বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:৪৬ পূর্বাহ্ন
এল্লারচর সেতু ভাঙছে, জীবনের ঝুঁকি কে নেবে দায়?
আনারুজ্জামান, বিশেষ প্রতিনিধি
দেবহাটা ও আশাশুনি উপজেলার অন্তত ২০টি গ্রামের মানুষ প্রতিদিন এল্লারচর সেতুটি ব্যবহার করেন। কিন্তু গত ১৮ মে,২০২৫ রাতের কোনো এক সময় পুরোনো সেতুটির একটি অংশ হঠাৎ ধসে পড়ে। এরপর থেকেই ঝুঁকি নিয়ে বাঁশের খুঁটি ও ভাঙা কাঠের পাটাতনের সাহায্যে পারাপার হচ্ছে নারী-শিশু, শিক্ষার্থী, চাষি ও শ্রমজীবী মানুষ।
এই সেতুটি সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ফিংড়ি ও ব্রহ্মরাজপুর ইউনিয়ন, পৌর এলাকার কয়েকটি ওয়ার্ড এবং দেবহাটার কুলিয়া ইউনিয়ন ও আশাশুনির শোভনালী ইউনিয়নের অন্তত লক্ষাধিক মানুষের একমাত্র ভরসা। বাজার, স্কুল-কলেজ, স্বাস্থ্যসেবা ও নিত্যকার কাজকর্মে প্রতিদিনই সেতুটি ব্যবহার করতেন তারা।
সেতুটি ধসে পড়ায় কেবল সাধারণ মানুষের যাতায়াতই ব্যাহত হয়নি, ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষক ও চিংড়ি চাষিরাও। সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় এখন ওপারের হাটে পণ্য পৌঁছানো যাচ্ছে না। সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছেন চাষিরা, যাদের সবজি ও মাছ এখন পঁচে যাওয়ার শঙ্কায় রয়েছে।
সাতক্ষীরা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শোয়াইব আহম্মেদ বলেন, ব্রিজটি পরিদর্শন করেছি। সেতুটি অনেক পুরোনো ও সংকীর্ণ। ধারণা করা হচ্ছে, সম্প্রতি নদীতে জোয়ার-ভাটার শক্তিশালী প্রবাহের কারণে সেতুর নিচের অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে এটি ধসে পড়ে। আপাতত সেতুর পাশে ব্লক ফেলে অস্থায়ীভাবে চলাচলের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
তিনি জানান, পুরো সেতু পুনর্নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হবে। মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পেলে টেকসই সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।