বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:২৭ পূর্বাহ্ন
কাশ্মীর সমস্যাই দক্ষিণ এশিয়ার অশান্তির মূল ঘাঁটি!
অনলাইন ডেস্ক
কাশ্মীর সংকটই ভারত-পাকিস্তান দ্বন্দ্বের মূল ছুরিকাঘাত বলে মন্তব্য করেছেন পাকিস্তানের সাবেক পররাষ্ট্র সচিব আয়াজ আহমদ চৌধুরী। তাঁর মতে, কাশ্মীরিদের ভবিষ্যৎ নিয়ে তাদের মতামতকে বুড়ো আঙুল দেখানো শুধু অমানবিকই নয়, বরং তা আঞ্চলিক অস্থিরতার প্রধান কারণ।
গণমাধ্যমকে দেওয়া এক বিস্ফোরক সাক্ষাৎকারে আয়াজ বলেন, জম্মু ও কাশ্মীরের ৯৩ শতাংশ মানুষ মুসলিম, তবুও ১৯৪৭ সালে “চক্রান্তের খেলায়” অঞ্চলটি পাকিস্তানের হাতছাড়া হয়। তাঁর দাবি, চলমান উত্তেজনা আবারও দেখিয়ে দিয়েছে—কাশ্মীর সমস্যা সমাধান না হলে উপমহাদেশে শান্তি কেবল অলীক কল্পনা।
তিনি বলেন, “কাশ্মীরিরা ভারতের সঙ্গে থাকতে চায় না, আর ভারতীয় দমননীতি সেই ক্ষোভকে বারুদে পরিণত করছে।”
আয়াজ আরও দাবি করেন, পাকিস্তানের ‘সুশৃঙ্খল প্রতিক্রিয়ায়’ ভারতের ‘উত্তেজিত প্রতিক্রিয়া’ দেখিয়ে দেয়, ন্যায়বিচার এখনো ভয় জাগায়। তাঁর মতে, “ভারতের উচিত বাস্তবতা স্বীকার করে দ্রুত আলোচনায় বসা—তা না হলে লাভ কারোই হবে না।”
২০১৯ সালে ভারত সংবিধানের ৩৭০ ধারা বাতিল করার পর কাশ্মীরের স্বায়ত্তশাসন ছিন্ন হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর ভাষ্য, ওই সময় ব্যাপক গ্রেপ্তার, মাসের পর মাস ইন্টারনেট বন্ধ রাখা, এবং চূড়ান্ত সামরিকীকরণ অঞ্চলটিকে বন্দিশালায় রূপান্তর করেছে।
বাকস্বাধীনতা, মতপ্রকাশের অধিকার, এমনকি রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ—সবই কাশ্মীরে রুদ্ধ হয়ে পড়েছে বলে দাবি করেন মানবাধিকার কর্মীরা।
সর্বশেষ ২২ এপ্রিল পেহেলগামে ভয়াবহ হামলায় ২৬ জন নিহত হন, যাদের অধিকাংশই পর্যটক। ভারত এই হামলার দায় পাকিস্তানভিত্তিক লস্কর-ই-তইয়্যেবার ওপর চাপায়।
এর জেরে ৭ মে ভারত ‘অপারেশন সিন্ধুর’ নামে পাকিস্তান-শাসিত কাশ্মীর ও পাঞ্জাবে ১৪টি স্থানে বোমা বর্ষণ করে। পাল্টা জবাবে পাকিস্তানও ভারতের সেনাঘাঁটিতে হামলা চালায়, ফলে পরিস্থিতি যুদ্ধের দোরগোড়ায় পৌঁছায়।
চীন, যুক্তরাষ্ট্র, সৌদি আরব ও কাতারের হস্তক্ষেপে ১০ মে দুই দেশ যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়। তবে বিশ্লেষকদের আশঙ্কা—কাশ্মীর সংকটকে পাশ কাটালে এই শান্তির মেয়াদ হবে অতি ক্ষণস্থায়ী।