শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:৫০ পূর্বাহ্ন
কানাডায় উচ্চশিক্ষা নিতে চাইলে এখন লাগবে আরও মোটা ব্যাংক ব্যালেন্স
অনলাইন ডেস্ক
২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর থেকে কানাডায় স্টুডি পারমিট নিতে চাইলে আগের মতো আর ‘কম টাকায়’ কাজ চলবে না। কারণ, কানাডার সরকার আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য আর্থিক সক্ষমতা (Bank Solvency) দেখানোর নিয়মে আনছে বড় পরিবর্তন—যা অনেকের জন্য হতে পারে ‘শকিং’! নতুন এই নিয়ম অনুযায়ী, শুধু পড়াশোনার খরচ নয়, এক বছরের জীবনযাত্রার খরচ হিসেবেও আলাদাভাবে জমা রাখতে হবে প্রায় ২৩ হাজার কানাডিয়ান ডলার!
যাঁরা কানাডার কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তাদের জন্য এই আপডেট জানা অত্যন্ত জরুরি। কারণ, ব্যাংক সলভেন্সি ঠিকভাবে না দেখাতে পারলে ভিসা বাতিল হতে পারে। আসুন জেনে নিই, নতুন নিয়মে কী কী পরিবর্তন এলো, কীভাবে তা আপনাকে প্রভাবিত করতে পারে এবং ব্যাংক সলভেন্সি দেখাতে কী ধরনের ডকুমেন্ট দরকার হবে।
২০২৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর থেকে কানাডায় পড়তে যাওয়ার জন্য নতুন করে জীবনযাত্রার খরচ ধরা হয়েছে ২২,৮৯৫ কানাডিয়ান ডলার। যা আগে ছিল ২০,৬৩৫ ডলার। এই অর্থ টিউশন ফি ও যাতায়াত খরচ বাদে আলাদাভাবে ব্যাংকে থাকতে হবে এবং তার যথাযথ প্রমাণপত্র দেখাতে হবে।
উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, ধরুন—
(বিনিময় হার অনুসারে এই পরিমাণ কমবেশি হতে পারে।)
যদি আপনি একা যান, তখন শুধু নিজের জীবনযাত্রার খরচই দেখাতে হবে। কিন্তু সঙ্গে স্ত্রী বা সন্তান থাকলে খরচ বেড়ে যাবে বহুগুণে।
অর্থাৎ, পুরো পরিবার নিয়ে গেলে আপনার ৫০–৬০ লাখ টাকার মতো সলভেন্সি দেখাতে হতে পারে!
১. নিজের নামে ব্যাংকে টাকা জমা – বাংলাদেশি ব্যাংকে নিজের নামে জমা টাকা, যা সহজে ভেরিফাই করা যায়।
২. GIC (Guaranteed Investment Certificate) – কানাডার ব্যাংকে নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা অগ্রিম ডিপোজিট করলে এই সার্টিফিকেট পাওয়া যায়।
৩. এডুকেশন লোন ডকুমেন্ট – বাংলাদেশি ব্যাংক বা ফাইন্যান্সিয়াল ইনস্টিটিউশনের শিক্ষাঋণের প্রমাণপত্র।
৪. স্পনসরশিপ লেটার – বাবা-মা বা নিকট আত্মীয়ের কাছ থেকে আর্থিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি ও প্রমাণ।
৫. স্কলারশিপ বা ইউনিভার্সিটি ফান্ডিং ডকুমেন্ট – কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের অফার লেটারে স্কলারশিপের উল্লেখ থাকলে সেটিও ব্যবহার করা যাবে।
যাঁরা ২০২৫ সালের ১ সেপ্টেম্বরের আগে আবেদন করবেন, তাঁদের জন্য এখনো পুরোনো নিয়ম (২০,৬৩৫ CAD) প্রযোজ্য। তাই যাঁরা দ্রুত প্রক্রিয়া শুরু করতে পারবেন, তাদের জন্য এটি কিছুটা সুবিধাজনক। তবে ভুল ডকুমেন্ট বা অসম্পূর্ণ ফান্ড প্রমাণ দেখালে ভিসা বাতিল হতে পারে, তাই সতর্ক থাকতেই হবে।
কানাডায় উচ্চশিক্ষা এখনো অনেকের স্বপ্ন, কিন্তু সে স্বপ্নপূরণে আর্থিক পরিকল্পনা এখন আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। নতুন এই সলভেন্সি নিয়মের ফলে অনেক শিক্ষার্থীকে হয়তো পরিকল্পনায় পরিবর্তন আনতে হবে, আবার কারও জন্য এটি হতে পারে সময়মতো প্রস্তুতির সুযোগ। তাই কানাডায় পড়তে যেতে চাইলে এখনই নিজের ফিন্যান্স ঠিকঠাক গুছিয়ে ফেলুন!
লেখক: কানাডাপ্রবাসী ও সোশ্যাল মিডিয়া কনটেন্ট ক্রিয়েটর (সম্পাদিত ও পরিবর্ধিত)