শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:১৮ অপরাহ্ন
রাজপথে ফ্যাসিবাদবিরোধী গর্জন, শাহবাগে জনতার ঢল!
অনলাইন ডেস্ক
শাহবাগের রাজপথে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো উত্তাল ছাত্র-জনতার বিক্ষোভ চলছে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার দাবিতে। আন্দোলনের ঢেউ এখন রাজধানী ছাড়িয়ে সারা দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। এই প্রেক্ষাপটে শনিবার দুপুরে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ তার ভেরিফায়েড ফেসবুক প্রোফাইলে দেওয়া এক দীর্ঘ স্ট্যাটাসে আন্দোলন নিয়ে পরিষ্কার অবস্থান তুলে ধরেছেন। সেখানে তিনি শুধু আহ্বান জানাননি, বরং আন্দোলনকে ঘিরে যেসব গুজব ও বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা চলছে, সেগুলোও কড়া ভাষায় প্রত্যাখ্যান করেছেন।
হাসনাত আবদুল্লাহর বার্তা ছিল স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিতে চাই, এই দলকে নিষিদ্ধ করার দাবিতে দেশের ছাত্র-জনতা দুই দিন ধরে রাজপথে নেমেছে, যা কোনো ব্যক্তিকেন্দ্রিক বা একক দলের আন্দোলন নয়। এটি দেশের আপামর ছাত্রসমাজ, রাজনৈতিক, সামাজিক এবং সাংস্কৃতিক অঙ্গনের সর্বস্তরের মানুষের যৌথ প্রতিরোধ। তিনি বলেন, এই আন্দোলনের মূল লক্ষ্য ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশ গড়া। জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান আমাদের শিখিয়েছে যে স্বৈরাচারী শক্তির পতন ঘটানো সম্ভব, কিন্তু হতাশার বিষয় হলো, এখনো অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার মতো সাহস দেখাতে পারেনি।
তিনি সরাসরি অভিযোগ করে বলেন, গত দুই দিনে আন্দোলনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে নানা চক্রান্ত চলছে। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আন্দোলনকে বিতর্কিত করার চেষ্টা হচ্ছে। কিন্তু তিনি দৃঢ় কণ্ঠে ঘোষণা দেন, কোনো ষড়যন্ত্রই আন্দোলনের শক্তিকে ভেঙে দিতে পারবে না। আন্দোলনকারীদের মধ্যে মতের অমিল থাকলেও মূল লক্ষ্য এক—আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করা। আর সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই এখন থেকে সব কর্মসূচি ‘ফ্যাসিবাদবিরোধী জাতীয় ঐক্য’ ব্যানারে পরিচালিত হবে বলে জানান তিনি।
দেশের ছাত্র-জনতাকে নতুন করে উদ্দীপ্ত করে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, “ঢাকার রাজপথ থেকে শুরু করে দেশের প্রত্যন্ত গ্রামেও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আমাদের প্রতিরোধ অব্যাহত থাকবে। জুলাই এখনো শেষ হয়ে যায়নি। আমরা যারা গণঅভ্যুত্থানের চেতনায় বিশ্বাসী, তারা শেষ বিজয় না হওয়া পর্যন্ত পিছু হটব না।” তার আহ্বান—সব মত ও দলের কর্মীরা যেন ঐক্যবদ্ধ থেকে আন্দোলন চালিয়ে যান। তিনি আশাবাদী কণ্ঠে বলেন, ইনশাআল্লাহ, ফ্যাসিবাদ ধ্বংস হবে, আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ হবে। ইনকিলাব জিন্দাবাদ।
শাহবাগের বিক্ষোভ এখন শুধু এক এলাকার ঘটনা নয়; এটি রূপ নিচ্ছে এক সর্বজাতীয় আন্দোলনে। পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হচ্ছে, আর এই বিক্ষোভ কত দূর গড়াবে, তা সময়ই বলে দেবে। তবে হাসনাত আবদুল্লাহর এই ঘোষণা আন্দোলনের শক্তিকে নতুন করে চাঙা করে তুলেছে, যা আগামী দিনের রাজনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।