বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ১২:৩৭ পূর্বাহ্ন
হারানোর ২৯ দিন পর ফিরে এলো জান্নাত, প্রাণ ফিরলো ঘরে!
বনি আমিন, মনপুরা উপজেলা প্রতিনিধি
মাত্র ১০ বছরের ছোট্ট মেয়ে জান্নাত। হারিয়ে গিয়েছিল প্রিয় মুখ, পরিচিত পৃথিবী, এমনকি নিজের বাড়ির ঠিকানাও মনে রাখতে পারেনি ঠিকমতো। অপহরণের ২৯ দিন পর, অবশেষে মনপুরায় একদল তরুণ ও প্রশাসনের মানবিক প্রচেষ্টায় ফিরে পেল তার আপন ঠিকানা, ফিরে পেল বাবা-মায়ের কোল।অপহরণ হওয়া জান্নাত জানায় বাড়ি থেকে মাদ্রাসায় যাওয়ার পথে অপহরণ করে একটি চক্র। অপহরণকারীরা জান্নাতকে ময়মনসিংহ থেকে নিয়ে গিয়ে বরিশালে আটকে রাখে।
পরবর্তী ২৯ দিন তাকে একটি গোপন জায়গায় রেখে প্রতিদিন শুধু রুটি ও ডাল খেতে দেওয়া হতো। আরও জানা যায় ১২ জুন ২০২৫ তারিখে, অপহরণকারী চক্রের এক সদস্য ১২ তারিখ প্রায় সন্ধ্যা ৬ টায় বরিশালের বেদুরিয়া লঞ্চে জান্নাতকে উঠিয়ে দিয়ে পালিয়ে যায়। ঠিক সেসময়, চিকিৎসার জন্য ভোলা গিয়েছিলেন মনপুরার বাসিন্দা মোঃ আব্দুর রহমান সোয়েব ও তার দুই বন্ধু। জান্নাতকে প্রথম বেদুরিয়া লঞ্চে খুঁজে পান মোঃ আরিফ। তিনি বিষয়টি বুঝে মেয়েটিকে সোয়েবের কাছে বুঝিয়ে দেন।আব্দুর রহমান সোয়েব জানান। আমি বরিশাল থেকে ভোলায় আসার সময় আমার এক বড়ো ভাই জান্নাত কে লঞ্চে পায়। এর পর আমার কাছে নিয়ে আসলে জান্নাত তার তার বাবা মায়ের নাম ছাড়া আর কিছু বলতে পারেননি।
এর পর আমি তাকে মনপুরায় এনে মনপুরা থানায় হস্তান্তর করি। এর পর মনপুরা থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি আহসান কবির বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তার বাবা মায়ের খোঁজ খবর নিয়ে তার বাবা মাকে মনপুরায় এনে তাদের হাতে তুলে দেন। এটা আমার জন্য অনেক বড়ো পাওয়া। মনপুরা থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আহসান কবির জানান। ১৩ জুন সকাল অনুমান ১০.২৫ মিনিট এর সময় ২ নং হাজিরহাট ইউনিয়নের চর যতিন এলাকার মোঃআঃরহমান সোয়েব(২২),এবং মোঃ আল আমিন(২০) দুটি ছেলে জান্নাত (১২) বরিশাল থেকে আসা একটি শিশু কন্যাকে ভোলা ইলিশা লঞ্চ ঘাটে পায় , শিশু মেয়েটিকে কোথায় যাবে জিজ্ঞাসা করায় মেয়েটি বলে আমি বরিশাল নানার বাসা থেকে আসছি আমার বাবা মা নাই আমি মনপুরা বোনের বাসায় যাব। তখন ছেলে দুটি মেয়েটিকে তাদের সঙ্গে করে মনপুরা নিয়া আসে।
এখানে আসার পর মেয়েটি বলে আমি এখানে কিছুই চিনিনা। তখন ছেলে দুটি শিশু মেয়েটিকে নিয়া থানায় আসে । তখন আমি মেয়েটিকে তাহার বাড়ি কোথায় জিজ্ঞাসা করায় মেয়েটি বলে আমার নানার বাসা বরিশাল এছাড়া আর কিছু আমি চিনিনা। আরমান নামে একটা লোক তাকে বরিশাল লঞ্চ ঘাট থেকে ভোলার লঞ্চে উঠিয়ে দিয়ে বলে তোমার বোন মনপুরা আছে তুমি মনপুরা চলে যাও। কথাগুলি শুনে আমার সন্দেহ হয় পরবর্তীকে আমি আমার ঊর্ধতন কতৃপক্ষকে অবহিত করি এবং জিডিতে এতটি নোট দেই জিডি নং- ৩৫০ তারিখ ১৩/০৬/২০২৫ইং।পরবর্তীতে তাহাকে জিজ্ঞাসা করায় মেয়েটি বলে তাহার বাড়ী ময়মনসিংহ মুক্তাগাছা থানায়।
পরবর্তীতে ময়মনসিংহ জেলার মুক্তাগাছা থানায় যোগাযোগের মাধ্যমে জানা যায় গত ১৭/০৫/২৫ইং তারিখ মুক্তা গাছা থানা এলাকা থেকে রায়া মনি নামে একটি মেয়ে হারিয়ে যায় মর্মে জিডি হয় এবং একটি অপহরন মামলা হয় যাহা মুক্তাগাছা থানার অপহরন মামলা নং- ২২ তারিখ – ২৩/০৫/২৫ইং। তখন মেয়েটির ছবি পাঠালে এবং ভিডিও কলে কথা বলায় মেয়েটির বাবা মা তাকে চিনতে পারে ও মেয়েটিও তাহার মা বাবাকে চিনতে পারে বলে জানায়।
অতপর অপহরন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মুক্তাগাছা থানার এসআই(নিঃ} রতন চন্দ্র নাগ সঙ্গিয় অফিসার এএসআই(নিঃ) বিশ্বজিৎ, ও নারী কং/১৭৯৫ ইসমত আরা .মেয়েটির বাবা-মোঃ রফিকুল ইসলাম, মা- আঞ্জমানারা বেগম সহ মনপুরা থানায় আসিলে মেয়েটিকে মামলার আইও এসআই(নিঃ) রতন চন্দ্র নাগ এর নিকট লিখিত ভাবে বুঝাইয়া দিয়া ছবি ও ভিডিও করে রাখি। -বিষয়টি পুলিশ সুপার ভোলা মহোদয় এবং সহকারী পুলিশ সুপার তজুমদ্দিন সার্কেল মহোদয় স্যারকে অবহিত করেন।