বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:৩০ পূর্বাহ্ন
মন্ত্রীর বাড়িতে আগুন, উত্তাল জনতা গুলি ও লাঠিতে!
অনলাইন ডেস্ক
পাকিস্তানের সিন্ধু প্রদেশে পুলিশের সঙ্গে তুমুল সংঘর্ষে জড়িয়েছে বিক্ষোভকারীরা। উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই ক্ষুব্ধ জনতা আগুন ধরিয়ে দেয় প্রদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জিয়াউল হাসান লাঞ্জারের বাসভবনে।
মঙ্গলবার (২০ মে) পাকিস্তানের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউনের এক প্রতিবেদনে এসব চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, সিন্ধুর নওশেরো ফিরোজ জেলার মোরো তালুকায় জাতীয় মহাসড়কে মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়ায় পুলিশ ও এক জাতীয়তাবাদী সংগঠনের কর্মীরা। মঙ্গলবার ওই সংগঠনের ডাকে সিন্ধু খাল, করপোরেট কৃষি এবং নানা বঞ্চনার ইস্যুতে আন্দোলনে নামে তারা। সড়ক অবরোধের চেষ্টা চালাতেই শুরু হয় রণক্ষেত্রমুখী সংঘর্ষ।
গণমাধ্যম জানায়, বিক্ষুব্ধ জনতা লাঞ্জারের মোরো শহরের বাসভবনে আগুন ধরিয়ে দেয়। সংঘর্ষে প্রাণ হারান এক ব্যক্তি, আহত হন অন্তত ১১ জন, যাদের মধ্যে তিনজন পুলিশ সদস্যও রয়েছেন। বিক্ষোভকারীরা ভাঙচুর চালিয়ে ঘরের আসবাবপত্র থেকে শুরু করে ছাদের স্প্লিট এসির বাইরের ইউনিট পর্যন্ত নিচে ফেলে দেয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে ছুটে আসে মন্ত্রীর ব্যক্তিগত নিরাপত্তা বাহিনী।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, সশস্ত্র রক্ষীরা বিক্ষোভকারীদের তাড়াতে আকাশে গুলি ছুড়ছে। লাঞ্জারের বাড়ি থেকে ছড়িয়ে পড়া ঘন কালো ধোঁয়া কয়েক কিলোমিটার দূর থেকেও দেখা গেছে।
সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ায় মোরো শহর কার্যত অচল হয়ে পড়ে। জাতীয় মহাসড়কে অন্তত তিনটি কার্গো ট্রেলারে আগুন ধরিয়ে দেয় আন্দোলনকারীরা। উত্তপ্ত পরিস্থিতি সামাল দিতে আশপাশের জেলা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ এনে মোতায়েন করে স্থানীয় প্রশাসন।
এক ভিডিওতে দেখা যায়, কিছু লোক ইউরিয়া সারবোঝাই একটি ট্রাকে উঠে বস্তা লুট করছে। কেউ ফেলে দিচ্ছে, কেউ আবার তা নিয়ে পালাচ্ছে মোটরবাইকে। আরেক ভিডিওতে মাথা ফাটা রক্তাক্ত এক পুলিশ সদস্য হাসপাতালে ঢুকতে গেলে তাকে বের করে দেওয়া হয়। একদল লাঠিধারী একটি পেট্রল পাম্পে ঢুকে নগদ অর্থ লুট করে নিয়ে যায়।
অন্য ভিডিওগুলোতে দেখা যায়, বিক্ষোভকারীরা পুলিশের ওপর লাঠি নিয়ে চড়াও হচ্ছে, গালাগাল করছে, আর পুলিশ পাল্টা গুলি ও টিয়ার গ্যাস ছুড়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলছে। রক্তমাখা পোশাক পরা এক ব্যক্তি অভিযোগ করেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ব্যক্তিগত রক্ষীরা বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে গুলি চালিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সুক্কুর ও নওয়াবশাহ থেকে আনা হয় অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী।