সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ১০:১৯ অপরাহ্ন
মিলিত প্রচেষ্টায় দারুণ সংগ্রহের পর বল হাতে রীতিমতো আগুন ঝরালেন মেহেদি হাসান মিরাজ ও আবু হায়দার। থিসারা পেরেরার ঝড়ো সেঞ্চুরি ম্লান করে ঢাকা ক্যাপিটালসকে হারিয়ে টানা দ্বিতীয় জয় তুলে নিল মিরাজের নেতৃত্বাধীন খুলনা টাইগার্স।
বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) ১১তম আসরের অষ্টম ম্যাচে শুক্রবার ঢাকাকে ২০ রানে হারায় খুলনা। ১৭৪ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে ১৫৩ রানেই থেমে যায় ঢাকার ইনিংস।
মিরাজ মাত্র ৪ ওভারে ৬ রান দিয়ে শিকার করেন ৩ উইকেট। আবু হায়দার নেন ২ উইকেট। ৪১ রানে ৬ উইকেট হারানো ঢাকার জন্য সপ্তম উইকেটে থিসারা পেরেরা ও চাতুরাঙ্গা ডি সিলভার ৬৩ বলে ১১২ রানের জুটি কিছুটা আশা জাগায়। পেরেরা ৬০ বলে ৯টি চার ও ৭টি ছক্কায় ১০৩ রানে অপরাজিত থেকে আসরের দ্বিতীয় সেঞ্চুরি করেন।
মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে মোহাম্মদ নাইমের দুর্দান্ত শুরুর সুবাদে খুলনার উদ্বোধনী জুটিতে আসে ২৯ বলে ৪৯ রান।
নাইমকে আউট করে ঢাকার পক্ষে প্রথম সাফল্য এনে দেন চাতুরাঙ্গা ডি সিলভা। ৭টি চার হাঁকিয়ে ১৭ বলে ৩০ রান করেন নাইম।
তবে এরপর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারায় খুলনা। দলীয় ৯৩ রানে ষষ্ঠ উইকেটের পতন ঘটে। এ সময় উইলিয়াম বোসিসতো ২৮ বলে ২৬, আফিফ হোসেন ১, ইব্রাহিম জাদরান ৫, অধিনায়ক মিরাজ ১০ বলে ৮ এবং মোহাম্মদ নওয়াজ ৮ বলে ৫ রানে আউট হন।
ষষ্ঠ উইকেট পতনের পর সপ্তম উইকেটে মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন ও জিয়াউর রহমান ২৯ বলে ৪৩ রানের কার্যকরী জুটি গড়েন। জিয়াউর রহমান ১৫ বলে ২২ রান করে মুস্তাফিজুর রহমানের বলে আউট হন।
পরের ওভারে আবু জায়েদের বলে আউট হন অঙ্কন। ১টি চার ও ২টি ছক্কায় ২২ বলে ৩২ রান করেন তিনি। আগের ম্যাচে চট্টগ্রাম কিংসের বিপক্ষে অঙ্কনের ইনিংস ছিল আরও ঝড়ো, যেখানে ২২ বলে করেছিলেন ৫৯ রান।
ইনিংসের শেষ ওভারে আবু হায়দার ও নাসুম আহমেদ মিলে ২৩ রান যোগ করেন। আবু হায়দার ৮ বলে ৩টি ছক্কায় করেন ২১ রান, অপরদিকে নাসুম ৪ বলে ৯ রানে অপরাজিত থাকেন।
ঢাকার হয়ে চাতুরাঙ্গা ডি সিলভা ২টি এবং বাকি ছয় বোলার প্রত্যেকে ১টি করে উইকেট নেন।
জবাবে ঢাকার ইনিংসের তৃতীয় ওভারে মিরাজ প্রথম দুই বলে লিটন দাস ও স্টিফেন এস্কিনাজিকে আউট করে ঢাকাকে চাপে ফেলে দেন। এরপর আবু হায়দার তানজিদ হাসান তামিম ও শাহাদাত হোসেনের উইকেট তুলে নেন।
৪১ রানে ঢাকার স্কোরবোর্ডে ওঠে ৬ উইকেটের পতন। তখন অধিনায়ক থিসারা পেরেরা চাতুরাঙ্গা ডি সিলভাকে নিয়ে জুটি গড়ে লড়াই চালান।
শেষ ৬ ওভারে দরকার ছিল ১০৩ রান। আবু হায়দারের এক ওভারে পেরেরা চার, ছক্কা, ছক্কা মেরে ঝড় তোলেন। পরবর্তী ওভারেও তিনি একইভাবে চালিয়ে যান, ১৮ রান তোলেন।
তবে অপর প্রান্তে থাকা চাতুরাঙ্গা রানের সঙ্গে তাল মিলিয়ে খেলতে পারছিলেন না। শেষ ৩ ওভারে দরকার ছিল ৬০ রান, যা শেষ ২ ওভারে দাঁড়ায় ৪৮-এ। শেষ ওভারে প্রয়োজন ছিল ৩৭ রান। পেরেরা সেই ওভারে দুই চার ও এক ছক্কায় ১৬ রান নিতে সক্ষম হন।