামীম। পরবর্তীতে হোসেন স্থানীয় ক্যাডার ডেকে এনে হামলা চালান যাত্রীদের ওপর। এ ঘটনা এখন নিয়মিত চাঁদাবাজির চিত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে।
কোড়ালিয়া বাজারের একাধিক ব্যবসায়ী জানান, ঘাটে ১০ কেজির একটি কাটুনে ১০ টাকা এবং একটি বস্তায় ৫০ টাকা খাজনা আদায় করা হচ্ছে, যেখানে আদর্শ হার যথাক্রমে ২-৩ টাকা ও ২০ টাকা। প্রভাবশালীদের দাপটে ব্যবসায়ীরা কিছু বলার সাহস পান না।
সাবেক ইজারাদার আরবআলী জানান, ৫ আগস্টের পর ঘাটটি মনপুরা তহসিল অফিসের আওতায় এসেছে। ভূমি অফিস এ বিষয়ে ভালো জানে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তহসিলদার রুবেল বলেন, জনতা ঘাটের সাম্প্রতিক ঘটনা তার জানা নেই। বর্তমানে ঘাটটি সিরাজ পলবান ও জাকিরকে দেওয়া হয়েছে চৈত্র মাস পর্যন্ত।
সিরাজ পলবান জানান, ঘাটটি এখন জাকিরের অধীনে। তিনি অভিযোগ করেন, জাকির, হোসেন ও শামীম নিয়মিত যাত্রীদের উপর জুলুম করে অর্থ আদায় করছে। যেহেতু ঘাটটি এখনো ইজারা দেওয়া হয়নি, তাই তারা টিকিট ছাড়া ১০ টাকা করে নিচ্ছেন বলে জানান।
অন্যদিকে, জাকির হোসেন বলেন, বুধবার সকালে চরফ্যাশনে যাচ্ছিল বিয়ের ৩০ জন যাত্রী। টাকা চাইলে তারা গালিগালাজ ও মারধর করে। তিনি দাবি করেন, তারা প্রতি মাসে তহসিল অফিসে ২০ হাজার টাকা জমা দেন।
অভিযোগকারী যাত্রী আলমগীর (৫০) বলেন, এখন যারা ঘাটের দায়িত্বে আছে, তারা প্রভাব খাটিয়ে নিজের খেয়ালে ১০ টাকা করে আদায় করছে।
জনতা ঘাটে এমন পরিস্থিতি থাকলে, একে ‘ঘাট’ না বলে ‘ঘাঁটি’ বলা উচিত—যেখানে চলছে চাঁদাবাজি, দখলদারিত্ব আর ভয়ভীতি প্রদর্শনের খেলা।