বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:২৭ অপরাহ্ন
শিক্ষক সংকট, সেশনজট, রাজনীতি—ববি কি ঘুরে দাঁড়াবে এবার?
ববি প্রতিনিধি, তাহসিন সারা
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) সংকট দীর্ঘদিন ধরে চলমান, যার মূলে রয়েছে অবকাঠামোগত দুর্বলতা, শিক্ষক সংকট, প্রশাসনিক অস্থিরতা এবং অভ্যন্তরীণ রাজনীতি। যদিও সাম্প্রতিক কিছু পরিবর্তন ও উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে, তবে সংকট কাটিয়ে ওঠার জন্য প্রয়োজন সমন্বিত ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা।
চলমান সংকটের চিত্র:
অবকাঠামোগত দুর্বলতা: বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় ১১ হাজার শিক্ষার্থীর জন্য রয়েছে মাত্র দুটি একাডেমিক ভবন এবং ৩৬টি শ্রেণিকক্ষ, যা ২৫টি বিভাগের জন্য পর্যাপ্ত নয়। ফলে সেশনজট একটি স্থায়ী সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আবাসন সংকটও প্রকট; মাত্র ২৩% শিক্ষার্থী হল সুবিধা পাচ্ছেন, বাকিদের উচ্চ ভাড়ায় মেসে থাকতে হচ্ছে ।
শিক্ষক সংকট: বর্তমানে ১৬৭ জন শিক্ষক দিয়ে প্রায় ১৫০টি ব্যাচের শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। অনেক শিক্ষক শিক্ষা ছুটিতে থাকায় পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে ।
প্রশাসনিক অস্থিরতা: বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৪ বছরের ইতিহাসে ছয়জন উপাচার্য দায়িত্ব পালন করেছেন, যার মধ্যে তিনজন শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। সর্বশেষ, উপাচার্য অধ্যাপক ড. শুচিতা শরমিন, প্রো-ভিসি এবং কোষাধ্যক্ষকে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে ।
অভ্যন্তরীণ রাজনীতি: শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের মধ্যে অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও রাজনৈতিক প্রভাব বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশকে অস্থির করে তুলেছে। শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেছেন, শিক্ষকরা নিজেদের স্বার্থে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে উসকে দেন ।
সাম্প্রতিক সময়ে অন্তর্বর্তীকালীন উপাচার্য হিসেবে অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলম দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। তিনি শিক্ষার্থীবান্ধব মনোভাব নিয়ে সংকট সমাধানে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ।
সংকট কাটিয়ে ওঠার জন্য প্রয়োজন:
অবকাঠামোগত উন্নয়ন: নতুন একাডেমিক ভবন, শ্রেণিকক্ষ, গবেষণাগার এবং আবাসন সুবিধা নির্মাণে দ্রুত পদক্ষেপ।
শিক্ষক নিয়োগ: পর্যাপ্ত সংখ্যক যোগ্য শিক্ষক নিয়োগের মাধ্যমে পাঠদান কার্যক্রমের মানোন্নয়ন।
প্রশাসনিক স্বচ্ছতা: অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও কোন্দল থেকে মুক্ত একটি স্বচ্ছ প্রশাসনিক কাঠামো গঠন।
শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ: শিক্ষার্থীদের মতামত ও অংশগ্রহণের মাধ্যমে সমস্যা চিহ্নিতকরণ ও সমাধান প্রক্রিয়া।
সরকারি সহায়তা: শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (UGC) সক্রিয় ভূমিকা ও পর্যাপ্ত বাজেট বরাদ্দ।
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সংকট কাটিয়ে ওঠা সম্ভব, তবে এর জন্য প্রয়োজন প্রশাসনিক সদিচ্ছা, সমন্বিত পরিকল্পনা এবং সকল পক্ষের আন্তরিক সহযোগিতা। নতুন নেতৃত্বের অধীনে যদি উপরের পদক্ষেপগুলো কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা যায়, তবে বিশ্ববিদ্যালয়টি তার কাঙ্ক্ষিত উন্নয়নের পথে এগিয়ে যেতে সক্ষম হবে।