বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ১০:০৫ অপরাহ্ন
গর্ভে যমজ, অফিসে অবহেলা—এটাই কি ন্যায়বিচার?
অনলাইন ডেস্ক
চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক গর্ভবতী শিক্ষিকাকে মাতৃত্বকালীন ও চিকিৎসাজনিত ছুটি নিতে গিয়ে চরম হয়রানির মুখে পড়তে হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তার দাবি, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ইচ্ছাকৃতভাবে তার ছুটি অনুমোদন করছেন না। ছুটি ও বেতন সংক্রান্ত বিষয়ে জানতে চাইলে শিক্ষিকার স্বামীকেও অসম্মানজনক আচরণের শিকার হতে হয়েছে।
ভুক্তভোগী শিক্ষিকার নাম নাজনীন নাহার, যিনি আনোয়ারা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা হিসেবে কর্মরত। ২০২৪ সালের জুনে ভারতের চেন্নাই থেকে চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরে জানতে পারেন, তিনি যমজ সন্তান গর্ভে নিয়েছেন। চিকিৎসকেরা সম্পূর্ণ গর্ভাবস্থায় বিশ্রামের পরামর্শ দেন। এরপর জুন থেকে নভেম্বর পর্যন্ত ধাপে ধাপে ছুটির আবেদন করলেও সংশ্লিষ্ট শিক্ষা অফিস ছুটি অনুমোদনে কার্যত অনীহা দেখায়। এমনকি অফিসিয়াল আদেশ না আসায় তার কয়েক মাসের বেতন ও বিলও আটকে যায়।
নাজনীন নাহার জানান, তিনি সব প্রমাণসহ যথাযথ আবেদন করলেও অফিস থেকে বলা হয়, কিছুই নাকি জমা দেননি। অথচ তার কাছে রয়েছে আবেদনপত্র, প্রেসক্রিপশন ও স্ক্যান কপি। স্বামী ছুটির খোঁজ নিতে অফিসে গেলে অফিসার সরাসরি বলেন, “বাচ্চা নিতে হবে কেন? এত ছুটি কেন লাগবে? চাকরি করবেন কি না বলেন, ডিপিওতে জানিয়ে দিচ্ছি।” পরবর্তীতে দাবি করা হয়, তার আবেদনপত্র নাকি অফিস থেকে হারিয়ে গেছে।
তার অভিযোগ, জেলা শিক্ষা অফিসের লিখিত আদেশ পাওয়ার পরও চিকিৎসাজনিত ছুটি অনুমোদন হয়নি। অনেক দেরিতে মাতৃত্বকালীন ছুটির আংশিক বেতন কার্যকর হলেও তৃতীয় মাস পর্যন্ত কোনো বিল পাননি। বাকি ছুটি ও বিল এখনও ঝুলে আছে।
২০২৪ সালের ২৫ নভেম্বর, উচ্চ রক্তচাপ ও প্রি-এক্লেমশিয়ার কারণে তিনি জরুরি সিজারিয়ান সেকশনে যমজ সন্তানের জন্ম দেন। সন্তানদের শারীরিক জটিলতার কারণে ২৮ দিন এনআইসিইউতে থাকতে হয়, তিনি নিজেও হাসপাতালে ভর্তি হন। এতকিছুর পরও ওই সময়ের জন্য কোনো ছুটি বা বিল পাননি তিনি।
নাজনীন বলেন, “সরকারি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে ছুটির বিষয়টি তুলতেই আমাকে গ্রুপ থেকে বের করে দেওয়া হয়। সন্তান জন্ম দিয়ে এত অপমান, কষ্ট, দুর্ভোগ—এসব পেতেই হলো। স্বামীকে হেয় করা হলো, আমাকে ন্যায্য অধিকার পেতে বারবার আবেদন করতে হচ্ছে। এটা খুবই অসম্মানজনক। লিখিত অভিযোগ দিয়েও উপজেলা শিক্ষা অফিসার কোনো ব্যবস্থা নেননি। আমি এখন কাজে ফিরতেও ভয় পাচ্ছি।”
এ বিষয়ে আনোয়ারা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আবদুর রহমান ভূইয়ার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। খুদে বার্তাতেও সাড়া মেলেনি।
তবে আনোয়ারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাহমিনা আক্তার গণমাধ্যমকে বলেন, “বিষয়টি আমার জানা আছে। আমি প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে জিজ্ঞেস করেছি। তিনি বলেছেন, কাগজপত্রে কিছুটা সমস্যা আছে।”