শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:৫০ পূর্বাহ্ন
বিদেশে পড়তে চান? সার্টিফিকেট সত্যায়নের ঝামেলা এবার ডিজিটালেই শেষ
অনলাইন ডেস্ক
বিদেশে উচ্চশিক্ষা নিতে ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের জন্য দারুণ সুসংবাদ! কাগজপত্র নিয়ে মন্ত্রণালয়ে দৌড়াদৌড়ি, লাইনে দাঁড়িয়ে ঘাম ঝরানো কিংবা অনিশ্চয়তার ভয়ে দিন কাটানোর সময় এবার শেষ। এখন ঘরে বসেই অনলাইনে সার্টিফিকেট সত্যায়নের পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা যাবে। সরকার চালু করেছে একদম নতুন ইলেকট্রনিক সার্টিফিকেট ভেরিফিকেশন সেবা, যা বিদেশগামী শিক্ষার্থীদের জন্য এক বিশাল স্বস্তির বার্তা। চলুন জেনে নিই, কীভাবে এই অনলাইন পরিষেবাটি আপনার সময়, খরচ ও চাপ তিনটিই কমিয়ে দেবে।
প্রক্রিয়া শুরু করার জন্য প্রথমেই নিশ্চিত করতে হবে একটি স্ক্যান করা এনআইডি কার্ড বা অনলাইন জন্মনিবন্ধনের সফট কপি। এই স্ক্যান কপিগুলো জেপিইজি, জেপিজি বা পিএনজি ফরম্যাটে, ১ মেগাবাইটের মধ্যে হতে হবে। তাই আগেভাগে কাগজ স্ক্যান করে রাখলেই সুবিধা মিলবে।
সরকারি মাইগভ (myGov) ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে প্রথমেই একটি অ্যাকাউন্ট খুলতে হবে। নাম, মোবাইল নম্বর বা ইমেইল দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করে একটি পাসওয়ার্ড সেট করলেই হবে। এরপর এনআইডি বা জন্মসনদ দিয়ে প্রোফাইল যাচাই করতে হবে। মনে রাখবেন, একটি এনআইডি দিয়ে কেবল একটি অ্যাকাউন্ট খোলা যাবে।
মাইগভ সাইটের হোমপেজে প্রবেশ করলেই ‘বিদেশগামী নাগরিকদের সার্টিফিকেট সত্যায়ন’ নামে একটি স্পষ্ট অপশন দেখা যাবে। এখানে ক্লিক করলে শিক্ষার্থীরা নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের চাওয়া সার্টিফিকেট বা ট্রান্সক্রিপ্ট সত্যায়নের আবেদন করতে পারবেন।
অপশনটি খুঁজে না পেলে হোমপেজের সার্চ বক্সে নাম লিখে কিংবা ভয়েস কমান্ড দিয়েও সহজে খুঁজে পাওয়া সম্ভব।
আবেদনের প্রতিটি অপশনের ভেতরে দেওয়া থাকে—
সব তথ্য একসাথে থাকায় ঝামেলার সুযোগ থাকে না। আবেদন ফি কখনো বিনামূল্যে, আবার কখনো নির্দিষ্ট পরিমাণে গেটওয়ে পেমেন্টের মাধ্যমে পরিশোধযোগ্য—যেমন বিকাশ, কার্ড বা ইন্টারনেট ব্যাংকিং।
আবেদন ফর্মে যেসব ঘর লাল তারকা দিয়ে চিহ্নিত থাকবে, সেগুলো পূরণ বাধ্যতামূলক। আপনি চাইলে একবারে সব পূরণ না করে ড্রাফট করে রেখে পরে আবার লগইন করে সম্পন্ন করতে পারবেন। প্লাস (+) চিহ্নে ক্লিক করে একাধিক ফাইল সংযুক্ত করার সুবিধাও রয়েছে।
নথিপত্রের স্ক্যান কপি অ্যাকাউন্টে একবার আপলোড করলেই ভবিষ্যতের যেকোনো আবেদনেও তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে যুক্ত হবে।
আবেদন সম্পন্ন হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে একটি ট্র্যাকিং নম্বর পাবেন। এই নম্বর দিয়ে “সেবা ব্যবস্থাপনা” অপশন থেকে আপনার আবেদন এখন কোন অবস্থায় আছে তা জানতে পারবেন। কাজ সম্পূর্ণ হলে ড্যাশবোর্ডেই পাওয়া যাবে সত্যায়িত নথি, যা আপনি এক ক্লিকে ডাউনলোড করতে পারবেন।
এই ডিজিটাল সার্টিফিকেট সত্যায়ন পদ্ধতি কেবল সময় ও খরচই বাঁচায় না, হয়রানিও অনেকাংশে দূর করে। প্রতিটি ব্যবহারকারীর জন্য মাইগভ-এ পৃথক প্রোফাইল তৈরি হওয়ায় তথ্যগুলো বারবার আপলোড করার প্রয়োজন নেই। সবচেয়ে বড় বিষয়, সবকিছু এখন আপনার হাতের মুঠোয়!
তথ্যসূত্র: ইউএনবি