বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:৩০ পূর্বাহ্ন
কাশ্মীর ইস্যুতে আগুনে ঘি ঢাললেন পাক সেনাপ্রধান!
অনলাইন ডেস্ক
কাশ্মীর ইস্যুতে এবার রীতিমতো বজ্রগর্জন করলেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল সৈয়দ আসিম মুনির। দেশটির শীর্ষ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উপাচার্য, অধ্যক্ষ ও জ্যেষ্ঠ শিক্ষকদের সঙ্গে মতবিনিময়ে তিনি বলেন, “কাশ্মীর আমাদের আত্মার অংশ—এ নিয়ে আপসের প্রশ্নই আসে না। ভারত যেন স্পষ্ট বুঝে নেয়—কাশ্মীরকে ভুলে যাওয়ার প্রশ্নই নেই, ছেড়ে দেওয়ার তো নয়ই।” খবর দ্য ইন্টারন্যাশনাল নিউজ।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, কাশ্মীর এখন আর সীমিত ভূখণ্ডগত ইস্যু নয়—এটি আজ আন্তর্জাতিক অঙ্গনের আলোচিত ইস্যু। ভারতের ইচ্ছায় এই বিষয় চাপা থাকবে—এমন ভাবনা অবাস্তব।
কাশ্মীর প্রসঙ্গে কড়া অবস্থান জানিয়ে তিনি বলেন, পাকিস্তান ভারতের আধিপত্যবাদী মানসিকতাকে কখনোই গ্রহণ করবে না। বিশেষ করে পানি ইস্যুকে ‘রেড লাইন’ হিসেবে উল্লেখ করে জানান, ২৪ কোটির বেশি মানুষের পানির অধিকার নিয়ে আপস সম্ভব নয়—এটা আমাদের অস্তিত্বের প্রশ্ন।
শিক্ষকদের উদ্দেশে সেনাপ্রধান বলেন, “আপনারাই জাতির ভবিষ্যৎ গড়ার কারিগর। আমি আজ যে জায়গায় দাঁড়িয়ে কথা বলছি, তা আমার বাবা-মা ও শিক্ষকদের নিঃস্বার্থ অবদানের ফল।” তিনি অনুরোধ করেন, পাকিস্তানের ইতিহাস ও আত্মত্যাগের অনন্য গল্প যেন নতুন প্রজন্মের হৃদয়ে প্রোথিত হয়।
ভারতের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে তিনি বলেন, “আসলে ভারতের অভ্যন্তরীণ মুসলিম ও সংখ্যালঘু নিপীড়নই তাদের আসল সংকট। কাশ্মীর নয়, বরং অভ্যন্তরীণ বৈষম্যই ওদের সন্ত্রাসবাদের জন্মদাতা।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, ভারত বেলুচিস্তানের বিচ্ছিন্নতাবাদীদের উসকে দিচ্ছে, অথচ প্রকৃত বেলুচ জনতার সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই।
সম্প্রতি ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের টানাপোড়েনের প্রেক্ষাপটে তিনি বলেন, “মারকা-ই-হক”-এ আমরা আল্লাহর সহায়তায় অটল থেকেছি। যদি কোনো জাতি ঐক্যবদ্ধ হয়, তবে তাকে কেউ হারাতে পারে না—এই সত্য আমরা বিশ্বাস করি।
এদিনই আন্তর্জাতিক মঞ্চে কাশ্মীর নিয়ে আরও একটি কূটনৈতিক বার্তা দেয় পাকিস্তান। তাজিকিস্তানের দুশানবেতে এক সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ কাশ্মীর নিয়ে ভারতের পদক্ষেপকে ‘আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন ও কার্যত যুদ্ধ ঘোষণা’ বলে উল্লেখ করেন। তিনি জাতিসংঘের প্রস্তাব অনুযায়ী শান্তিপূর্ণ সমাধানের আহ্বান জানান।
তাজিক প্রেসিডেন্ট ইমোমালি রাহমন প্রধানমন্ত্রী শাহবাজের নেতৃত্বের প্রশংসা করে বলেন, “৭ মে’র ঘটনার পর তিনি দক্ষিণ এশিয়ায় স্থিতিশীলতা ও শান্তির জন্য পাকিস্তানের অবিচল অবস্থান দেখেছেন এবং ভবিষ্যতেও শান্তির স্বার্থে একসঙ্গে কাজ করবেন।