শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৫০ অপরাহ্ন
আধ্যাত্মিক জাগরণে মুখর রাউজান: তিনদিনব্যাপী মহানাম যজ্ঞ ও মহোৎসবে ভক্তদের ঢল!
প্রকাশ দত্ত, রাউজান প্রতিনিধি
দক্ষিণ রাউজানের উত্তর গুজরা সবুজ সংঘ পরিচালিত সার্বজনীন শ্রীশ্রী জ্বালাকুমারী মাতৃমন্দিরে অনুষ্ঠিত হলো বর্ণাঢ্য অষ্টপ্রহরব্যাপী মহানাম যজ্ঞ ও বাৎসরিক পূজা মহোৎসব। ২১, ২২ ও ২৩ মার্চ আয়োজিত এ ধর্মীয় উৎসবে হাজারো ভক্তের ঢল নামে, যা এলাকাকে এক আধ্যাত্মিক আনন্দধারায় ভাসিয়ে দেয়।
ভক্তিপূর্ণ পরিবেশে মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্জ্বলন, নগরকীর্তন, শ্রীমদ্ভগবদগীতাপাঠ, গীতা আবৃত্তি, ধর্মীয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, নৃত্য, পুরস্কার বিতরণ, মহতী ধর্মসভা, অন্নপ্রসাদ বিতরণ ও অষ্টপ্রহরব্যাপী তারকব্রহ্ম মহানামযজ্ঞ অনুষ্ঠিত হয়।
উৎসবের শুভ সূচনা করেন রাউজান আদ্যাপীঠ মন্দিরের পৌরোহিত তপন চক্রবর্ত্তী, আর উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেশিঘাট শ্রীধাম বৃন্দাবন থেকে আগত অধ্যক্ষ শ্রীকৃষ্ণ দাস বাবাজী মহারাজ। গীতাপাঠ প্রতিযোগিতার বিচারক ছিলেন ভক্তপ্রাণ মানিক চক্রবর্ত্তী, বিশিষ্ট গীতাপাঠক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব গীতানুধ্যায়ী ডাঃ সুপণ বিশ্বাস (শঙ্করেশ), শিক্ষানুরাগী আকাশ দেবনাথ, সুজন দাশ ও সংগঠক সুবল শীল।
মন্দির পরিচালনা পরিষদের সভাপতি মিটু মজুমদার ও সাধারণ সম্পাদক দেবু মহাজনের তত্ত্বাবধানে, মহোৎসব উদযাপন পরিষদের সভাপতি খোকন চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক বিপ্লব মহাজন, অর্থ সম্পাদক সুকান্ত মহাজন ও অন্যান্য সদস্যদের অক্লান্ত পরিশ্রমে অনুষ্ঠান সফলভাবে সম্পন্ন হয়। সঞ্চালনায় ছিলেন রনতোষ মহাজন ও বৃষ্টি চৌধুরী।
২২ মার্চের মূল আকর্ষণ ছিল অষ্টপ্রহরব্যাপী তারকব্রহ্ম মহানাম যজ্ঞ, যেখানে শুভ অধিবাস কীর্তন পরিবেশন করেন শ্রীমৎ প্রিয়ব্রত গোস্বামী (তনু) এবং পৌরোহিত্য করেন শ্রীল অদ্বৈত দাস বাবাজী। মায়ের পূজার পৌরোহিত্য করেন দোলন চক্রবর্ত্তী।
উৎসবের অন্যতম সেরা মুহূর্ত ছিল মধ্যরাতে শ্রীশ্রী রামসুন্দর সম্প্রদায়ের শ্রীকৃষ্ণ লীলা পরিবেশনা, যা ভক্তদের আবেগাপ্লুত করে তোলে। ২৩ মার্চ নগরকীর্তন, মহানাম যজ্ঞের পূর্ণাহুতি ও বিভিন্ন মাঙ্গলিক আয়োজনের মধ্য দিয়ে মহোৎসবের পর্দা নামে।
তিন দিনের এই মহোৎসবে দূর-দূরান্ত থেকে আসা হাজার হাজার ভক্তের পদচারণায় সারা এলাকা এক অপার ধর্মীয় উচ্ছ্বাসে মুখরিত হয়ে ওঠে।