শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ০১:২২ অপরাহ্ন
সেনা চাকরি ছেড়ে পেঁয়াজের বীজ চাষে কোটিপতি! সফলতার গল্প আবু তালেবের
হৃদয় রায়হান, কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি
গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে গেছে জিকে প্রকল্পের নালা, আর তার ধারে বাতাসে দোল খাচ্ছে সাদা সাদা ফুল। দূর থেকে মনে হবে যেন স্নিগ্ধ কোনো বাগান। কিন্তু কাছে গিয়ে বোঝা গেল, এগুলো পেঁয়াজের ফুল! কয়েকদিন পরই শুকিয়ে বের হবে দামী কালো বীজ, যার বাজারে ব্যাপক চাহিদা। আর এই বিশাল বীজ চাষের মালিক কৃষক আবু তালেব, যিনি চাকরি ছেড়ে এখন কোটিপতির পথে!
কুষ্টিয়ার কুমারখালীর হোগলা গ্রামের এই উদ্যোমী কৃষক প্রায় ১৯ বিঘা জমিতে পেঁয়াজের বীজ চাষ করছেন। সুপার কিং, লালতীর কিং ও হাইব্রিড জাতের পেঁয়াজ বীজ উৎপাদনে ব্যস্ত নানা বয়সী শ্রমিকরা, কেউ পরিচর্যায়, কেউ হাতের মাধ্যমে পরাগায়নে সাহায্য করছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে চলতি মৌসুমে তিনি ৩৮ থেকে ৪০ মণ বীজ সংগ্রহ করতে পারবেন, যার বাজারমূল্য দাঁড়াবে প্রায় ৪২ লাখ টাকা! সব খরচ বাদ দিয়ে মুনাফা দাঁড়াতে পারে ২২ লাখ টাকা পর্যন্ত।
সাবেক সেনাসদস্য আবু তালেব জানালেন, ১৯৯৫ সালে সেনাবাহিনীতে যোগ দিলেও বছর শেষে চাকরি ছেড়ে ১৬ শতাংশ জমিতে পেঁয়াজের বীজ চাষ শুরু করেন। সময়ের সঙ্গে বাড়তে থাকে জমির পরিমাণ, অভিজ্ঞতা আর আয়ও। ২০০৩ সালে ৭ বিঘা জমিতে চাষ করে প্রথম বড় লাভের মুখ দেখেন। গত বছর ১১ বিঘা জমিতে ১৮ মণ বীজ উৎপাদন করে ২৫ লাখ টাকায় বিক্রি করেন তিনি।
তবে লাভ যেমন বেশি, ঝুঁকিও তেমন, জানালেন তাঁর স্ত্রী আম্বিয়া খাতুন। তিনি বলেন, ফুল কেটে রোদে শুকিয়ে, মাড়াই করে, ধুয়ে সংরক্ষণ করা হয় বীজ, যা পরবর্তী সময়ে কৃষকেরা সরাসরি বাড়ি থেকেই কিনে নিয়ে যান।
স্থানীয় কৃষক করিম মণ্ডল বললেন, “তালেব ভাইয়ের সফলতা দেখে আগামী বছর আমিও ১০ কাঠা জমিতে বীজ চাষ করব।”
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. রাইসুল ইসলাম জানান, ঝুঁকিপূর্ণ হলেও এই চাষ লাভজনক। চলতি মৌসুমে প্রায় ১৯ হেক্টর জমিতে বীজ উৎপাদন হচ্ছে, কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করতে সরকারও নানা উদ্যোগ নিচ্ছে।
আবু তালেবের গল্প প্রমাণ করে, সঠিক পরিকল্পনা আর পরিশ্রম থাকলে চাকরি ছেড়েও কোটিপতি হওয়া সম্ভব!