বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:০২ পূর্বাহ্ন
রাতের আঁধারে ব্রহ্মোসে কাঁপলো রাওয়ালপিন্ডি ও পাক ঘাঁটি!
অনলাইন ডেস্ক
নতুন করে উত্তপ্ত উপমহাদেশ। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ বিস্ফোরক দাবি করে জানিয়েছেন, ৯ মে রাতেই ভারত তাদের ব্রহ্মোস মিসাইল দিয়ে পাকিস্তানের অভ্যন্তরে বহু স্থানে আঘাত হানে। এ সময় পাকিস্তানের সেনাবাহিনী একেবারেই অপ্রস্তুত ছিল। তারা তখন ফজরের নামাজ শেষে প্রতিশোধমূলক হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। খবর গণমাধ্যমের।
আজারবাইজানের এক সুরক্ষাবিষয়ক সম্মেলনে শেহবাজ বলেন, ৯ মে রাতেই আমরা পাল্টা জবাব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিই। আমাদের সেনাবাহিনী ভোর ৪টা ৩০ মিনিটে সর্বাত্মক প্রস্তুত ছিল। কিন্তু ভারতের ব্রহ্মোস হামলা ততক্ষণে রাওয়ালপিন্ডি বিমানবন্দরসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে আঘাত হানে।
এই অভিযানের কোডনেম ছিল ‘অপারেশন সিঁদুর’। ২২ এপ্রিল পহেলগামে জঙ্গি হামলায় ২৬ জন নিহত হওয়ার প্রতিশোধেই ভারত এই হামলা চালায় বলে জানায়। ভারতের মতে, এতে জইশ-ই-মোহাম্মদ, লস্কর-ই-তইবা ও হিজবুল মুজাহিদিনের প্রায় ১০০ জঙ্গি নিহত হয়।
ভারতীয় সেনাবাহিনী মোট ৯টি জঙ্গি ঘাঁটিতে হামলা চালায়। এর মধ্যে চারটি ছিল পাকিস্তানের মাটিতে (ভাওয়ালপুর, মুরিদকে, সারজাল, মেহমুনা জোয়া) এবং পাঁচটি পাক-অধিকৃত কাশ্মীরে (সাওয়াই নালা, সৈয়দনা বিলাল, গুলপুর, বারনালা, আব্বাস)।
প্রতিশোধে পাকিস্তান ভারতের বেসামরিক এলাকাগুলোতে ড্রোন হামলা চালায়। জবাবে ভারতও পাল্টা আঘাতে পাকিস্তানের অভ্যন্তরে রাডার, গোলাবারুদ ভান্ডার ও কমান্ড সেন্টার (রাফিকি, চাকলালা, রহিম ইয়ার খান, সুক্কুর, শিয়ালকোট) টার্গেট করে ধ্বংস করে দেয়।
১০ মে উভয় দেশ এক প্রকার মৌখিক সমঝোতায় আসে—স্থল, আকাশ ও সমুদ্র সীমান্তে সব ধরনের আগ্রাসন বন্ধ করা হবে। কিন্তু কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পাকিস্তান তা ভেঙে ফেলে। এর জবাবে ভারত জানায়, যুদ্ধবিরতি ‘অনির্দিষ্টকালের জন্য’ বলবৎ থাকবে।
সম্প্রতি এক মন্তব্যে পাক প্রধানমন্ত্রী জানান, কাশ্মীর, পানি ও বাণিজ্য বিষয়ে আলোচনায় আগ্রহী তারা। তবে ভারত সাফ জানিয়ে দিয়েছে—সন্ত্রাস না থামালে কোনো আলোচনা হবে না।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রন্ধীর জয়সওয়াল জানান, পাকিস্তান যদি সন্ত্রাসে পৃষ্ঠপোষকতা বন্ধ না করে, তাহলে কোনো আলোচনা কিংবা চুক্তি সম্ভব নয়। তিনি আরও বলেন, পাক-অধিকৃত কাশ্মীর ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ, তা ফেরত না দিলে কাশ্মীর ইস্যুতেও কোনো সংলাপ হবে না। এমনকি সিন্দু পানি চুক্তিও ঝুলে থাকবে ।