বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:২৬ পূর্বাহ্ন
এক যুগ পর জামায়াত ফিরল বৈধ রাজনীতির মঞ্চে!
অনলাইন ডেস্ক
দীর্ঘ এক যুগ পর বাংলাদেশে রাজনৈতিক অঙ্গনে নাটকীয়ভাবে ফিরল জামায়াতে ইসলামী—সুপ্রিম কোর্টের ঐতিহাসিক রায়ে দলটির নিবন্ধন পুনর্বহাল হওয়ায় নতুন করে আলোচনায় এসেছে এই বিতর্কিত রাজনৈতিক শক্তি। ফলে দলটি আবারও নির্বাচন কমিশনের অনুমোদিত রাজনৈতিক দল হিসেবে স্বীকৃতি পেল এবং জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণের পথ সুগম হলো।
রোববার (১ জুন) দেশের সর্বোচ্চ আদালত ২০১৩ সালে হাইকোর্টের দেওয়া নিবন্ধন বাতিলের রায় খারিজ করে নির্বাচন কমিশনকে আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দিয়েছেন। দেশি-বিদেশি গণমাধ্যমে এই রায় ব্যাপক গুরুত্ব পেয়েছে। পাকিস্তানের প্রভাবশালী বেশ কয়েকটি সংবাদমাধ্যমও বিষয়টি নিয়ে চোখে পড়ার মতো প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।
পাকিস্তানের শীর্ষ দৈনিক ‘ডন’ তার প্রতিবেদনে জানায়, ২০১৩ সালে হাইকোর্টের নির্দেশে জামায়াতের নিবন্ধন বাতিল হয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে শেখ হাসিনার সরকার বিদায় নেওয়ার পর দলটি পুরনো আদেশের পুনর্বিবেচনার আবেদন করে এবং অবশেষে সুপ্রিম কোর্ট তাদের অনুকূলে রায় দেয়।
ডনের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, এমন সময় এই রায় এলো, যখন ২৭ মে সুপ্রিম কোর্ট যুদ্ধাপরাধে দণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াত নেতা এ টি এম আজহারুল ইসলামের মৃত্যুদণ্ড বাতিল করেছে। ২০১৪ সালে তাকে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় ধর্ষণ, হত্যা ও গণহত্যার অভিযোগে সাজা দেওয়া হয়েছিল।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, জামায়াতের পাকিস্তানঘেঁষা অবস্থান এখনো বাংলাদেশের জনমনে প্রবল বিতর্ক ও ক্ষোভ সৃষ্টি করে। দলটি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রধান রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ হিসেবেও পরিচিত ছিল এবং ইতিহাসের এক সংবেদনশীল অধ্যায়ের অংশ।
‘ডন’ আরও জানায়, শেখ হাসিনা সরকারের সময় জামায়াত নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়, দলটির বহু শীর্ষ নেতা গ্রেপ্তার হন এবং তাদের বিরুদ্ধে বিচার কার্যক্রম চলে।
এছাড়া, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার আওয়ামী লীগকেও সাময়িক নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে বলে উল্লেখ করে ডন। শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধে বিচার শুরুর ঘোষণার কথাও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১ জুন শেখ হাসিনার মামলার শুনানি সরাসরি বিটিভিতে সম্প্রচারিত হয়। এতে তার বিরুদ্ধে গণহত্যা উসকানি, সহায়তা, ষড়যন্ত্র এবং প্রতিরোধে ব্যর্থতাসহ অন্তত পাঁচটি অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক বিচারিক প্রক্রিয়া শুরু হলো বলেও জানায় গণমাধ্যমটি।