বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:৩০ পূর্বাহ্ন
পাকিস্তান আকাশে ধ্বংস করলো ভারতের ৩০ কামিকাজে ড্রোন!
অনলাইন ডেস্ক
অভূতপূর্ব কায়দায় ভারতীয় হামলার নীলনকশা ভেস্তে দিয়েছে পাকিস্তান সেনাবাহিনী। বৃহস্পতিবার (৮ মে) ভারতের পাঠানো ৩০টি ইসরায়েলি-নির্মিত কামিকাজে ড্রোন গুঁড়িয়ে দিয়েছে পাকিস্তানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। শুক্রবার (৯ মে) এ ঘটনার বিস্তারিত জানিয়েছে পাকিস্তানের আইএসপিআর, যা প্রকাশ করে গণমাধ্যম দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউন।
এই টানটান উত্তেজনার মধ্যে প্রাণ হারিয়েছেন দুজন নিরীহ নাগরিক। পাশাপাশি ভারতের চালানো ড্রোন হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন পাকিস্তানের চার সেনা সদস্য। তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছে সামরিক সূত্র।
বেসামরিক ও সামরিক অবকাঠামো ধ্বংসের নেশায় ভারতের এই অকারণ আগ্রাসন চালানো হয়। আইএসপিআরের তথ্যমতে, রাওয়ালপিন্ডি, গুজরাট, অ্যাটক, গুজরানওয়ালা, লাহোর, শেখুপুরা, নানকানা, ঘোটকি ও করাচির আকাশে হানা দেয় ড্রোনগুলো, যেগুলো সঙ্গে সঙ্গেই পাকিস্তানি বাহিনীর নজরে আসে।
নিরাপত্তা সূত্র বলছে, পান্ডো সেক্টরে ভারতীয় সেনাবাহিনীর আকস্মিক গোলাবর্ষণের জবাব দিতে গিয়ে পাকিস্তান সেনারা ভয়ংকর পাল্টা আঘাত হানে। নাঙ্গা টাক-এ ভারতীয় ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তরকে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়, পাশাপাশি অন্যান্য জায়গায়ও পাল্টা গোলাবর্ষণ করে ভারতীয় ঘাঁটিগুলোকে ক্ষত-বিক্ষত করে পাকিস্তান। এতে ভারত চূড়ান্ত হতাশ হয়ে ড্রোন হামলার পথ বেছে নেয় বলে মনে করছে পাকিস্তান আইএসপিআর।
দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় হলে আকাশ জুড়ে তীব্র বিস্ফোরণের শব্দ ছড়িয়ে পড়ে। আইএসপিআরের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, পাকিস্তানে এই প্রথম ইসরায়েলি তৈরি হেরন এমকে-২ ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে, যা ৩৫,০০০ ফুট উচ্চতায় উড়তে সক্ষম। ভারত এই ড্রোনকে হ্যারোপ নামেও চেনে।
ড্রোনগুলো ইসরায়েলি কারখানায় তৈরি হলেও এর ইঞ্জিন এসেছে যুক্তরাজ্যের ইউএভি ইঞ্জিনস লিমিটেড থেকে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এসব ড্রোন ধ্বংস ভারতীয় সামরিক প্রযুক্তির ওপর পাকিস্তানের কড়া জবাব।
পাকিস্তান আইএসপিআরের ভাষ্য, এই কাপুরুষোচিত হামলা ভারতের কৌশলগত বিশৃঙ্খলা ও আতঙ্কের প্রতিফলন। এলওসি-তে ভারতের ক্ষয়ক্ষতির ছাপ স্পষ্ট। বিভিন্ন স্থান থেকে ধ্বংস হওয়া ড্রোনের টুকরো সংগ্রহ করে পরীক্ষা চালাচ্ছে পাকিস্তান সেনাবাহিনী।
আইএসপিআর আরও জানিয়েছে, পাকিস্তানের জবাব সুসংগঠিত ও কার্যকর। শত্রুর সব অপচেষ্টা ব্যর্থ করতে সফট-কিল ও হার্ড-কিল পদ্ধতির সমন্বয়ে ড্রোনগুলো ধ্বংস করা হয়েছে।
তবে লাহোরে, ওয়ালটন ওল্ড এয়ারপোর্ট ও বুরকির কাছে ড্রোনের আঘাতে চারজন সেনা আহত হয়েছেন এবং সামান্য সামরিক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে; ঘরবাড়ি ছেড়ে রাস্তায় নেমে আসেন আতঙ্কিত বাসিন্দারা।
জালো পার্কের কাছে ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ ও এলিট ফোর্স এলাকা ঘিরে রাখে। ওয়ালটন ও শেখুপুরায় ড্রোনগুলো কৃষিজমিতে পড়ায় কয়েকজন বেসামরিক নাগরিক আহত হন। গুজরানওয়ালায় সকালেই দুটো বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। সঙ্গে সঙ্গে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় হলে একটি ভারতীয় ড্রোন ধ্বংস করা হয়।
রাওয়ালপিন্ডি ও অ্যাটকে প্রাণ হারিয়েছেন দুই বেসামরিক নাগরিক, আহত হয়েছেন আরও একজন। শহুরে ও আধা-গ্রামীণ এলাকায় বিধ্বস্ত হয় ড্রোনগুলো। রাওয়ালপিন্ডিতে স্টেডিয়াম রোডের ফুড স্ট্রিটের কাছে একটি দোকানে ধ্বংসাবশেষ পড়ে কাচ ভেঙে দুজন আহত হন।
এ ঘটনার পর রাওয়ালপিন্ডি ক্রিকেট স্টেডিয়ামের সব গেট বন্ধ করে দেওয়া হয়। অবিস্ফোরিত বোমার শঙ্কায় এলাকা ঘিরে ফেলে নিরাপত্তা বাহিনী। রেস কোর্স গ্রাউন্ডের কাছে আরেকটি ড্রোন আছড়ে পড়ে একটি আবাসিক ভবনের ওপর।
গুজরাটের পীরচাঁদ গ্রাম এবং ঘোটকির সরফরাজ লঘারি গ্রামেও ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ মেলে। ফয়সাল মসজিদের কাছে হামলার গুজব ছড়িয়ে পড়ে, যা ইসলামাবাদের ডেপুটি কমিশনার ইরফান নওয়াজ মেমন উড়িয়ে দেন। তিনি ভুয়া সাইরেন ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর বিষয়ে সতর্ক করেন।
ইসলামাবাদ, লাহোর ও করাচির প্রশাসন নাগরিকদের যাচাইবিহীন খবর না ছড়ানোর আহ্বান জানায়। সরকারি কর্মকর্তারা বলেন, ‘শুধুমাত্র সরকার অনুমোদিত চ্যানেলের খবরের ওপর ভরসা করুন।’
এই টানাপোড়েনের মধ্যে প্রতিরক্ষা মন্ত্রী খাজা আসিফ রয়টার্সকে বলেন, পাকিস্তানের প্রতিশোধের প্রস্তুতি চলছে। “আমি এখনই বলব না যে সেটি শতভাগ সম্পূর্ণ। তবে পরিস্থিতি স্পষ্টতই কঠিন হয়ে উঠেছে, আর জবাব দেওয়াটা প্রায় অনিবার্য।”