সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ০১:৩৩ পূর্বাহ্ন
প্রফেশনাল মেহেদি আর্টিস্টদের বিয়ের মৌসুমের ব্যস্ততা
অনলাইন ডেস্ক
বিয়ের মেহেদির অনুষ্ঠান আজকাল যেন একটি পূর্ণাঙ্গ উৎসবে পরিণত হয়েছে, যা কেবল কনের হাতে মেহেদি দেয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না। মেহেদির নকশা, রঙের গভীরতা, অর্গানিক বা সাধারণ মেহেদির ব্যবহার, পোশাকের সমন্বয় থেকে শুরু করে খাবারের আয়োজন—সবকিছুতেই আজকের কনে ও পরিবার বিশেষ যত্নবান।
শুরুতেই বলি, মেহেদির রং যত গাঢ়, তত বেশি মজবুত হয় দাম্পত্য বন্ধন! এই বিশ্বাসের প্রভাবেই আজকের মেহেদি উৎসব হয়ে উঠেছে এক আলাদা রূপে। কনের হাত, বাজু এবং পিঠে ঝলমলে নকশা থেকে এখন শাড়ির সঙ্গে বডি মেহেদির ফ্যাশনও দেখা যায়। সেলিব্রিটিরাও এই ট্রেন্ডকে ছোঁয়ার চেষ্টা করছেন, যা মেহেদির গুরুত্ব ও জনপ্রিয়তাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
আগের দিনে, যিনি পারতেন নিজের হাতে মেহেদি দিতে, তাকে ডাকা হতো। কিন্তু এখন পেশাদার মেহেদি আর্টিস্টদের চাহিদা ব্যাপক। তারা কনেদের চাহিদা অনুযায়ী থিম ও ডিজাইন সাজিয়ে দেয়, যা অনলাইন বুকিংয়ের মাধ্যমেও সহজলভ্য। বিয়ের মৌসুমে বুকিং নিতে তারা সপ্তাহ আগেও ব্যস্ত থাকেন।
ব্রাইডাল মেহেদির কাজটি একেবারে নিখুঁত হতে হয়। দুই হাত ভরে মেহেদি দেওয়ার সময় লাগে প্রায় ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা, তাই ধৈর্য্য দরকার। তাড়াহুড়ো করলে নকশার মান নষ্ট হতে পারে। আর্টিস্টদেরও প্রয়োজন আরামদায়ক পরিবেশ। তাই কনেকে আরামদায়ক জামা পরে বসতে হবে, পাশে থাকবে বালিশ ও ঠান্ডা পানীয়।
অনেক সময় কনের আগের স্যালন ট্রিটমেন্ট যেমন ডি-ট্যান, ওয়াক্সিং, ম্যানিকিউর-পেডিকিউরও করা জরুরি, কারণ মেহেদির পরে এসব করলে নকশা নষ্ট হয়ে যেতে পারে। পছন্দের আর্টিস্টের পোর্টফোলিও দেখে আগে থেকে বুকিং করাও স্মার্ট সিদ্ধান্ত।
মেহেদির রং দীর্ঘস্থায়ী করার জন্য কিছু বিশেষ কৌশলও আছে। মেহেদি শুকানোর পর চিনি ও লেবুর মিশ্রণ দিয়ে হাত মেখে নিলে রং গাঢ় হয়। পানিতে হাত লাগাতে না পারলে গ্লাভস ব্যবহার করুন। ক্রিম বা ময়েশ্চারাইজার দেওয়া থেকে বিরত থাকুন। মেহেদি শুকিয়ে গেলে ভোঁতা চামচ দিয়ে রগড় করলে ভাল ফল পাওয়া যায়।
রাতে ঘুমানোর জন্য পাতলা টিস্যু দিয়ে হালকা মুড়িয়ে নিন, প্লাস্টিক ব্যাগ নয়। শর্ষের তেল মেখে হাত ঢেকে রাখলে রং অনেকক্ষণ টিকে থাকে। গরম লবঙ্গ দিয়ে হাত সেঁকেও রং গাঢ় করার প্রচলন আছে।
সুতরাং, মেহেদির এই ছোটখাটো যত্ন আর পরিকল্পনাই কনেকে করে তোলে সত্যিকারের রাজকন্যা, আর দাম্পত্য জীবনে আনে সৌন্দর্য ও মধুরতা।