বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:৩০ অপরাহ্ন
বাঁচার লড়াইয়ে আবার রাজপথে এ্যাজাক্সের শ্রমিকরা!
মামুন মোল্লা, খুলনা জেলা প্রতিনিধি
আবারও রাজপথে নামছে শ্রমিকেরা—বকেয়া পাওনার দাবিতে গর্জে উঠলো এ্যাজাক্স জুট মিলের শ্রমিক-কর্মচারীরা। নগরীর মীরেরডাঙ্গা শিল্পাঞ্চলে অবস্থিত এক সময়ের সুপ্রতিষ্ঠিত এ্যাজাক্স জুট মিল আজ পড়ে রয়েছে মৃতপ্রায়, আর তার গর্ভে চেপে বসেছে শত শত শ্রমিকের অসহনীয় দুর্দশা। ১৮ মে, রোববার সকাল ১০টায় মিলের প্রধান ফটকের সামনে অনুষ্ঠিত গেটসভায় শ্রমিকরা জানিয়ে দেন—এবার আর পেছনে ফেরার পথ নেই, এবার লড়াই হবে জীবন রক্ষার, ন্যায্য পাওনার!
গেটসভায় উত্তাল কণ্ঠে শ্রমিক নেতারা বলেন, “আমরা মালিককে চিনি না, আমরা চাই আমাদের ঘামে ভেজা উপার্জন। মালিকরা কোটি টাকা পুঁজি করে ফেলেছে, আর আমরা বিনা চিকিৎসায় মরছি। নাটক অনেক হয়েছে, এবার হবে বাস্তবের আন্দোলন।” বক্তারা বলেন, ২০১৩ সালে কোনো ধরনের পাওনা পরিশোধ না করেই মিল বন্ধ করে দেওয়া হয়। তারপর কেটে গেছে এক যুগ, কিন্তু শ্রমিকদের বকেয়া আদায়ের কোনো উদ্যোগ নেয়নি মালিকপক্ষ। এখনো মিলটির প্রায় ৬০০ শ্রমিক-কর্মচারী কোটি টাকারও বেশি পাওনা নিয়ে অন্ধকারে দিন কাটাচ্ছে।
শ্রমিকদের দুর্দশার বিবরণ দিতে গিয়ে উঠে আসে হৃদয়বিদারক চিত্র—টাকার অভাবে অনেক শ্রমিক চিকিৎসা না পেয়ে মারা গেছেন, সন্তানদের পড়াশোনা বন্ধ হয়ে গেছে, বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে ঘরে নেমে এসেছে অন্ধকার। তবু কেউ কোনো দায়িত্ব নিচ্ছে না। মালিকপক্ষ নির্বিকার, প্রশাসন নিরব। অথচ এই মিলই এক সময় খুলনার শিল্প ঐতিহ্যের অন্যতম গর্ব ছিল।
শ্রমিক নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, “এখন আমাদের সামনে একটাই পথ—আন্দোলনের। আমরা গেটসভা থেকে ঘোষণা দিচ্ছি, আগামী ২০ মে সকাল ১০টায় খুলনার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে আমরণ অনশন কর্মসূচি শুরু হবে। যতক্ষণ না আমরা আমাদের ন্যায্য পাওনা বুঝে পাবো, ততক্ষণ আমরা সেখানেই থাকবো, মরার আগে মর্যাদা নিয়ে লড়বো।”
এই গেটসভায় সভাপতিত্ব করেন এ্যাজাক্স জুট মিলস শ্রমিক ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আব্দুর ওদুদ শরীফ, সঞ্চালনায় ছিলেন সাধারণ সম্পাদক মোঃ সাইফুল ইসলাম। সভায় বক্তব্য রাখেন প্রবীণ শ্রমিক নেতা তোফাজ্জল ইসলাম, আব্দুর রহমান, হুগলি বিস্কুট কোম্পানি শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি কাজী মোস্তাফিজুর রহমান, আবদুল ওহাব, বীর মুক্তিযোদ্ধা আজহার আলী, এবং শ্রমিক নেতা ওবায়দুর রহমান সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
এটি শুধু একটি গেটসভা ছিল না—এটি ছিল এক উত্তপ্ত শপথ, এক নিষ্পেষিত শ্রেণির চূড়ান্ত আহ্বান, যার কেন্দ্রে দাঁড়িয়ে আছে একটি প্রশ্ন—বাঁচতে চাইলে কি আন্দোলন করেই যেতে হবে?